রমজানের আগে লেবু-সবজি-মুরগির দামে আগুন, চাপে ভোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪:০৬, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১৪:০৮, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রমজানের আগে লেবু-সবজি-মুরগির দামে আগুন, চাপে ভোক্তা

পবিত্র রমজান শুরু হওয়ার আগেই রাজধানী ঢাকার বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দামে ব্যাপক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বর্তমানে ভালো মানের এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১০০–১২০ টাকায়, যা প্রায় এক ডজন ফার্মের ডিমের সমান দামে পৌঁছেছে।

বুধবার মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার, আগারগাঁও তালতলা বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রমজান সামনে রেখে চাহিদা বাড়লেও পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় অধিকাংশ পণ্যের দাম বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, রোজার শুরুতে চাহিদা বাড়া ও সরবরাহ কমে যাওয়াই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ।

লেবুর দাম দ্বিগুণের বেশি

দুই সপ্তাহ আগেও মাঝারি আকারের এক হালি লেবু ২০–৪০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন ৬০ টাকার নিচে মিলছে না। বড় আকারের লেবু কিনতে লাগছে ১২০ টাকা পর্যন্ত। মৌসুম শেষ হওয়ায় সরবরাহ কমে যাওয়াই এর প্রধান কারণ বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

ইফতারি তৈরিতে ব্যবহৃত সবজির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি—

  • বেগুন: ৮০–১২০ টাকা কেজি

  • শসা: ৮০–১০০ টাকা কেজি

  • টমেটো ও গাজর: কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বৃদ্ধি

  • পেঁয়াজ: ৫৫–৬০ টাকা

  • কাঁচা মরিচ: ১৪০–১৬০ টাকা কেজি

এক বিক্রেতা বলেন, আড়তে দাম বাড়ার কারণেই খুচরা বাজারে দাম বাড়ছে।

২০০ টাকা ছাড়াল ব্রয়লার

রমজানের আগে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০০–২২০ টাকায় উঠেছে, যা দুই সপ্তাহে ৪০–৫০ টাকা বেড়েছে। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০–৩৫০ টাকায়। তবে ডিমের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল—ডজনপ্রতি ১০৫–১১০ টাকা।

খামারিরা জানান, মুরগির বাচ্চার দাম বৃদ্ধি, শীতে খামারে মৃত্যুহার বৃদ্ধি এবং রমজানে চাহিদা বাড়া—এই তিন কারণে দাম বেড়েছে।

মাছের বাজারেও চাপ

চাষের তেলাপিয়া, পাঙাশ, পাবদা, কই, শিং, রুই ও কাতলার দাম কেজিতে ২০–৫০ টাকা বেড়েছে। তেলাপিয়া ২২০–২৫০ টাকা এবং মাঝারি রুই বা কাতলা ৪০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।

ফলের বাজার চড়া

রমজান উপলক্ষে ফলের দামও বেড়েছে—

  • মাল্টা: ৩১০–৩৪০ টাকা কেজি

  • আপেল: ৩৩০–৪০০ টাকা কেজি

  • কলা: ডজনপ্রতি ৩০–৬০ টাকা বৃদ্ধি

পেঁপে, পেয়ারা ও বরই আগের তুলনায় কেজিতে ১০–৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যান্য পণ্য

ছোলা, মসুর ডাল ও চিনির দাম স্থিতিশীল থাকলেও মিনিকেট চাল কেজিতে ৩–৪ টাকা বেড়েছে। কয়েক দিন ধরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট রয়েছে বলে জানিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা।

নিম্ন আয়ের ভোক্তাদের অভিযোগ, রমজানে যেখানে বাজার স্থিতিশীল থাকার কথা, সেখানে উল্টো দাম বাড়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন