রাজশাহীতে কমেছে পাট চাষ, ন্যায্যমূল্য নিয়েও শংকায় কৃষক

রাজশাহী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩:৪২, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রাজশাহীতে কমেছে পাট চাষ, ন্যায্যমূল্য নিয়েও শংকায় কৃষক

রাজশাহীতে কমেছে পাট চাষ, ন্যায্যমূল্য নিয়েও শংকায় কৃষক

বৈরি আবহাওয়ার কারণে রাজশাহীতে কম হয়েছে পাটের চাষ। প্রতিকূল আবহাওয়ার সাথে যুদ্ধ করে যারা চাষ করেছেন ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে তারাও শংকায়। খালে-বিলে জাগ দেয়ার পানি সংকট আর উচ্চমূল্যের শ্রম মজুরি দিয়ে পাট ঘরে তুলতে হয়েছে তাদের। কিন্তু উৎপাদন খরচের তুলনায় এখন বাজার কম। 

অনেকে নোংরা পানিতে পাট জাগ দেওয়ার কারণে আঁশের রঙ খারাপ হয়ে দামে প্রভাব পড়ার শঙ্কায়ও আছেন। উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের পাটচাষি আলমগীর হোসেন জানান, দেড় বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন তিনি এবং ফলনও ভালো হয়েছে। তবে দাম নিয়ে শংকা প্রকাশ করে আলমগীর বলেন, পাটের দাম দুই হাজার টাকার কম হলে লোকসান হবে। তার মতে, পাটের দাম কম পাওয়া, বিক্রির সমস্যা এবং ভালো বীজের অভাব পাট চাষে সমস্যা।

জেলার পবা উপজেলার ভুগরইল গ্রামের পাটচাষি মুসা ইসলাম জানান, তিনি এবার তিন বিঘা জামিতে পাট চাষ করেছেন। আশা করছেন প্রতি বিঘায় ১০ মণ পাট হবে। তবে বর্তমান সময়ে পাট চাষে লাভ হবে কি না তা নিয়ে শঙ্কিত তিনি। মুসা বলেন, এক বিঘা পাট কাটা ও পানিতে জাগ দেওয়ার খরচ হচ্ছে প্রায় তিন হাজার টাকা। এছাড়া পাট জাগ দেওয়ার পরে পানি থেকে তুলে আঁশ ছাড়ানো হয়। এই কাজের জন্য একজন শ্রমিককে ৪০০ টাকাসহ তিন বেলা খেতে দিতে হয়। এতে একজন শ্রমিকের পেছনে প্রায় ৫০০ টাকা খরচ পড়ে যায়।

বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের মোজাফফর হোসেন বলেন, গতবার উঠতি বাজারে মণ প্রতি ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এতে কৃষককে বিঘা প্রতি প্রায় ১ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে। এবারও আশঙ্কায় আছি।

এমনিতেই রাজশাহীতে পানির অভাব আর ভালো দাম না পাওয়ার কারণে পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষিরা। তাই কমছে পাটের চাষ। এ জন্য গত বছরের তুলনায় ৮৭৫ হেক্টর কমিয়ে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। এবার পাটে লাভ না হলে আগামীতে চাষাবাদ আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে রাজশাহীতে পাট চাষ হয়েছিল ১৩ হাজার ৬২২ হেক্টর জমিতে। ২০১৭ সালে চাষ হয়েছিল ১৩ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে। আর এবার পাট চাষ হয়েছে ১২ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে, যা গত বছরের তুলনায় ৮৭৫ হেক্টর কম।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, পাটের ভালো ফলন হলেও গেল বছর খরা ও অনুকুল আবহাওয়া না থাকায় পাটের দাম পাননি চাষিরা। এবারও রাজশাহীতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে কৃষক পাট চাষে আগ্রহী হচ্ছেন না। তাই বছরের পর বছর পাট চাষ কমছে এই জেলায়। এছাড়া পানির অভাবে কৃষকদের বেশি সমস্যা হচ্ছে পাট জাগ দিতে। খাল-বিলে পানি না থাকায় ডোবায় জাগ দিতে হচ্ছে পাট। এতে পাটের রঙ নষ্ট হচ্ছে। ফলে কৃষক ভালো দাম পাচ্ছেন না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দেব দুলাল ঢালী বলেন, রাজশাহীতে এ বছর ৯০ শতাংশ জমিতে ভারতীয় ‘জিআরও-৫২৪’ জাতের পাট চাষ হয়েছে। গত বছরের চেয়ে পাট চাষ কম হলেও ফল ভালো হয়েছে। এখন পাট দিয়ে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করা হচ্ছে। এতে পাটের চাহিদা বাড়ছে। আর চাহিদা বাড়লে পাটের দামও বাড়বে।