মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ৫ ১৪২৭ ||  ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ACI Agri Business

২০৪১ সালের মধ্যে তুলার উৎপাদন বাড়বে ১০ গুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২:৩২, ৯ অক্টোবর ২০২০

২০৪১ সালের মধ্যে দেশে ২০ লাখ বেল তুলা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়াধীন তুলা উন্নয়ন বোর্ড (সিডিবি)। 

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে বিশ্ব তুলা দিবস ২০২০ উপলক্ষ্যে সিডিবি আয়োজিত আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে তুলা উৎপাদনের এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

মাত্র ২ লাখ হেক্টর জমিতে তুলা চাষ করে এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব, সেজন্য হেক্টর প্রতি গড় উৎপাদন ১০ বেলে উন্নীত করতে হবে বলে জানান সিডিবির নির্বাহী পরিচালক মো: ফরিদ উদ্দিন।

আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, তুলা উৎপাদনের উপর সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকার সবদিক দিয়ে তুলা উন্নয়ন বোর্ডকে শক্তিশালী করছে বলে জানান তিনি। 

সম্প্রতি তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। ভৌত অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি, ল্যাবরেটির স্থাপন ও দক্ষ মেধাবী জনবল নিয়োগ করা হয়েছে। বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপযোগী নতুন জাত উদ্ভাবন করে তুলা উৎপাদন ত্বরান্বিত ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করার আশা করেন মন্ত্রী।

বাংলাদেশে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪৪ হাজার হেক্টর জমিতে তুলা চাষ হয়েছে ও উৎপাদন ছিল ১.৭১ লাখ বেল। সম্প্রতি তুলা উন্নয়ন বোর্ডের হাইব্রিড উন্নত জাতের তুলা উদ্ভাবন ও চাষের ফলে দেশে তুলা উৎপাদন বাড়ছে।

বাংলাদেশে গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে হেক্টর প্রতি গড় উৎপাদন ছিল ৬.১৫ বেল, যেখানে বিশ্বের শীর্ষ তুলা উৎপাদনকারী দেশসমূহে হেক্টর প্রতি গড় উৎপাদন ১০ বেলের উপরে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ তুলা আমদানি করতে হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে আমদানি করতে হয়েছে ৭১ লাখ বেল তুলা যার পিছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। 

১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর তুলা উন্নয়ন বোর্ড গঠিত হয়। এটি দেশে তুলা গবেষণা, তুলা চাষ সম্প্রসারণ, বীজ উৎপাদন ও বিতরণ প্রভৃতি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। খাদ্য উৎপাদনে কোন বিঘ্ন না ঘটিয়ে তুলা চাষ সম্প্রসারণের জন্য তুলা উন্নয়ন বোর্ড অপ্রচলিত অঞ্চল যেমন: তামাক ও কৃষি বনায়ন জমিতে, লবণাক্ত, চর ও পাহাড়ি এলাকায় তুলা চাষ সম্প্রসারণ করছে।

তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো: ফরিদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে ইন্টারন্যাশনাল কটন অ্যাডভাইজারি কমিটির নির্বাহী পরিচালক কাই হিউজেস, খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি. সিম্পসন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান এস এম বখতিয়ার, মিশরের কটন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক আল সাইদ নেগম বক্তব্য রাখেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্টারন্যাশনাল কটন অ্যাডভাইজারি কমিটির টেকনিক্যাল ইনফরমেশনের হেড কেশব ক্রান্তি ও সিডিবির নির্বাহী পরিচালক মো: ফরিদ উদ্দিন।

Advertisement
Advertisement