শুক্রবার   ০৭ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২২ ১৪২৭ ||  ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

ACI Agri Business

অনলাইনে কোরবানির পশুর দাম হাটের চেয়ে কম- ই-ক্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:৩১, ২৯ জুলাই ২০২০

সাধারণ পশুর হাট থেকে অনলাইনে তুলনামূলক কমদামে এবার বিক্রি হচ্ছে কোরবানির পশু। ডিএনসিসির ডিজিটাল হাটসহ প্রায় অর্ধশতাধিক অনলাইন সাইট থেকে বিক্রি হচ্ছে কোরবানির গরু। 

অনলাইনে পশু বিক্রি আগে শুরু হলেও ক্রেতাদের অনলাইন হাট থেকে পশু কেনার আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বিশেষ করে রাজধানীর গরুহাটগুলো চালু হওয়ার পর। যখন ক্রেতারা হাটে গিয়ে এবং অনলাইন ভিজিট করে গরুর দামের পার্থক্য দেখছে তখন প্রচুর ক্রেতা সমাগম ও বিক্র্রি বেড়ে গেছে অনলাইনে। অনেকের ধারণা ছিল ঢাকার গরুর হাটগুলো শুরু হলে অনলাইনে বেচাকেনা কমে যাবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে সাধারণ হাটের চেয়ে ই-কমার্স শপগুলোতে দাম কম বিধায় হাট চালু হওয়ার পর ই-কমার্স শপগুলোর বেচাকেনা দ্বিগুন হয়ে গেছে।

ই-ক্যাবের সেক্রেটারী জেনারেল জনাব মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, ‘আমরা আসলে ক্রেতাদের সামর্থের কথা বিবেচনা করে গরু সংগ্রহে জোর দিয়েছি। আমাদের যারা খামারী ও উদ্যোক্তা রয়েছেন তাদেরকে আমরা একটা মূল্যসীমা নির্ধারণ করে দিয়েছি। ফলে দাম বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। আমাদের এই মূল্যসীমা সারাদেশে পশুর বাজারের উপর প্রভাব ফেলেছে। এটা একটা ইতিবাচক দিক। এই মূল্যসীমার কারণে এবারে গরুর দাম বাড়াতে পারবেনা অন্যরা।’ 

বাংলাদেশ ডেইরী ফার্ম এসোসিয়েশন এর সেক্রেটারী জেনারেল, মোহাম্মদ শাহ ইমরান বলেন, 'আমাদের বেশীরভাগ গরুই ডিজিটাল স্কেলে ওজন মাপা। যেসব গরু বাইরে থেকে আসবে তাদের গরুগুলো ঈদের আগের দিন ওজন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। সূতরাং এখানে কোনো প্রতারণার সুযোগ নেই। ডিএনসিসির ডিজিটাল হাট ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ের জন্য একটা আস্থার জায়গা তৈরী করেছে।’
 
ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস দারাজ এর হেড অব ইকুইজিশন সাইমুন সানজিদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের বেশকিছু মার্চেন্ট থেকে বাছাই করে আমরা শুধু ন্যায্যমূল্যে যারা গরু দিতে পারবে তাদের কাছ থেকে গরু নিচ্ছি। ফলে আমরা গরুর দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রাখতে পেরেছি।’ 

গ্রামীণফ্রেন্ডস এর সিইও জুনায়েদ আহমেদ বলেন, ‘আমরা লাইভ ওয়েটের উপর ২৯০ টাকা ৩৩০ টাকার মধ্যে আমাদের গরুগুলো রয়েছে। এরমধ্যে কোনো হাসিল নেই। এমনকি আমরা হোম ডেলিভারীর দায়িত্ব নিয়েছি। ডিজিটাল হাটের ইনভয়েসে গরুর ছবি দেয়া রয়েছে। ক্রেতারা গরু ডেলিভারী নেয়ার সময় অবশ্যই সব তথ্য মিলিয়ে নিতে পারবেন। অনলাইন হাট হলেও ক্রেতাদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সবকিছু ঠিক করা হয়েছে। ক্রেতারা একবার এখান থেকে গরু কিনলে বার বার কিনবেন।’ 

বিডিসেল এর নির্বাহী জনাব শহীদুজ্জামান বলেন, `আমরা অনলাইনে দেয়ার জন্য কিছু পশু ছবি তুলতে হাঁটে গিয়েছিলাম। রাজধানীর কয়েকটা হাঁট দেখে আমরা অনলাইনে আপলোড করার জন্য গরু পাইনি। কারণ সেগুলোর দাম অনলাইনের গরুর তুলনায় অনেক বেশী’ 

গরুহাট ডট কম এর প্রধান নির্বাহী জনাব মোহাম্মদ শাহীন বলেন, ‘আমরা প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে গরু কিনছি। ফলে একদিকে কৃষক উপকৃত হচ্ছে অন্যদিকে ক্রেতারা সাধ্যের মধ্যে সেরা গরু পাচ্ছে। উপরন্ত অনলাইনে হাসিল না থাকার কারণে ক্রেতারা আরো বেশী উৎসাহিত হচ্ছে। করোনার ব্যাপারতো আছেই। ’ 

এ প্রসঙ্গে দেশীগরুবিডি এর প্রধান নির্বাহী জনাব টিটু রহমান বলেন, ‘প্রথাগত হাটের সাথে পার্থক্য গড়তে হলে অবশ্যই দাম এবং মান দুটোকে প্রাধান্য দিতে হবে। আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করছি। ডিজিটাল হাট যে দামসীমা নির্ধারণ করেছে আমরা তারচেয়ে কম দামে অনলাইনে গরু বিক্রি করছি। ফলে প্রতিদিন আমাদের বিক্রির হার বাড়ছে।’

অনলাইনে কোরবানির পশুর সাথে নতুন মাত্রা যোগ করেছে স্লটারিং সেবা। ডিএনসিসি ও ই-ক্যাবের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত 'ডিজিটাল হাট' এ পাওয়া যাচ্ছে এই সেবা। এর মধ্যে রয়েছে গরুর স্বাস্থ্য ও ওজন পরীক্ষা, ইসলামী বিধান অনুযায়ী গরু জবাই, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাংসকাটা, গরুর ভূড়ি পরিষ্কার, মাংস,  পায়া, কলিজা, মগজ ইত্যাদি ৪ কেজীর নিরাপদ প্যাকে করে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাসায় পৌঁছে দেয়া। এতে অন্যান্য সহযোগিতায় রয়েছে আইসিটি ডিভিশন ও বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম এসোসিয়েশন। 
 

Advertisement
Advertisement