মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ৫ ১৪২৭ ||  ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ACI Agri Business

হাওর উপযোগী ধানের জাত উদ্ভাবন করবে ব্রি এবং ইরি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩:৫৪, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

হাওরাঞ্চলের জন্য নতুন জাতের ধান উদ্ভাবনে যৌথ গবেষণা করবে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট-ব্রি এবং আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট-ইরি। 

সোমবার বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ও আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি) আয়োজিত এক ভার্চুয়াল কর্মশালায় এই ঘোষণা দেয়া হয়। কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন (কেজিএফ)-এর অর্থায়নে “ডেভেলপমেন্ট অফ শর্ট-ডিউরেশন কোল্ড-টলারেন্ট রাইস ভ্যারাইটিজ ফর হাওর এরিয়াস অফ বাংলাদেশ” শীর্ষক পাঁচ বছর মেয়াদী গবেষণা প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় এই কর্মশালায়। 

কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ইরি এবং ব্রি-এর যৌথ এই গবেষণার ফলে হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবিকার পরিবর্তন আসবে, সেই সাথে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান দুটি। 

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় সাড়ে ১২ লাখ হেক্টর জমিতে বছরে কেবলমাত্র একটিই ফসল হয়, সেটা হলো বোরো। কিন্তু পাহাড়ী ঢলের কারণে অনেক সময় সেই ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। এজন্যই স্বল্প জীবনকালীন ঠাণ্ডা সহিষ্ণু জাতের ধান উদ্ভাবনের লক্ষ্যে ব্রি দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং নেপাল থেকে ঠাণ্ডা সহিষ্ণু জাতের জার্মপ্লাজম সংগ্রহ করেছে বলে জানানো হয় কর্মশালায়।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ অঞ্চলের ধান চাষ চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন। এই অবস্থায় হাওরাঞ্চলের জন্য স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন, ঠান্ডা সহিষ্ণু ও উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান প্রয়োজন, কর্মশালায় বলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (গবেষণা) কমলারঞ্জন দাস।
 
বাংলাদেশে আবাদী জমির পরিমাণ প্রতিবছর ০.৪% হারে কমছে, কিন্তু জনসংখ্যা বাড়ছে ১.৩৭% হারে উল্লেখ করে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর মহাপরিচালক  ড. মোঃ শাহজাহান কবীর বলেন,  জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত খাদ্য নিরাপত্তাকে বার বার চ্যালেঞ্জ এর মুখে দাঁড় করাচ্ছে। 

কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, হাওরাঞ্চলের ধানচাষীরা বোরো মৌসুমে দুবার প্রতিকূল অবস্থায় পড়ে - একবার শুরুতে, একবার শেষে। আবহাওয়ার নিয়মে একটু এদিক-ওদিক হলেই ফসলের বড় ধরণের ক্ষতি হয়। নতুন এই গবেষণা প্রকল্পের লক্ষ্য হলো এই দুই প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলায় কৃষকদের জন্য কার্যকর সমাধানের উপায় বের করা। বহু বছর ধরেই শীত সহিষ্ণু জাতের ধান নিয়ে গবেষণা করে আসছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। 

ইরির মহাপরিচালক ম্যাথিউ মোরেল বলেন, বাংলাদেশের হাওরাঞ্চলের কৃষকরা যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সেসব চ্যালেঞ্জ ভবিষ্যতে আরো বড় হয়ে দেখা দেবে। সুতরাং, সেই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে নতুন নতুন ধানের জাত উদ্ভাবন করা জরুরি।

বাংলাদেশে উৎপাদিত মোট ধানের এক-পঞ্চমাংশ আসে হাওরাঞ্চল থেকে। হাওর এলাকার প্রধান ফসল বোরো ধান। কিন্তু অনেক সময় এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে পাহাড়ী ঢলে আগাম বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে ক্ষেতের আধপাঁকা ধান প্রায় পুরোটাই তলিয়ে যায়। বোরো মৌসুম শুরু হয় মধ্য নভম্বরে। তবে অনেক কৃষক বন্যা থেকে রক্ষা পেতে অক্টোবরের শেষেই বীজ বপন শুরু করেন। কিন্তু জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির শীতে ধানের প্রজনন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চিটার পরিমাণ বেড়ে যায় বলে জানান গবেষকরা। বলেন, এই এলাকার কৃষকদের প্রয়োজন স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন (১২০-১৪০ দিন), শীত সহিষ্ণু ও উচ্চ ফলনশীল ধান যার ফসল আগাম বন্যা আসার আগেই ঘরে তোলা যায়। 

অনলাইন কর্মশালায় আরো উপস্থিত ছিলেন ইরির প্ল্যান্ট ব্রিডিং ডিভিশন-এর প্রধান ড. হানসরাজ ভারদওয়াজ, দক্ষিণ এশিয়া প্রতিনিধি ড. নাফিস মিয়া এবং বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. হোমনাথ ভান্ডারি।

Advertisement
Advertisement