বৃহস্পতিবার   ২৪ অক্টোবর ২০১৯ ||  কার্তিক ৮ ১৪২৬ ||  ২৪ সফর ১৪৪১

সতেজ থাকতে খেতে পারেন তরমুজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৪:৫৮, ২০ এপ্রিল ২০১৯


গোলাকৃতির, লম্বাকৃতির সবুজ বা কালচে রংয়ের তবে ভেতরে লাল তা একটু কম বা বেশি এমন বর্ণণা শুনলে যে নামটি মাথায় আসে তা হচ্ছে তরমুজ। গ্রীষ্মকালে যা দেশের হাটে-মাঠে চোখে পড়বে আপনার। অত্যন্ত রসালো এ ফলটি গরমে শুধু আপনার তৃষ্ণা মেটাবে না, আপনার শরীরকে সুস্থ রাখার বটিকা হিসেবেও কাজ করবে এই তরমুজ। ভেতরের শাস এবং বিচি দুটোই খাওয়া যায় এবং দুটোতেই রয়েছে অনেক উপকারিতা।  

খাওয়ার আগে জেনে নিন তরমুজের পুষ্টিগুণ

প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা তরমুজ থেকে আপনি ক্যালরি পাবেন প্রায় ১৫ মি. গ্রাম। মূলত তরমুজের  ৯২ থেকে ৯৫ গ্রামই হচ্ছে পানি। ১০০ গ্রাম তরমুজ থেকে আপনি আঁশ পাবেন মাত্র ০.২ গ্রাম, আমিষ ০.৫ গ্রাম, চর্বি ০.২ গ্রাম, ক্যালোরি ১৫ থেকে ১৬ মি.গ্রাম। এছাড়াও তরমুজে ক্যালসিয়াম রয়েছে ১০ মি.গ্রাম, আয়রন ৭.৯ মি.গ্রাম, কার্বেোহাইড্রেট বা শর্করা ৩.৫ গ্রাম, খনিজ পদার্থ ০.২ গ্রাম, ফসফরাস ১২ মিলিগ্রাম, নিয়াসিন ০.২ মিলিগ্রাম ছাড়াও রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি ও ভিটামিন বি২।

তরমুজের উপকারিতাঃ

১. তরমুজে প্রচুর পরিমাণ পানি আছে। গরমের সময় যখন ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি বের হয়ে যায় তখন তরমুজ খেলে শরীরের পানিশূন্যতা দূর হয়। ফলে শরীর থাকে সুস্থ ও সতেজ।

২. তরমুজে আছে ক্যারোটিনয়েড। আর তাই নিয়মিত তরমুজ খেলে চোখ ভালো থাকে এবং চোখের নানান সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ক্যারোটিনয়েড রাতকানা প্রতিরোধেও কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

৩. তরমুজে প্রচুর পরিমাণে সিট্রোলিন নামের অ্যামাইনো এসিড থাকে যা যৌনশক্তি বাড়ায়। এছাড়া এটি রক্তও তৈরি করে। টেক্সা এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটির গবষেণায় প্রমাণিত যে, যারা শারীরিক শক্তির দিক থেকে দুর্বল তাদের জন্য তরমুজ প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে কাজ করে। এই ফল শারীরিক শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

৪. তরমুজের রস কিডনির বর্জ্য মুক্ত করে। তাই কিডনিতে পাথর হলে, চিকিৎসকগণ ডাবের পানির পাশাপাশি তরমুজ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

৫. তরমুজে থাকা ভিটামিন সি ত্বককে সজীব রাখে। পাশাপাশি ত্বকের যে কোন সংক্রমণে প্রতিরোধি ব্যবস্থায় সহায়তা করে। লাইকোপিনসহ বিভিন্ন উপাদানে সমৃদ্ধ তরমুজ খাওয়ার অভ্যাসে বাধ্যক্য দেরীতে আসে। ত্বকে সহজে ভাঁজ বা বলিরেখা পড়ে না।
ত্বকে কালো ছোপ বা মেছতা যাদের আছে, তারা একবাটি তরমুজ প্রতিদিন খেতে পারেন। এতে উপকার পাবেন।

৬. তরমুজে থাকা ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

৭. সাধারণ মানুষ নিয়মিত তরমুজ খেয়ে অ্যাজমা বা হাঁপানি প্রতিরোধ করতে পারেন। তরমুজে প্রচুর ভিটামিন-সি থাকে। যারা ইতোমধ্যে অ্যাজমায় আক্রান্ত হয়েছেন, তারাও তরমুজ খেয়ে উপকার পেতে পারেন। তরমুজে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে। এছাড়া নিয়মিত তরমুজ খেলে প্রোস্টেট ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার ও ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায়।

তরমুজের বীজের গুণাগুন

সারাদিনে যে পরিমাণ প্রোটিন প্রয়োজন, তার ৬০ শতাংশ পাওয়া যায় এককাপ তরমুজের বীজে। 
তরমুজের বীজে রয়েছে প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথের রিপোর্ট বলছে, ম্যাগনেসিয়াম ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখে।
তরমুজের বীজে প্রোটিন তো বটেই, তরমুজের বীজে রয়েছে প্রচুর আয়রন। 
চুলের শক্তি বাড়ায়। চুল পড়া কমায়। চুল পাতলা হয় না, শুকনো হয় না। একটি পাত্রে একমুঠো তরমুজের বীজ নিয়ে ৭৫০ মিলিগ্রাম পানি দিয়ে অল্প আঁচে ৪৫ মিনিট ফুটিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। ঠান্ডা হলে সেই জল খাওয়া যেতে পারে। প্রতিদিন খেলে ডায়াবেটিস কমবে। তরমুজের শুকনো বীজ চায়ের সঙ্গে মিশিয়েও খাওয়া যেতে পারে।
তরমুজের বীজে রয়েছে ভিটামিন বি। আমেরিকার ক্যানসার সোসাইটির রিপোর্ট বলছে, খাবারকে এনার্জিতে পরিণত করে ভিটামিন বি। নিয়াসিনের মতো ভিটামিন বি স্নায়ুতন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্রকে রক্ষণাবেক্ষণ করে।

কখন খাবেন তরমুজ: 

গরমে যখন আপনার হাসফাঁস অবস্থা তখন একটি তরমুজের চিলতে বা জুস আপনাকে এনে দেবে শারীরিক প্রশান্তি। কিন্তু অবশ্যই দিনের বেলায় খাবেন তরমুজ। কারণ তরমুজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক শর্করা যা হজম হতে অনেক সময় লাগে। যেহেতু রাতের বেলায় হজম কম হয় তাই রাতে তরমুজ না খাওয়ায় ভালো। কারণ তাতে আপনার ওজন বাড়তে পারে।

আবার হজমে সমস্যার কারণে তরমুজের মত মিষ্টি জিনিস রাতে খেলে পরের দিন পেট খারাপ হতে পারে। আর যেহেতু তরমুজে পানির পরিমাণ বেশি তাই বহুবার প্রস্রাব করতে হতে পারে। যা ব্যাঘাত ঘটাতে পারে আপনার ঘুমের।