বৃহস্পতিবার   ২৪ অক্টোবর ২০১৯ ||  কার্তিক ৮ ১৪২৬ ||  ২৪ সফর ১৪৪১

সংক্রমিত আলুর বীজে বাড়ছে না আলুর মানসম্মত উৎপাদন

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭:১৩, ২৩ অক্টোবর ২০১৮

দেশের মোট বীজ আলু চাহিদার মাত্র ৫ শতাংশ সরবরাহ করে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন-বিএডিসি এবং বীজ কোম্পানিগুলো। এর মধ্যে বিএডিসি একাই সরবরাহ করে ৪ শতাংশ। অর্থাৎ ৯৫ শতাংশ বীজই কৃষকের নিজের। আর এসব বীজের কারণে কাংখিত আলু উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০১৩-১৪ অর্থবছর থেকে বাংলাদেশে প্রতি হেক্টরে ১৯-২০ টন আলু উৎপাদন হয়। কিন্তু একই পরিমাণ জমিতে ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৪০-৪২ টন আলু উৎপাদন করে থাকে। অন্য দেশের সঙ্গে তুলনায় না গেলে অবশ্য বাংলাদেশে আলুর ফলন ক্রমেই বাড়ছে। ২০০৭-২০০৮ অর্থবছরে যেখানে আলু উৎপাদন হয়েছে ৫১ দশমিক ৬৭ লাখ টন। ১০ বছর পরে এসে এ শস্য উৎপাদন ছাড়িয়েছে ১ কোটি টন। 

বছরে দুই থেকে আড়াই হাজার টন আলু এখন রপ্তানিও করা হয়। তবে রপ্তানিকারকরা বলছেন, আলুর মান ভালো না হওয়ায় চাহিদা থাকার পরও তারা বেশি রপ্তানি করতে পারছেন না।

বিএডিসি চেয়ারম্যান ফজলে ওয়াহেদ খোন্দকার বলেন, ‘আমরা মাত্র ৪ শতাংশ কৃষকের হাতে আলু বীজ তুলে দিয়ে থাকি। বাকি ১ শতাংশ কৃষক বেসরকারি উদ্যোগে চাহিদা মেটান। আমাদের সরবরাহ করা আলু বীজে উৎপাদন ভালো। কারণ আমরা সব ধরনের প্রক্রিয়া মেনেই আলু বীজ সরবরাহ করি। কিন্তু ৯৫ শতাংশ কৃষক নিজ উদ্যোগে আলু বীজ সংগ্রহ করেন বলে এসব বীজের মান ভালো থাকে না। ফলে এসব বীজ থেকে ভালো আলুও হয় না।’

বিএডিসির সূত্র মতে, বর্তমানে সারাদেশে প্রতি হেক্টরে দেড় টন হিসেবে মোট সাড়ে ৭ লাখ টন আলু বীজের প্রয়োজন। সরকারের আওতায় রয়েছে ৩০টি আলু বীজ হিমাগার। যেগুলোর মোট ধারণ ক্ষমতা ৪৫ হাজার ৫০০ টন। আলু বীজ সংরক্ষণে তাই সরকার আরও বেশি হিমাগার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।
 
কৃষক পর্যায়ে বেশি হারে আলু বীজ সরবরাহ করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যতো আলু বীজ সরবরাহ করবো, ততো ভালো উৎপাদন হবে। এ লক্ষ্যে আমরা ছয়টি নতুন হিমাগার নির্মাণ করবো। যার ফলে বিএডিসির হিমাগারে বীজ আলুর সংরক্ষণ ক্ষমতা বাড়বে।’

বিএডিসির বিশেষজ্ঞরা জানান, আলু বীজ হলো কৃষির মৌলিক উপকরণ এবং ফসল চাষের একমাত্র জীবিত উপকরণ। অন্যান্য উপাদানের কার্যকারিতা বীজের ওপর নির্ভর করে। ভালো মানের বীজ একাই উৎপাদনের ২০ শতাংশ বাড়াতে পারে। সেজন্য বলা যায়, আলুর উৎপাদন বাড়াতে বীজের গুরুত্ব অনেক। আর তাই কৃষকের হাতে উন্নত মানের আলু বীজ পৌঁছালে এ শস্য ফলনে আরও সফলতা আসবে। 

আলুকে ধরা হয় দেশের দ্বিতীয় প্রধান খাদ্য শস্য। বছরে জনপ্রতি আলু কেনা হয় ১০৩ কেজি। বিগত ১২ বছরে আলুর উৎপাদন এবং রপ্তানি বাড়লেও এ শস্যের মান ও ফলন এখনও কাংখিত পর্যায়ে উন্নীত হয়নি। আলুর ভালো ফলন না হওয়ার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা দুষছেন সংক্রমিত বীজ ব্যবহারকে। তাদের মতে, চাষিদের ৯৫ শতাংশই ব্যবহার করেন সংক্রমিত বীজ আলু, যার ফলে এই শস্যের মান এবং ফলন আশাব্যঞ্জক হচ্ছে না।