মঙ্গলবার   ১১ মে ২০২১ ||  বৈশাখ ২৮ ১৪২৮ ||  ২৯ রমজান ১৪৪২

ACI Agri Business

শামুক-ঝিনুক রক্ষা না হলে ভারসাম্য হারাবে পরিবেশ

বাকৃবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১:৫৪, ৫ আগস্ট ২০১৮

“স্বাদুপানির শামুক-ঝিনুক সংরক্ষণ” প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বক্তব্য দিচ্ছেন ড. আনোয়ারুল ইসলাম

“স্বাদুপানির শামুক-ঝিনুক সংরক্ষণ” প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বক্তব্য দিচ্ছেন ড. আনোয়ারুল ইসলাম

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নির্বিচারে শামুক-ঝিনুক আহরণ বন্ধে সরকারকে সচেতনতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের –বিএফআরআই  আয়োজিত এক প্রশিক্ষণে এ আহ্বান জানান তারা।

গত ২ আগস্ট থেকে “স্বাদুপানির ঝিনুক ও শামুক  সংরক্ষণ”  শীর্ষক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের আয়োজন করে বিএফআরআই। ময়মনসিংহে প্রতিষ্ঠানটির মিলনায়তনে আয়োতি এ প্রশিক্ষণের সমাপনীতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলনে, একসময় পুকুর ও নদীতে প্রচুর শামুক ও ঝিনুক পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে কম জায়গায় অধিক মাছ চাষ ও অতিরিক্ত খাবার দেয়ায় পুকুরের মাটিতে অক্সিজেনের অভাব দেখা দিচ্ছে। যে কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে শামুক ঝিনুকের আশ্রয়স্থল এবং  দিন দিন কমে যাচ্ছে  শামুক ঝিনুকের পরিমাণ।

এছাড়াও হাঁস, চিংড়ি ও মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রচুর পরিমাণে শামুক- ঝিনুক আহরণ করায়  পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলেও মনে করেন ড. আনোয়ারুল ইসলাম।

প্রশিক্ষণে বিএফআরআই মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, শামুক-ঝিনুক আহরণ বন্ধ করতে জনগণকে সচেতন করা জরুরি। তা না হলে  শামুক-ঝিনুকের অভাব পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। 

ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, কর্মশালাটির মাধ্যমে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় ঝিনুক ও শামুক সংরক্ষনে নতুন দিগন্ত উম্মোচিত হবে। প্রশিক্ষণার্থীরা  শামুক ও ঝিনুক সংরক্ষণের বিষয়টি জেনে এগুলোর ব্যবহার করতে পারবে। এতে বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হবে এবং দেশ অর্থনৈতিকভাবে আরো উন্নত হবে।

তিনদিনের এই প্রশিক্ষণে বাংলাদেশে শামুক ও ঝিনুকের অর্থনৈতিক গুরুত্ব, সমস্যা ও  সম্ভাবনা নিয়ে কর্মশালায় বক্তব্য দেন ইনস্টিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকতা ড. অনুরাধা ভদ্র, বাংলাদেশের স্বাদুপানির শামুক ও ঝিনুকের পরিচিতি ও জীববৈচিত্র বিষয়ে বক্তব্য দেন ইনস্টিউটের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ড. খলিলুর রহমান। 

প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। প্রশিক্ষণে প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানসহ ইনস্টিটিউটের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement
Advertisement