শুক্রবার   ০৭ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২২ ১৪২৭ ||  ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

ACI Agri Business

লাম্পি স্কিন রোগে দিনাজপুর ও মৌলভীবাজারে ৭০ গবাদিপশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:২৪, ২৫ জুন ২০২০

করোনাভাইরাস আতংকের মধ্যেই দেশব্যাপী গবাদিপশুতে এক ভাইরাসের আক্রমণে তৈরি হয়েছে আরেক আতংক। এই ভাইরাসের মাধ্যমে দেখা দেয়া লাম্পি রোগে মারাও যাচ্ছে গবাদিপশু। দেশের অন্যান্য জায়গার মত দিনাজপুর এবং মৌলভীবাজারেও ছড়িয়ে পড়েছে এই রোগ। এখন পর্যন্ত এই রোগে গেছে ৭০টি গবাদিপশু এবং আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য মতে, দিনাজপুরের ৩টি উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার গরুর মধ্যে এই রোগ দেখা দিয়েছে এবং প্রাণহানী ঘটেছে প্রায় ৫০টির ও বেশি গরুর। অন্যদিকে, দিনাজপুরের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা কম হলেও মৌলভীবাজারে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী মৌলভীবাজারে গবাদিপশুর সংখ্যা ৪ লাখ ৮৫ হাজার। সরকারি হিসাব অনুযায়ী লাম্পি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৬ হাজার। আর গত ১৫ দিনে এই রোগে মারা গেছে ২০টি গবাদিপশু।

মৌলভীবাজার জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মাছুদার রহমান সরকার বলেন, নতুন এই রোগটি জেলার অনেক জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, আক্রান্ত গরুর প্রথমে শরিরে জ্বর আসে এবং খাবার রুচি কমে যায়। জ্বরের সাথে মুখ দিয়ে এবং নাক দিয়ে লালা বের হয়। পা ফুলে যায়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য চাকা চাকা ও গুটি দেখা দেয়। ভাইরাস জনিত রোগ হওয়ায় মশা মাছি থেকে এটি ছড়ায় বেশী। এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত পশুকে পৃথক রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

অন্যদিকে, দিনাজপুরে নিবন্ধিত ১৪শ গরু খামারে প্রায় ১৭ লাখ গরু রয়েছে। এ অঞ্চলে গরুর মধ্যে লাম্পি নামের একটি চর্মরোগ দেখা দেয়ায় খামারীরা বেশ উদ্বিগ্নর মধ্যে রয়েছেন। রোগটি চলতি মাসের শুরুর দিকে সদর, বোচাগঞ্জ ও খানসামা উপজেলায় বেশ কিছু গরুর গায়ে দেখা দেয়। 

দিনাজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাহিনুর আলম বলেন, এই রোগ যাতে মহামারী আকার ধারন না করে যে জন্য আক্রান্ত ৩টি উপজেলায় ২২টি ভেটেনারি টিম গঠন করা হয়েছে এবং প্রায় ৮০ হাজার গরুকে ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে।  

এই রোগটি বিশ্বে পুরাতন হলেও গত বছর এই রোগ দেখা দেয় বাংলাদেশে। ইতোমধ্যেই এই রোগের বিস্তার ঠেকাতে নির্দেশ দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী।

Advertisement
Advertisement