মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ৫ ১৪২৭ ||  ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ACI Agri Business

লাগামহীন আলুর বাজার; নিয়ন্ত্রণে চলছে অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২:৩৮, ১৭ অক্টোবর ২০২০

বাংলাদেশের বাজারে আলুর দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী, এক মাস ধরে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে আলুর বাজারে। তবে গত দুই সপ্তাহে লামাগহীন হয়ে যায় পণ্যটির দাম।  

বেড়ে যাওয়া আলুর দর নিয়ন্ত্রণে আনতে সম্প্রতি সরকারি সংস্থা কৃষি বিপণন অধিদপ্তর আলুর সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করেছে। এ ছাড়া হিমাগার ও পাইকারি পর্যায়েও দর নির্ধারণ করা হয়েছে। 

কৃষি বিপণন অধিদফতর খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু ৩০ টাকা, পাইকারিতে ২৫ এবং হিমাগার থেকে ২৩ টাকা দাম নির্ধারণ করে দেয়। এর চেয়ে বেশি দামে আলু বিক্রি করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও প্রতিটি জেলা প্রশাসককে চিঠি দেয়া হয়।

কিন্তু এই নির্ধারিত দর মানছেন না ব্যবসায়ীরা । বাজারে কোথাও এই নির্ধারিত দামে আলু বিক্রি হয়নি। 

বেঁধে দেওয়া দামে আলু বিক্রি না করায় দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ীদের জরিমানা করেছে প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। 

পুরান ঢাকার শ্যামবাজার, নয়াবাজার ও বাবুবাজারে অভিযান পরিচালনা করেন প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মাসুম আরেফিন, বিকাশ চন্দ্র দাস ও ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রোজিনা সুলতানা। এ ছাড়া ঢাকার বাইরে বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে বিভিন্ন বাজারে তদারকি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে।এ সময় ১৬টি প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে বিপণন অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছর ১ কোটি ৯ লাখ টন আলু উৎপাদন হয়েছে, যার বিপরীতে বছরে চাহিদা ৭৭ লাখ ৯ হাজার টন। এ হিসাবে প্রায় ৩১ লাখ ৯১ হাজার টন আলু উদ্বৃত্ত থাকার কথা। এদিকে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন জানায়, এবার ৮৫ লাখ টন আলু উৎপাদন হয়েছে। অন্য বছরের চেয়ে এবার আলু উৎপাদন ও হিমাগারে মজুদ কম হয়েছে। হিমাগারে অন্য বছর ৫৫ লাখ টন আলু মজুদ হলেও এবার ৪৫ লাখ টন হয়েছে।

এদিকে, বিদ্যুতের দাম কিছুটা বাড়লেও হিমাগারের মালিকরা আলু সংরক্ষণের খরচ আগের মতোই রাখার কথা জানিয়েছে। এরপরও বাজারে যে দাম রাখা হচ্ছে সেটা অস্বাভাবিক বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।

এজন্য তিনি বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনা করে ব্যবসায়ীদেরও নৈতিক হতে আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবুল কুমার সাহা বলেন, অসাধু ও অনৈতিক কোনো কাজের ক্ষেত্রে অধিদপ্তর জিরো টলারেন্স প্রদর্শন করবে। ভোক্তার স্বার্থে দেশব্যাপী অভিযান চলছে। আগামী দিনে তা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। 
 

Advertisement
Advertisement