মঙ্গলবার   ২২ অক্টোবর ২০১৯ ||  কার্তিক ৬ ১৪২৬ ||  ২২ সফর ১৪৪১

রোগ প্রতিরোধে খাবার ও করনীয় (প্রথম পর্ব)

লেঃ কর্নেল মোঃ তুহিন হাসান, পিএসসি

প্রকাশিত: ১৩:১১, ২২ অক্টোবর ২০১৮

শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে আমরা বারবার অসুস্থ হই। রোগ প্রতিরোধে খাবার এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বিশেষ সহায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারক খাবার

১। ইয়োগার্ট : 
ইয়োগার্টের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অসাধারণ। ইয়োগার্ট খাবার ও ফলের সঙ্গে যে কোন ভাবেই খাওয়া যায় ।

২। ওটস ও বার্লি : 
ওটস বা বার্লির মধ্যে রয়েছে বিটা-গ্লুকান ফাইবার। যা শরীরে ইনফ্লুয়েঞ্জা, হারপিস, অ্যানথ্রাক্স ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে সাহায্য করে এবং ক্ষত সারাতেও ভালো কাজ করে।

৩। সামুদ্রিক মাছ : 
ইলিশ, স্যালমন, ম্যাকরেল, চিংড়ি, কাঁকড়া, ওয়েস্টারের মধ্যে রয়েছে সেলেনিয়াম ও ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। যা ফুসফুসে সংক্রমণ রুখতে সাহায্য করে।

৪। চিকেন সুপ : 
ব্রঙ্কাস ইনফেকশন রুখতে সাহায্য করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

৫। রেড মিট : 
রেড মিটের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ জিঙ্ক। যা রক্তে শ্বেতরক্ত কণিকার পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

৬। লাল আলু : 
রাঙা আলু ভিটামিন এ-র উৎকৃষ্টতম উৎস যা ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে ত্বককে রক্ষা করে।

৭। মাশরুম : 
রক্তে শ্বেত রক্ত কণিকা বাড়াতে দারুণ উপকারী মাশরুম। এটি খাবার হালকা ও সহজপাচ্য।

৮। রসুন:
রসুন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকজনিত আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বিশেষ করে, ত্বকের সংক্রমণ নিরাময়ে ভালো কাজ করে রসুন। শরীরের কোলেস্টরলের পরিমাণ কমাতেও কাজ করে এটি।

৯। আদা:
অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের ভালো উৎস আদা। আর ফলমূল বা সবজি থেকে পাওয়া অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরে কাজও করে তাড়াতাড়ি।

১০। তরমুজ:
তরমুজে থাকে গ্লুটাথায়োন নামের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এটি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়।

১১। মাছ:
ওমেগা ৩ ও ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার যেমন মাছ ইমিউন সিস্টেম বাড়াতে সাহায্য করে।

১২। দুধ ও দই:
জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার যেমন দুধ ও দই রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। দুধ হজম না হলে দুধের তৈরি খাবার খান। দিনে অন্তত ১০০ গ্রাম দই অথবা ১ কাপ দুধ খাবার চেষ্টা করুন।

১৩। ক্যারোটিন সমৃদ্ধ খাবার:
গাজর, টোমাটো, কুমড়া বেশি করে খান। গাজরের জুস দুধের থেকে সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর।

১৪। মধু ও দারুচিনি:
মধু ও দারচিনি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

১৫। আমলকী:
আমলকীর সাথে অল্প আদা ও খেজুর বেটে নিন। ভিটামিন সিতে ভরপুর আমলকীর এই চাটনি শরীরের জন্য দারুন উপকারী।

১৬। পানি:
সারাদিনে প্রচুর পানি পান করুন। সফট ড্রিঙ্ক কম খান। সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে পানি পান করুন।

১৭। গ্রিন টি:
তুলসি ও গ্রিন টি দেহের জন্য দারুণ উপকারী। এগুলো অর্গানিক, ডায়াবেটিসের জন্য উপকারী, হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী, ক্যালোরি অনেক কম এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর।

১৮। টক দই:
টকদইয়ে ভাল কিছু ব্যাকটেরিয়া রয়েছে যা দেহের জীবাণু দূর করতে সাহায্য করে।

১৯। কাঠবাদাম:
কাঠবাদামে রয়েছে ভিটামিন ই যা খুবই শক্তিশালী একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি ঠাণ্ডার সমস্যা ও কাশি প্রতিরোধ করে। এর স্বাস্থ্যকর ফ্যাট শরীরে শক্তি প্রদান করে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বজায় রাখে।

২০। করলা:
করলা ভিটামিন সি-এর চমৎকার উৎস। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এর মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিভাইরাল উপাদান। এটি সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।

২১। ভিটামিন ই ও ভিটামিন সি জাতীয় সব্জি:
প্রতিদিনের খাবারে টমেটো,লেবু,নারকেল,
পেয়ারা,কালোজামের মতো খাবার রাখুন। এতে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, যা ইনফেকশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

২২। কলিজা 
কলিজা সেলোনিয়াম, জিংক, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, কপার, ফলিক এসিড, ভিটামিন-বি৬, এবং ভিটামিন বি-১২ দ্বারা সমৃদ্ধ। যা আপনার শরীরের বি-সেল থেকে ইমিউনোগ্লোবিউলিনের নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়।

২৩। বিবিধ: 
ক। সালাদ ও মাছ মাংসে ভিনিগারের বদলে লেবুর রস ব্যবহার করুন ।

খ। চিনির বদলে মধু ও গুড় ব্যবহার করুন যা অতিরিক্ত ক্যালসিয়ামের প্রয়োজনকে কিছুটা মেটায় ।

গ। খাবার পানি সর্বদা ফুটিয়ে পান করুন। অনিরাপদ পানি শরীরের নানান রকম সমস্যার প্রাথমিক উৎস।

ঘ। সল্টেড চিপস বাদ দিয়ে ঘরে তৈরি চিপস খান।

ঙ। একই তেলে বারবার তৈরি ভাজাভুজি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

চ। বাসি, পচা খাবার খাবেন না।

ছ। টাটকা, সতেজ শাক সবজি ও ফল খাবেন।

ঝ। সারাদিনের খাবারের মধ্যে তিন ভাগের এক ভাগ রান্না করা খাবার ও বাকিটা ফলমূল ও শাক-সবজির সালাদ দিয়ে পূরণ করুন।

ঞ। সবজি ও ফলে অনেক সময় কীটনাশক ও অন্যান্য ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক বস্তু মেশানো থাকে। তাই সব রকমের সবজি ও ফল ৩ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এসব বিষ থেকে অনেকটা রক্ষা পাওয়া যায়।

ট। ভাজাপোড়া ও তেলচর্বিজাতীয় খাবার এবং তামাকসহ সব ধরণের নেশাদ্রব্য থেকে দূরে থাকুন।