শুক্রবার   ০৭ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২২ ১৪২৭ ||  ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

ACI Agri Business

রাজশাহীর আমে নেই চিরচেনা স্বাদ, দায়ী আবহাওয়া!

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৯:৫৬, ৭ জুলাই ২০২০

আমের বিভাগ হিসেবেই পরিচিত রাজশাহী, অনেকেই বলেন আমের দেশ। রাজশাহীর আমের খ্যাতি শুধু দেশে নয়, ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়েই। এই খ্যাতির বড় কারণ সুমিষ্ট স্বাদ। তাই আমের মৌসুমে রাজশাহীর আমের জন্য অপেক্ষা করে ফলপ্রিয় মানুষ। কিন্তু ফলের রাজা আম স্বাদে-গন্ধে-মিষ্টতায় রাজশাহীর ঐতিহ্য হারাতে বসেছে বলে এবার অভিযোগ করেছেন অনেকে। 

বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন কিংবা অন্যদের কাছে আমের রাজধানী খ্যাত রাজশাহীর আম পাঠিয়ে অনেকেই পেয়েছেন এই অভিযোগ। স্থানীয়দের কাছেও বিষয়টি এড়িয়ে যায়নি। স্থানীয় লক্ষীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের স্কুলের সহকারী শিক্ষক ফারুক হোসেন জানান, রাজশাহী বাড়ি হওয়ার কারণে ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা হিসেবে বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়দের বাসায় এবারও আম পাঠিয়েছিলাম। আম কেমন, যখন তাদের কাছে জানতে চেয়েছি তখন তারা বলেছে আম মিষ্টি নয়, পঁচে গেছে। আবার অনেকে টাকা দিয়ে আমের অর্ডার করেছেন। তাদের কাছেও লজ্জা পেয়েছি, বলেন ফারুক হোসেন। তাঁর মতে, রাজশাহীর আম এবার তার সুনাম ধরে রাখতে পারেনি।

এই স্কুল শিক্ষকের মতো এবার বিব্রত হয়েছেন অনেকে। চিরচেনা আমের সেই স্বাদ নেই। পুষ্ট আম ঘরে রাখলে পাকার আগেই গোড়ায় পচন ধরছে। দেশের অন্য এলাকার মানুষ যারা টাকা দিয়ে আম কিনে এমন পরিস্থিতিতে পড়েছেন, তারা ভাবছেন আম কিনে প্রতারিত হয়েছেন এবার। 

আম উৎপাদনের ক্ষেত্রে মাটির চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ুর প্রভাব। এই তথ্য দিয়ে আম গবেষকরা জানান, এবারের আম্পান শুধু আমের ফলন উৎপাদনেই প্রভাব ফেলেনি, প্রভাব ফেলেছে এর স্বাদ-বৈশিষ্ট্যেও।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ফল বিভাগের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরফ উদ্দিন বলেন, আমের স্বাদের এ সমস্যা এবার শুধু রাজশাহীতে নয়, সারাদেশেই। তিনি বলেন, সাধারণত আম সংগ্রহের আগে এক থেকে দেড় মাস শুষ্ক আবহাওয়ার প্রয়োজন হয়, যা আমের স্বাদ বাড়াতে সহায়ক। এ বছর এই সময়টাতে অধিক বৃষ্টিপাত ছিলো ফলে আদ্রতাও বেশি ছিলো উল্লেখ করে ড. শরফ বলেন, যার কারণে আমের স্বাদ কিছুটা কমে গেছে। 

আমে পচন কেন ধরছে এ প্রসঙ্গে ড. শরফ উদ্দিন বলেন, এবার করোনার কারণে কুরিয়ারে বা অন্যান্য মাধ্যমে আম সংগ্রহ করেছেন বেশি। আম যেহেতু এবার শুষ্ক আবহাওয়া পায়নি ফলে এসব আম সংগ্রহ করার পরপরই প্যাকেজিং করায় সেখানে এক থেকে দুই দিন অধিক আদ্রতা পেয়েছে আম। ফলে বাসায় নেয়ার পর অনেকেই দেখেছেন যে বোটা পঁচা রোগ দেখা দিয়েছে। এই আম বিজ্ঞানীর মতে, আমের এই স্বাদ হারানোর জন্য আবহাওয়া দায়ী। 

একই মত পোষণ করে রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দিন বলেন, আবহাওয়ার কারণে আমের স্বাদের উপর কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তবে খুব সহজ এক পদ্ধতি অবলম্বন করলেই আমের পচন রোধ করা সম্ভব। “গাছ থেকে আম পারার পর হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট অর্থাৎ ৫৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেট তাপমাত্রা আম ৫ মিনিট রেখে দিতে হবে। তারপর শুকিয়ে প্যাকেটজাত করলে আমে পঁচন ধরবে না” বলেন ড. আলীম।

দেশে প্রতি বছরই বাড়ছে আম উৎপাদনের এলাকা। বৃহত্তর রাজশাহী ছাড়াও এখন বাণিজ্যিকভাবে আম উৎপাদন হচ্ছে মেহেরপুরসহ আরো অনেক জেলায়। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশী আমের চাহিদা বাড়ছে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের দিকে লক্ষ্য রেখে গবেষণার মাধ্যমে আমের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের তাগিদ দিয়েছেন ভোক্তারা।
 

Advertisement
Advertisement