শুক্রবার   ০৭ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২২ ১৪২৭ ||  ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

ACI Agri Business

রক্তের গ্লুকোজ কমাতে খেতে পারেন পুঁইশাক

পুষ্টিবিদ নুসরাত দীপা

প্রকাশিত: ০৪:১১, ৩০ জুন ২০২০

সুস্বাস্থ্যের জন্য আমাদের সবসময় পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তিকে প্রতিদিনই পর্যাপ্ত পরিমাণে শাকসবজি খেতে হয়। কিন্তু কতটুকু খেলে তা শরীরের দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে পারবে তা আমরা অনেকেই জানিনা। আমাদের সুস্থ থাকতে দৈনিক আড়াই থেকে তিনকাপ যেকোন ধরনের শাকসবজি খাওয়া প্রয়োজন। এখন তো গ্রীষ্মকাল। আর এই গ্রীস্মকালীন শাক সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেলস এবং আয়রন থাকে। 

গ্রীষ্মকালে মানেই আমরা ফলের জন্য উদগ্রীব থাকি। কিন্তু অনেকেই আমরা শাক সব্জির প্রতি অনিহা  প্রকাশ করে থাকি। আবার শীতকাল যখন থাকে তখন আমদের শীতকালীন বৈচিত্র্যময় শাক সব্জির প্রতি বেশি আগ্রহ থাকে ফলের চেয়ে বেশি। গ্রীষ্মকালে সবজির বৈচিত্র্য কম থাকে। তবে গ্রীষ্মকালের প্রচণ্ড গরমের কারনে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পানি, খনিজ লবণ বের হয়ে যায়। যা শুধুমাত্র আমরা বেশি বেশি করে ফলমুল, শাকসব্জি এবং তরল পানি গ্রহণের মাধমে পূরণ করতে পারি।

গ্রীষ্মকালের শাক সব্জির মধে অন্যতম হল পুইশাক। আজ আমরা গ্রীষ্মকালীন  সব্জি হিসেবে পুইশাক এর পুষ্টিগুনাগুন জানবো।

বাংলায় একটা প্রচলিত প্রবাদ আছে যে “ শাকের মধ্য পুঁই আর  মাছের মধ্য রুই”। তবে শুধু দেশেই নয় বাইরের দেশেও পুঁইশাক খাওয়ার প্রচলন আছে। পুষ্টিকর খাবার হিসেবে স্যুপ ঘন করার জন্য পুঁইশাক অনেকক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয়।

পুইশাকে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ, বি ও সি আছে।

পুঁইশাকে ভিটামিন এ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সহ বিভিন্ন অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান রয়েছে যা চোখের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে। এছাড়াও দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে, চোখের ছানি দূর করতে এবং ডিজেনারেশন কমাতে পুইশাক বেশ কার্যকরী। তবে ছোটবেলা থেকেই এই পুঁইশাক খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত। 

পুঁইশাকের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম থাকার কারণে এটি রক্তের গ্লুকোজ কমানোর জন্য একটি উত্‍কৃষ্ট খাবার। পুঁইশাকে বিদ্যমান কিছু উপাদান ইনসুলিন উত্‍পাদনে সাহায্য করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক রাখে।

পুঁইশাকে প্রচুর পরিমাণে আশঁ রয়েছে যা কোষ্ঠকাঠিন্য দুর করে। আমরা কম বেশি সকলেই জানি যে, যেকোন ধরনের  আশঁ জাতীয় শাকসবজি স্তন ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার, পাকস্থলীর ক্যান্সারের সম্ভাবনা অনেকটাই কমিয়ে দেয়। তবে অতিরিক্ত পরিমানে শাক খাওয়া কখনোই উচিত নয়। যারা আলসার বা গ্যাস্ট্রিক সমস্যায় ভুগছেন তাদের পুঁইশাক সহ যেকোন ধরনের শাক অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়।

পুইশাকে আঁশ বেশির থাকার কারণে ক্যালরির পরিমাণ কম এবং চর্বি না থাকায় এই সবজি সুস্থ অবস্থায় পরিমাণে একটু বেশি খেলেও শরীরের তেমন ক্ষতি হয় না এবং ওজন বাড়ার সম্ভাবনাও এতে কম থাকে। এছাড়া বিপাক ক্রিয়া সহজতর হওয়ায় তা ক্যালরি ক্ষয় করতে সাহায্য করে। তাই যারা ওজনাধীক্য সমস্যায় ভুগছেন তারা পুঁইশাক নিয়মিত খেতে পারেন। বিকেলের নাস্তায় কম ক্যালোরির খাবার হিসেবে পুঁইশাকের সাথে চিকেন স্যুপ খুব চমৎকার স্ন্যাকস হতে পারে।

এছাড়া দপুঁইশাকে ভিটামিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, রয়েছে যা হৃদরোগি দের জন্য খুব উপকারী। এই উপাদানগুলো শরীরের রক্তে কোলেস্টেরল জমতে বাঁধা দেয়।এছাড়া পুইশাকে প্রচুর পটাসিয়াম থাকার কারনে তা রক্তে সোডিয়াম এর পরিমাণ কমিয়ে রেখে ব্লাড প্রেসার কমাতে সাহায্য করে।তাই হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পুঁইশাক খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

এছাড়াও পুঁই শাকের ভিটামিন এ আমাদের ত্বকের আর স্ক্যাল্পের তেল নিঃসরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং ময়েশ্চার ধরে রাখে। অতিরিক্ত তেল বা সিবাম নিঃসরণ হলে ব্রণ হয়। পুঁই শাক যেহেতু এই নিঃসরণ কমায় তাই ব্রণ হয় না। তাই যাদের তৈলাক্ত ত্বক তারা নিশ্চিন্তে পুঁইশাক খেতে পারেন। পুঁইশাকে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন কে থাকে যা দাঁতকে  এবং আমাদের হাড়কে মজবুত করে।এই ভিটামিন কে হাড়ের মেট্রিক্স প্রোটিন উন্নত করে এবং ক্যালসিয়াম এবজর্ব বাড়ায়। তাই হাড়ের শক্তি বাড়ানোর জন্য পুঁইশাকের জুড়ি নেই।

বাড়ন্ত শিশুদের জন্য আমরা সবাই বুঝে না বুঝে প্রোটিনের দিকেই বেশি জোর দেই। কিন্তু এই  বয়সে শিশুদের যদি নিয়মিত প্রোটিন সহ পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি পুঁই শাক খাওয়ানো যায় তাহলে তাদের শারীরিক এবং মস্তিষ্কের বৃদ্ধি ভাল হয়। কেননা শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন, মিনারলস ,প্রোটিন সবই কম বেশি পুইশাকে পাওয়া য়ায়। তাই বাচ্চাদের ছোট থেকেই পুঁই শাক খাওয়ানোর অভ্যেস করাতে হবে। তবে পুঁইশাক হল ন্যাচারাল অ্যালকালাইন যা সারাদিন আমাদের এনার্জেটিক রাখতে পারে।

তবে অনেকেই আছেন যাদের জন্য পুঁইশাক খাওয়া নিষেধ। কেননা পুঁইশাকে পিউরিন নামক উপাদান রয়েছে যা অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে শরীরে ইউরিক এসিড বৃদ্ধি পায় এবং এর ফলে গেঁটেবাত, কিডনিতে পাথর ইত্যাদি রোগ হতে পারে। কিডনি সমস্যা এবং পিত্তথলির সমস্যা যাদের রয়েছে তারা অবশ্যই পুঁইশাক খাওয়ার পূর্বে পুষ্টিবিদের পরামর্শ গ্রহণ করবেন।

লেখিকা: ক্লিনিক্যাল ডায়টেশিয়ান, স্কয়ার হসপিটাল, ঢাকা।

Advertisement
Advertisement