বুধবার   ১২ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৮ ১৪২৭ ||  ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

ACI Agri Business

যেভাবে চিনতে পারবেন ভেজাল সার

প্রকাশিত: ১৯:৩৬, ৩০ অক্টোবর ২০১৮

ফসল উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হয় কৃষকদের। তবে আপনি যে সারটি ব্যবহার করছেন তা আসল না ভেজাল? এমন প্রশ্ন উঠছে দীর্ঘদিন ধরেই। কারণ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সারে ভেজাল দ্রব্য মিশিয়ে নকল সার বা ভেজাল সার তৈরি ও বিক্রি করছেন। বিভিন্ন সময় ভেজাল বিরোধী অভিযানে ধরাও পড়ছে তা। তবে একটু সতর্ক হলেই আসল সার ও ভেজাল সারের পার্থক্য বুঝতে পারবেন আপনিও। 
 
ইউরিয়া সার চেনার উপায়: 
আসল ইউরিয়া সারের দানাগুলো সমান হয়। তাই কেনার সময় প্রথমেই দেখে নিতে হবে যে সারের দানাগুলো সমান কিনা। ইউরিয়া সারে কাঁচের গুড়া অথবা লবণ ভেজাল হিসাবে যোগ করা হয়। চা চামচে অল্প পরিমাণ ইউরিয়া সার নিয়ে তাপ দিলে এক মিনিটের মধ্যে অ্যামোনিয়ার ঝাঁঝালো গন্ধ তৈরি হয়ে সারটি গলে যাবে। যদি ঝাঁঝালো গন্ধসহ গলে না যায়, তবে বুঝতে হবে সারটি ভেজাল।
 
টিএসপি সার চেনার উপায়:
টিএসপি সার পানিতে মিশালে সাথে সাথে গলবে না। আসল টিএসপি সার ৪ থেকে ৫ ঘন্টা পর পানির সাথে মিশবে। কিন্তু ভেজাল টিএসপি সার পানির সাথে মিশালে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই গলে যাবে বা পানির সাথে মিশে যাবে।
 
ডিএপি সার চেনার উপায়:
ডিএপি সার চেনার জন্য চামচে অল্প পরিমাণ ডিএপি সার নিয়ে একটু গরম করলে এক মিনিটের মধ্যে অ্যামোনিয়ার ঝাঁঝালো গন্ধ বের হবে এবং তা গলে যাবে। যদি না গলে তবে বুঝতে হবে সারটি সম্পূর্ণরূপে ভেজাল। আর যদি আংশিক গলে যায় তবে বুঝতে হবে সারটি আংশিক ভেজাল। 

এছাড়াও কিছু পরিমাণ ডিএপি সার হাতের মুঠোয় নিয়ে চুন যোগ করে ডলা দিলে অ্যামোনিয়ার ঝাঁঝালো গন্ধ বের হবে। ভেজাল সার থেকে অ্যামোনিয়ার ঝাঁঝালো গন্ধ বের হবে না।  
 
এমওপি বা পটাশ সার চেনার উপায়:
পটাশ সারের সাথে ইটের গুড়া ভেজাল হিসাবে মিশিয়ে দেয়া হয়। এই ভেজাল পরীক্ষার জন্য গ্লাসে পানি নিয়ে তাতে এমওপি বা পটাশ সার মিশিয়ে দিন। ইট বা অন্য কিছু ভেজাল হিসাবে মিশানো থাকলে তা পানিতে গলে না গিয়ে গ্লাসের তলায় পড়ে থাকবে। তলানি দেখে সহজেই বুঝা যাবে সারটি আসল নাকি ভেজাল।
 
জিংক সালফেট সার চেনার উপায়:
জিংক সালফেট সারে ভেজাল হিসাবে পটাশিয়াম সালফেট মেশানো হয়। জিংক সালফেট সার চেনার জন্য এক চিলতে জিংক সালফেট হাতের তালুতে নিয়ে তার সাথে সমপরিমাণ পটাশিয়াম সালফেট নিয়ে ঘষলে ঠান্ডা মনে হবে এবং দইয়ের মতো গলে যাবে।

তথ্য সূত্র: কৃষি তথ্য সার্ভিস

Advertisement
Advertisement