বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ১৩ ১৪২৭ ||  ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ACI Agri Business

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ৫০০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২:৫৮, ২৫ জুন ২০২০

ডেইরি খাতে কোভিডের প্রভাব মোকাবেলার জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৫০০০ কোটি টাকা করার প্রস্তাবনা দিয়েছে বাংলাদেশ ডেইরী ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (বিডিডিএফ)।

বৃহস্পতিবার এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ১২ দফা দাবিসহ এ সুপারিশ করেন ফোরামের সভাপতি এডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃাতি এমপি ।

কোভিড-১৯ এর ফলে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি খাতই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশী আক্রান্ত হচ্ছে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাত। ব্র্যাকের এক গবেষণায় দেখা গেছে মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে মে’র প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত মাত্র দেড় মাসে কৃষকের লোকসান হয়েছে ৫৬৫৩৬ কোটি টাকারও বেশী। কারণ, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদিত পণ্যসমূহ উচ্চপচনশীল এবং তা স্বল্প সময়ের মধ্যে বাজারজাত করতে হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২.০-২.৫ কোটি লিটার তরল দুধ উৎপাদন হয় যার বাজার মূল্য প্রায় ১০০-১২০ কোটি টাকা।  কোভিড-১৯ এর ফলে খামারীরা তাদের উৎপাদিত দুধ বিক্রি করতে না পারায় খামারীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তাছাড়া খামারীরা গাভীগুলোকেও পর্যাপ্ত গো-খাদ্য সরবরাহ করতে পারছে না, ফলে দেখা দিচ্ছে গবাদিপ্রাণির নানাবিধ অসুখ ও স্বাস্থ্যগত সমস্যা। তাছাড়া বিপনন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাত কোম্পানিগুলোও সক্ষমতা অনুযায়ী দুধ সংগ্রহ, প্রক্রিয়া ও বিক্রয় করতে পারছে না। দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাত কোম্পানিগুলোর মতে, তাদের বিক্রয় প্রায় ৪০-৫০ শতাংশে নেমে এসেছে এবং বিগত তিন মাসে (মার্চ থেকে মে) এ খাতে লোকসান হয়েছে প্রায় ৪০০০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশে ডেইরি খামারের উৎপাদন খরচের শতকরা ৭০-৭৫ শতাংশ ব্যয় হয় গো-খাদ্য কিনতে। খামারের উৎপাদন অব্যহত রাখার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গো-খাদ্যে ভর্তুকি দেয়ার প্রচলন রয়েছে। বাংলাদেশের কৃষিখাতেও বর্তমান বাজেটে ভর্তুকির পরিমান ৯৫০০ কোটি টাকা। কিন্তু ডেইরি খাতে অদ্যাবধি এধরনের কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি।কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র খামারীদের সুরক্ষায় গো-খাদ্যের উপর ভর্তুকি দেয়া আবশ্যক বলে মনে করেন খামারীরা।
 
বাংলাদেশের ডেইরি শিল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আমদানিকৃত গুঁড়া দুধের সাথে অসম প্রতিযোগিতা। এসব গুঁড়া দুধ ভর্তুকি দেওয়াতে এর দাম তুলনামূলকভাবে অনেক কম হয় যার সাথে বাংলাদেশের স্থানীয় উৎপাদন প্রতিযোগীতা করতে পারে না।

২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার ২.৫ কেজি প্যাকেটজাত গুঁড়া দুধের আমদানিশুল্ক বাড়ানোর ঘোষনা দিয়েছে সরকার। কিন্ত এই আমদানিশুল্কবৃদ্ধি প্রকৃতপক্ষে দেশের ডেইরীর উন্নয়নে তেমন ভূমিকা রাখবে না। এক্ষেত্রে বাল্ক ফিল্ড মিল্কের আমদানি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ডেইরি খাতে কোভিড-১৯ এর প্রভাব মোকাবেলায় জাতীয় বাজেট ২০২০-২১ এ বাংলাদেশ ডেইরি ডেভেলপমেন্ট ফোরাম সুপারিশ করে। সুপারিশসমূহের মধ্যে রয়েছেঃ
 
১. ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে বরাদ্দ কমপক্ষে ৫০০০ কোটি টাকা করা।
২. কোভিড-১৯ এর ক্ষতি মোকাবেলায় খামারীদের গো-খাদ্য ও খামারের উপকরণ ক্রয়ের জন্য ভর্তুকি প্রদান করা।
৩. সকল প্রকার দুগ্ধ এবং দুগ্ধজাত পণ্যে কমপক্ষে ২৫ শতাংশ আমাদানী শুল্ক (Customs Duty) আরোপ করা। বিশেষ করে এইচ এস কোড 0402.21.91 (Milk & cream in powd,gran or oth. solid form fat..exceed1.5% imp by VAT reg.Milk & pr) এবং এইচ এস কোড 0402.21.99 (MILK AND CREAM IN POWDER,...OF FAT >1.5% IMP.EXCL.VAT REG. MILK & MILK MFG.IND. এ যথাক্রমে ২৫% এবং ২০% CD ও SD আরোপ করা।
৪. দেশে উৎপাদিত সকল প্রকার ডেইরি পণ্যে শুল্ক ও কর শূন্য হারে (০%) নির্ধারণ করা।
৫. স্থানীয় অপ্রাতিষ্ঠানিক বাজারকে ডিজিটালাইজড ও প্রাতিষ্ঠানিক বাজারকে শক্তিশালীকরণের জন্য মধ্যম/দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় টাকার ‘‘গ্যারান্টি ফান্ড” গঠন করা।
৬. সম্প্রসারণ সেবাকে ডিজিটালাইজড ও খামারীবান্ধব করা।
৭. গো-খাদ্যসহ সকল প্রকার ডেইরী উপকরণের আমদানিশুল্ক প্রত্যাহার করা।
৮. ডেইরি খাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির সন্নিবেশ ঘটানোর জন্য মধ্যম/দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় ‘‘গ্যারান্টি ফান্ড” গঠন করা।
৯. ডেইরিতে বিনিয়োগের ঝুঁকি কমাতে গাভী বীমা চালু করা।
১০. প্রান্তিক কৃষক যাতে সহজেই ৫০০০ কোটি টাকা প্রণোদনার অন্তর্ভূক্ত হয় সেজন্য লম্বা গ্রেস পেরিয়ডসহ জামানতবিহীন ঋণ সুবিধা প্রদান করা।

দেশের ডেইরি সেক্টরের উন্নয়নের জন্য দেশীয় পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে প্রতিযোগীতাপূর্ণ হতে হবে। এক্ষত্রে খামারের উৎপাদন খরচ বেশী হওয়ায় ডেইরি পণ্যের উৎপাদন খরচও বেশী হয়। ফলে জাতীয় বাজারে ডেইরি পণ্য ভোক্তাবান্ধব না হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে তা প্রতিযোগিতা করে টিকতে পারে না। এক্ষেত্রে দেশে উৎপাদিত সকল ডেইরি পণ্যের উপর থেকে মূল্য সংয়োজন কর এবং শুল্ক প্রত্যাহার করা জরুরী। তাছাড়া করোনার আঘাত থেকে মুক্ত করে ডেইরি সেক্টরকে টেকসই ও মজবুত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষে প্রাইভেট সেক্টরের বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ১০ বছরের জন্য ‘‘ট্যাক্স হলি ডে” ঘোষনা করা উচিত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। 
 
 

Advertisement
Advertisement