সোমবার   ২৫ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ১০ ১৪২৮ ||  ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ACI Agri Business

মাছের অনেক প্রোবায়োটিক মানসম্মত নয়-দাবি গবেষকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:৩৪, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১

বাংলাদেশে অনেক প্রকারের প্রোবায়োটিক আছে যেগুলোর প্যাকেটের লেভেলে যা লেখা আছে সে অনুযায়ী প্যাকেটের ভেতর প্রোবায়োটিক নেই। অনেক প্রোবায়োটিকের ভেতর আন্টি-মাইক্রোবিয়াল রেসিসটেন্ট জিন আছে যেগলো মাছ ও মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক। এমন তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ আয়োজিত আলোচনায়। 

বুধবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের একোয়াকালচার বিভাগের আয়োজনে BBSRC, UK ফান্ড-এর সহযোগিতায় “Risk-based Pedigree-analysis of the Prophylctic Aquaculture Health Products and Improved Smallholder Health Management in Bangladesh (PEDIGREE)” শীর্ষক গবেষণা প্রকল্পের এক ভার্চুয়াল কর্মশালায় এসব কথা বলেছেন গবেষকরা। 

বাংলাদেশের মৎস্য চাষের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে গবেষকরা একটি অনলাইন প্রোবায়োটিক কোয়ালিটি অ্যাসেসমেন্ট টুল তৈরির জন্য কাজ করছেন। যা বাংলাদেশের মৎস্য চাষী ও একোয়াকালচারের অন্যান্য স্টেকহোল্ডারগণ ব্যবহার করতে পারবেন বলে জানানো হয় কর্মশালায়। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান বাংলাদেশের বর্তমান মৎস্য চাষের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি বাকৃবি ফিশারিজের কোর্স-কারিকুলাতে মৎস্যচাষে ড্রাগস ও কেমিক্যাল ব্যবহার সংক্রান্ত ফিস ফার্মাকোলজি সাবজেক্ট যুক্ত করা সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য অনুষদের কোর্স-কারিকুলার উন্নয়নের বিষয়সমূহ তুলে ধরেন। বাংলাদেশে একোয়াকালচারের মাধ্যমে নিরাপদ মাছ উৎপাদন এবং এ বিষয়ে আরো উন্নত গবেষণার জন্য ইউনিভার্সিটি অফ স্টারলিংয়ের সাথে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথভাবে একোয়াকালচার বিষয়ে আরো আধুনিক মানের গবেষণা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


কর্মশালায় ড. ফ্রান্সিস মারি এবং ড. এন্ড্রো ডেসবইস, ইনস্টিটিউট অফ একোয়াকালচার, ইউনিভার্সিটি অফ স্টারলিং, যুক্তরাজ্য PEDIGREE প্রকল্পের গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন করেন এবং তাদের উপস্থাপনায় একোয়াকালচার সংশ্লিষ্ট গবেষণা, শিক্ষা, মাছের রোগ নির্ণয়, অজানা রোগ প্রতিরোধে প্রস্তুতি গ্রহণ, এবং মৎস্যচাষে বিভিন্ন পণ্য, বিশেষকরে প্রোবায়োটিকের গুণগত মান উন্নত করার ক্ষেত্রে গুরুত্ব আরোপ করেন।

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী সামস আফরোজ মৎস্য চাষে এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প হিসেবে ভালো মানের প্রোবায়োটিক ব্যবহারের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। প্রোবায়োটিক উৎপাদনে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণা ও কোম্পানিগুলোকে আরো সতর্ক ভাবে সুনিদৃষ্ট উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেয়ার তাগিদ দেন কাজী সামস।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ এবং বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি রিসার্চ সিস্টেম (বাউরেস) এর পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ আবু হাদী নূর আলী খান।

কর্মশালাটি মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মোঃ মাহফুজুল হক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র কর্মকর্তা, ময়মনসিংহ বিভাগ ও জেলার কর্মকর্তা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, বিএফআরআই এর গবেষক, একোয়াকালচার ড্রাগস ও কেমিক্যাল কোম্পানির প্রতিনিধি, মৎস্য খামারী ও তাদের প্রতিনিধি, ওয়ার্ল্ড ফিশ এর কর্মকর্তা, প্রাক্টিক্যাল একশন এর কর্মকর্তাবৃন্দ, মাস্টার্স ও পিএইচডি ছাত্রছাত্রীরা অংশ নেন। 

Advertisement
Advertisement