বৃহস্পতিবার   ২৪ অক্টোবর ২০১৯ ||  কার্তিক ৮ ১৪২৬ ||  ২৪ সফর ১৪৪১

মাংস হালাল-হারাম, গরু না মহিষের সনাক্ত করে দিবে যান্ত্রিক নাক

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩:১৬, ৯ অক্টোবর ২০১৮

জেড নোজ এর মাধ্যমে মাংস সনাক্তকরণ। ছবি: কৃষি প্রতিদিন

জেড নোজ এর মাধ্যমে মাংস সনাক্তকরণ। ছবি: কৃষি প্রতিদিন

জেড-নোজ নামের এই যন্ত্র মাংস পরীক্ষা করে বলে দেবে আপনি যে মাংস খাচ্ছেন সেটি হালাল ভাবে জবাই করা হয়েছে কি না। শুধু তাই নয়, গরুর মাংস বলে মহিষ বা খাসির মাংস বলে ভেড়া বা অন্য কোন মাংস দিলেও ধরে ফেলবে এই যান্ত্রিক নাক।

মূলত এটি একটি হেড স্পেস গ্যাস ক্রোমাটোগ্রাম মেশিন। যার দ্বারা বস্তু থেকে উদগিরিত বাষ্প বিশ্লেষণ করে এই সনাক্তকরণ করা হয়। বাংলাদেশে এ যন্ত্রটি এনেছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ট্রান্সফার এন্ড ইনোভেশন-আইটিটিআই।

আইটিটিআই প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী যদি গরু বা গবাদিপশু জবাই করা নয় তবে সেই মাংসে ইথানল পাওয়া যাবে। যা জেড নোজ এর মাধ্যমে সহজেই সনাক্ত করা যায়। অর্থাৎ যন্ত্রটিই বলে দিবে মাংসটি হালাল না হারাম।

এই জেড নোজ শুধু মাংস হালাল-হারাম বা কিসের মাংস তা সনাক্তকরণ ছাড়াও আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ সনাক্তকরণ কাজে সক্ষম বলেও জানান প্রকৌশলী রেজাউল করিম । “মানব পাচার রোধেও এই জেড-নোজ ব্যবহার করা যেতে পারে। আমরা জানি অনেক সময় ড্রাম বা কন্টেইনারের ভেতর মানব পাচার করা হয়। জেড নোজের মাধ্যমে তা খুব সহজেই ধরা সম্ভব। এছাড়া বিষ্ফোরক জাতীয় পদার্থ সনাক্ত করার সবচে কার্যকর যন্ত্রও জেড নোজ। যে কাজটি এখন কুকুরের দ্বারা হয়ে থাকে। তবে যন্ত্রটি কুকুরের চেয়েও অধিক কার্যকর” বলেন রেজাউল করিম।

পরিবেশে বিভিন্ন ক্ষতিকর দ্রব্যের উপস্থিতি, পানীয় জাতীয় দ্রব্য, জ্বালানি এবং বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিয়াল রাসায়নিকে ভেজাল আছে কী না তাও সনাক্ত করতে সক্ষম এই জেড নোজ।  

জেড নোজ বহনযোগ্য হওয়ায় এটি যে কোন জায়গায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। ভেজাল বিরোধী অভিযান বা মানব পাচার রোধে ইতোমধ্যেই সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের এ যন্ত্রটির সাথে পরিচয় এর কার্যকারিতা তুলে ধরা হয়েছে বলেও জানান আইটিটিআই প্রকল্প পরিচালক।