বুধবার   ২০ নভেম্বর ২০১৯ ||  অগ্রাহায়ণ ৫ ১৪২৬ ||  ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

ভূট্টার দু্ই হাইব্রিড জাত উদ্ভাবনের দাবি শেকৃবির

প্রকাশিত: ০৯:৫৫, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

‘সাউ হাইব্রিড ভুট্টা-১’ ও ‘সাউ হাইব্রিড ভুট্টা-২’ নামে ভুট্টার দুটি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় -শেকৃবি। জাত দুটি উদ্ভাবন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহেল বাকী।

ড. আবদুল্লাহেল বাকী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের সাথে মিল রেখেই জাত দুটির নামকরণ করা হয়েছে এবং ভুট্টার এই জাত দুটি পুরো দেশেই চাষ করা যাবে। ইতোমধ্যে জাতীয় বীজবোর্ড উদ্ভাবিত বীজ দুটি নিবন্ধিত হয়েছে বলেও জানান ড. বাকী। 

প্রায় ৫ বছর গবেষণার মাধ্যমে এ জাত দুটি অবমুক্ত করা হয়। জাত দুটি রবি (সেপ্টেম্বর-জানুয়ারি) ও খরিপ-১ (মার্চ-মে) মৌসুমে চাষ করা যাবে। খরিপ-১ শুধু ‘সাউ হাইব্রিড ভুট্টা-১’র ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলেও জানান এর উদ্ভাবক।

দেশীয় জাতের চেয়ে খাটো হওয়ায় জাত দুটি প্রবল বাতাসে বা ঝড়ে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। গোড়া থেকে মোচার উচ্চতা ৬০-৮৫ সেন্টি মিটার। ফলে মাটি থেকে দ্রুত মোচায় পানি ও পুষ্টি সরবরাহ করতে সক্ষম। রবি মৌসুমে প্রতি বিঘায় গড় ফলন হবে ৪৫-৫০ মণ এবং খরিপ-১ মৌসুমে বিঘাপ্রতি গড় ফলন হবে ২৫-৩৩ মণ।

তিনি আরও জানান, এদের ট্যাসেল খাড়া ও ছড়ানো হয়ে থাকে। এতে বৃষ্টির পানি ট্যাসেলে জমতে পারে না। বীজের গঠন চোখা। ফলে এর মোচায় বেশিসংখ্যক বীজ জন্মায় যার কারণে বেশি লাভবান হবেন কৃষক।

পোল্ট্রি ফিড উৎপাদনের জন্য প্রচুর পরিমাণ ভুট্টা আমদানি করতে হয় উল্লেখ করে ড. আব্দুলাহ বাকী বলেন, “জাত দুটির মাধ্যমে দেশে ভুট্টার উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলে আমদানি নির্ভরতা অনেকটাই কমে যাবে।”

আরও কিছুদিন গবেষণার পর জাত দুটির বীজ কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করা হবে বলেও জানান এর উদ্ভাবক।