মঙ্গলবার   ১১ মে ২০২১ ||  বৈশাখ ২৮ ১৪২৮ ||  ২৯ রমজান ১৪৪২

ACI Agri Business

ভারতের কৃষক আন্দোলন; বাতিল হল আজকের বৈঠকও

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:১১, ৯ ডিসেম্বর ২০২০

সম্প্রতি ভারতে বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করছে কৃষকরা। আন্দোলনের জট কাটাতে কৃষকদের সঙ্গে গত মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সরাসরি আলোচনায় বসেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।কিন্তু এরপরও কোনো সমাধান না হওয়ায় আলোচনা ব্যর্থ হয়। তিনটি বিতর্কিত আইন প্রত্যাহারে সরকার রাজি না হওয়ায় অনড় কৃষক নেতারা।

এর ফলশ্রুতিতে বুধবার (৯ ডিসেম্বর) মোদি সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে কৃষক নেতাদের  বৈঠক বাতিল করা হয়েছে। জানা গেছে, বুধবার বেলা ১১টার মধ্যে সরকার প্রস্তাব জানিয়ে একটি চিঠি পাঠাবে। এরপর সিংঘু সীমানায় দুপুর ১২টায় বৈঠক করবেন কৃষক সংগঠনের নেতারা।

কৃষক সভার সাধারণ সম্পাদক হান্নান মোল্লা বলেন, 'সরকার গত পাঁচটি বৈঠকে একই কথা বার বার বলছে। অমিত শাহকে আমরা বলেছি, নতুন কথা বলুন। একই কথা বলে কী লাভ? দেখা যাক, সরকার কী লিখিত প্রস্তাব দেয়। আমরা পরের বৈঠকে যোগ দেব কি না, তা কালই ঠিক হবে। তবে এর সম্ভাবনা কম।'

মোদী সরকার এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিল, এপিএমসি-র বাইরে থাকা মান্ডিতেও সমান কর, ফসল কেনার আগে ব্যবসায়ীদের নথিভুক্তি, চুক্তি চাষে বিবাদে কর্পোরেট সংস্থার বিরুদ্ধে কৃষকদের আদালতে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে সরকার আইনে সংশোধন করতে রাজি। সরকারি ফসল কেনায় এমএসপি-র নিশ্চয়তা দিতেও সরকার তৈরি। কিন্তু কৃষক নেতারা আগের বৈঠকেই সেই প্রস্তাব বাতিল করে। ওই তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতেই তারা অনড়।

বৈঠকের আগেই অবশ্য কৃষক নেতারা জানিয়ে দিয়েছিল, তিন কৃষি আইন প্রত্যাহার করা, ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা এমএসপি নিশ্চিত করার দাবি মানা হবে কি না, সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর থেকে শুধু ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ শুনতে চান তারা।

কৃষকদের সঙ্গে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হঠাৎ বৈঠক নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। সরকার তাদের ঐক্য ভাঙার চেষ্টা করছে কিনা এ নিয়ে কৃষক সংগঠনের নেতাদের মধ্যে শঙ্কা বিরাজ করে। তবে বৈঠকে গেলেও অনেক নেতাই শাহের বাসভবনে বৈঠকে যেতে রাজি হননি। পুসার ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব এগ্রিকালচারাল রিসার্চের অতিথিশালায় বৈঠক হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবন থেকে কৃষক নেতাদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রথমে কৃষকদের এই আন্দোলন পাঞ্জাবে সীমাবদ্ধ থাকলেও সপ্তাহ দুয়েক আগে তা এসে পৌঁছে যায় রাজধানী দিল্লিতে। দিল্লি-পাঞ্জাব এবং দিল্লি-হরিয়ানা সীমানাতেও অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার কৃষক। উত্তরাখণ্ড, উত্তর প্রদেশ থেকেও দলে দলে কৃষক বিক্ষোভে যোগ দিয়েছে।

Advertisement
Advertisement