শুক্রবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২১ ||  অগ্রাহায়ণ ১৯ ১৪২৮ ||  ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৩

ACI Agri Business

ভাত কম খাওয়া নিয়ে গণমাধ্যমে ভুল বক্তব্য এসেছে-কৃষিমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১১:৩৩, ৩১ অক্টোবর ২০২১

‘মানুষ ভাত বেশি খায়, এ জন্য চালের দাম বেড়ে গেছে’ -গণমাধ্যমে এমন কোনও কথা বলেননি দাবি করে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘এ ধরনের কথা আমি কোনোদিনই বলি না, আমি এ প্রসঙ্গই আনিনি। পুষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার কথা বলেছি।’
 
শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপ কমিটির এক সেমিনারে তিনি এমন কথা বলেন। সেমিনারের বিষয় ছিল ‘বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন ২০২১: বাংলাদেশে প্রত্যাশা।

‘চালের সংকট কমাতে দেশের মানুষকে ভাত কম খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী’— সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশ হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। এরপর গত মঙ্গলবার রাতে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘ভুলভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে’ বলে দাবি করা হয়। সেখানে কৃষিমন্ত্রী দাবি করেন, ভাত কম খেতে বলেননি তিনি।

একই প্রসঙ্গ কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘ধানের জাত এবং চাষাবাদ কী হওয়া উচিত, যেগুলোর উপরেও আমাদের বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন। মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা একটি বিষয় ছিল। আমরা আমরা চাল জাতীয় খাবারে অনেকটা আত্মনির্ভরশীল। যদি ভালো আবহাওয়া থাকে আমাদের কোনো সমস্যা হয় না। আমরা খাদ্যে উদ্বৃত্ত থাকি। কিন্তু এখন আমাদের লক্ষ্য হলো পুষ্টি জাতীয় খাবার। এটি আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছি, আমরা পুষ্টিজাতীয় খাবার এবং সি ফুড মানুষকে দেবো— এটাই এখন আমাদের চ্যালেঞ্জ। এটা করার জন্য কৃষিকে আধুনিকীকারণ করতে হবে। আমরা যান্ত্রিকরণ করছি। আমরা কৃষিপণ্যকে যান্ত্রিকীকরণ করবো প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে। আমাদের কৃষকদের আয় বাড়াতে হবে, তাদের জীবনযাত্রার মান বাড়াতে হবে।

কৃষিমন্ত্রী তার বক্তব্যকে বিকৃত করা হয়েছে অভিযোগ করে বলেন, ‘এ কথা আমি আরেকদিন বলেছি, আমাদের এক মিডিয়ার সাংবাদিকদের ফোরামে। ৭৭টি মিডিয়া আমার বক্তব্য কাভার করেছে। একটি ভূইফোঁড় পত্রিকা; তারা নিউজ করেছে আমি নাকি বলেছি— মানুষ ভাত বেশি খায় এ জন্য চালের দাম বেড়ে গেছে। এ ধরনের কথা আমি কোনোদিনই বলি না, আমি এ প্রসঙ্গই আনিনি।’

আগামী প্রজন্মকে সৃজনশীল ও মেধাবী করা লক্ষ্যে পুষ্টিজাতীয় খাবার দেওয়াটাই সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘জাপান চার বেলা ভাত খায়, কিন্তু তাদের প্রতিদিন একেকজনের কনজামশন ২০০ গ্রামেরও কম। সেখানে আমরা আগে একেকজন প্রতিদিন ৪৩০ গ্রাম চাল খেতাম, এখন সেটা কমে ৩৭০ গ্রামে এসেছে। ধীরে ধীরে কমছে। মানুষের যেহেতু আয় বাড়ছে, মানুষ এখন শাক সবজি, ফলমূল, ডিম, মাছ, মাংস— সেদিকেই বেশি যাচ্ছে।’

বাংলাদেশ এখন আর বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল নয় বলেও উল্লেখ করে তিনি। বলেন, ‘আমাদের উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে এখন আর ওইভাবে সাহায্য নিতে হয় না। বিদেশি অনেক অর্থনীতিবিদদের আমাদের নেত্রী আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন যে, বাংলাদেশ এসেছে এটা টিকে থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য আমরা কৌশলগত পরিকল্পনা করেছি। আমরা যখন সরকারে এসেছি তখন থেকেই এগুলো শুরু করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিজ্ঞানীরা বিআর-৬৭ নামে একটা জাত আবিষ্কার করেছে। ইনশাল্লাহ, এটা উপকূলীয় অঞ্চলেও উৎপাদন হবে। আমরা গমের জাত আবিষ্কার করেছি, যা উষ্ণ অবস্থার মধ্যে অর্থাৎ জলবায়ু পরিবর্তন হোক আর না হোক আমরা প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলা করার জন্য প্রস্ততি নিচ্ছি। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশে কৃষিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপ কমিটির চেয়ারম্যান ড. খন্দকার বজলুল হক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপ কমিটির সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন। বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য় অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, বাংলাদেশে সেন্ট্রার ফর এ্যাডভান্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক ড. আতিক রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাদেকা হালিম, সিনিয়র সাংবাদিক কাওসার রহমান। সঞ্চালনা করেন ব্যারিস্টার ফারজানা মাহমুদ।

Advertisement
Advertisement