রোববার   ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ||  ফাল্গুন ১৬ ১৪২৭ ||  ১৬ রজব ১৪৪২

ACI Agri Business

বোরো মৌসুমে ব্রি ধান ২৮ ও ২৯ এর বিকল্প নতুন দুই জাত

প্রকাশিত: ২৩:১৬, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮

প্রায় দুই যুগ ধরে বোরো মৌসুমে ব্রি ধান ২৮ এবং ব্রি ধান ২৯ এর উপর নির্ভরশীল কৃষকরা। দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ হওয়ায় রোগ-বালাই প্রতিরোধ ক্ষমতা হারাচ্ছে ধানের এ দুটি জাত। সাম্প্রতিক সময়ে ব্লাস্ট রোগের আক্রমণও তাই ইঙ্গিত করে বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা।

জাত দুটির প্রতিস্থাপন করতে নতুন অনেক জাত বের করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। তবে এখন পর্যন্ত তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি। সর্বশেষ গবেষণা সংস্থাটি আরো দুটি নতুন জাত উদ্ভাবনের কথা জানিয়েছে। জাত দুটির নামকরণ করা হয়েছে ব্রি ধান ৮৮ এবং ব্রি ধান ৮৯। 

ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের গবেষক ড.মো আলমগীর হোসেন বলেন, জাত দুটি বোরো মৌসুমের জন্য উচ্চ-ফলনশীল ধান।

এই দুটি ধানের জীবনকাল হবে বপন করা থেকে ধান কাটা পর্যন্ত ১৪৩ দিন। এর ফলন প্রতি হেক্টরে সাত টন হবে। ধানটি প্রথমে গবেষণাগারে পরীক্ষা করা হয়েছে। এরপর বাংলাদেশ এগ্রিকালচার রিসোর্স কাউন্সিলের টেকনিক্যাল কমিটিতে নতুন জাতের সফলতার অনুমোদন পেয়েছে বলে জানান ডা. আলমগীর হোসেন। এখন এটি জাতীয় বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সিতে চূড়ান্ত পর্যায়ে অনুমোদন হবে।

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের জৈব প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান ড. মোঃ এনামুল হক বলেন, ব্রিধান ২৮ এর বিকল্প হিসাবে ব্রিধান ৮৮ এবং ব্রিধান ২৯ এর বিকল্প হিসাবে ৮৯ জাতের নতুন দুটি জাতের ধান পাচ্ছে কৃষকরা। ড. এনামুলের মতে, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা উচিত। নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের পর এগুলোতে সহজে পোকা আক্রমণ করে না। রোগের সম্ভাবনাও কম।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ প্রজনন ও কৌলিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান বলেন, দশ বছরের বেশি একটি জাত চাষাবাদ করা উচিত নয়। এতে রোগ-বালাইসহ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারানোসহ প্রতিকূল পরিবেশে জাতটি দুর্বল হয়ে পড়ে। ব্রি ধান ২৮ এবং ২৯ জাত দুটি অনেক আগেই প্রতিস্থাপন হওয়া দরকার ছিলো। আশাকরি কৃষকরা নতুন জাতগুলোর দিকে আগ্রহী হবেন। 

বোরো মৌসুমে ৪১ ভাগ জমিতে ব্রিধান ২৮ এবং ২৪ ভাগ জমিতে ব্রিধান ২৯ জাতের ধান আবাদ হচ্ছে। জনপ্রিয় এই জাত দুটিই মোট আবাদি এলাকার ৬৫ ভাগ দখল করে থাকে। ১৯৯৪ সালে উদ্ভাবিত এ জাত দুটি এখনও কৃষকদের কাছে জনপ্রিয়। 

Advertisement
Advertisement