শুক্রবার   ০৭ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২২ ১৪২৭ ||  ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

ACI Agri Business

বোরো ধান নিয়ে ব্র্যাকের জরিপ প্রতিবেদন প্রত্যাখান ব্রি’র

প্রকাশিত: ২৩:৫৫, ৯ জুলাই ২০২০

‘বোরো ধানের উৎপাদনে কোভিড-১৯ এর প্রভাব’ নিয়ে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) পরিচালিত জরিপে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে দাবি করে এই জরিপের ফলাফল প্রত্যাখান করে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট-ব্রি। 

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে এ প্রতিবাদ পাঠায় প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, গত ৬ জুলাই ওয়েবিনারের মাধ্যমে উপস্থাপিত ব্র্যাকের জরিপ ফলাফল ও তার বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বোরোর উৎপাদন ও লাভজনকতা বিষয়ে অসঙ্গতিপূর্ণ এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য রয়েছে যা সংশোধনের প্রয়োজন বলে মনে করে ব্রি।

একটি র‌্যাপিড টেলিফোনিক জরিপ দিয়ে দেশের খাদ্য উৎপাদনের মতো একটি সংবেদনশীল বিষয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, বারবার করোনার কথা বলে কৃষকদের লিডিং প্রশ্নের মাধ্যমে উত্তরকে প্রভাবিত করা হয়েছে যা মানসম্মত জরিপের ক্ষেত্রে অগ্রহণযোগ্য।

উক্ত জরিপের সময়সীমা ছিল ২০ মে থেকে ০৩ জুন পর্যন্ত। জরিপে দেখানো হয়েছে ৭২ভাগ কৃষক জরিপ শুরুর আগেই ধান কাটা শেষ করেছেন। বাকী ২৮ ভাগ কৃষক মে মাসের ২০ তারিখেও ধান কাটা শেষ করতে পারেনি, স্পষ্টত এসব কৃষক লেট বা নাবী বোরো চাষী। বাংলাদেশের মাত্র ৫% জমিতে নাবী বোরো চাষ হয় যা সারাদেশের বোরো আবাদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব করে না। ফলে, গবেষণার জন্য কৃষক নির্বাচনে এই পক্ষপাতিত্ব গবেষণার ফলাফলকে অগ্রহণযোগ্য বা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলেও জানায় ব্রি। 

সারাদেশে কৃষকের প্রত্যাশার চেয়ে ফলন কমেছে একর প্রতি ৪.০২ মণ (৭%) এবং এতে করে  দেশে মোট উৎপাদন কমেছে ৪.৮২ কোটি মণ বা প্রায় ১৯ লক্ষ ২৮ হাজার টন (১০%)। জরিপের এমন ফলাফল প্রত্যাখান করে ব্রি জানায়, করোনাকালীন সময়ে যথাক্রমে ১৪টি কৃষি অঞ্চলে ধানের উৎপাদন, মজুদ ও দামের অবস্থা, হাওড় অঞ্চলে বোরো ধানের কর্তন পরিস্থিতি, ১৪টি কৃষি অঞ্চলে ১০৪৮টি কৃষকের মাঠে ফসল কর্তন এবং দক্ষিণে আম্ফানের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব সংক্রান্ত চারটি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। উক্ত গবেষণায় দেখা গেছে, এ বছর আবহাওয়া ধান চাষের অনুকূলে থাকায় বোরো ধানের ফলন অঞ্চলভেদে ৪-৭% এবং মোট উৎপাদন প্রায় ৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখ্য যে, গত বছর বোরোর গড় ফলন ছিল ৪.০৮টন/হেঃ (সূত্র: বিবিএস) এবং এবার ব্রির জরিপে গড় ফলন পাওয়া গেছে ৪.৩১টন/হেঃ। সুতরাং এটি বিআইজিডির প্রাপ্ত ৭% ফলন হ্রাসের তথ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। 

ফলন হ্রাসের কারণ হিসেবে করোনার প্রভাবজনিত সমস্যা যেমন- সময়মতো সার, কীটনাশক ও সেচ দিতে না পারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সারের প্রসঙ্গে ব্রি’র বক্তব্য, উদ্ভিদের শারীরবৃত্তিক বৃদ্ধির জন্য গাছে কাইচ থোড় আসার ৭-১০ দিন পূর্বেই সার দেয়া বন্ধ করতে হয় এবং ধানের কাইচ থোড় থেকে পাকা পর্যন্ত মোটামুটি ৬০ দিন সময় প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ এই ৭০দিন ধান গাছে কোন ধরনের সার প্রয়োগের প্রয়োজন নেই। এক্ষেত্রে যে ধান এপ্রিল-মে’তে কাটা হয়েছে তার সার প্রয়োগের সময় ২০ মার্চের পূর্বেই শেষ হয়েছে। আর যে সব ধান ১০ জুনের মধ্যে কাটা হয়েছে তার সার প্রয়োগের সময় ১ এপ্রিলেই শেষ হয়েছে। সেক্ষেত্রে করোনার প্রভাবে সার প্রয়োগ না করার কারণে ফলন কমার তথ্য যুক্তিসঙ্গত নয় বলেও মনে করে ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। 

তাছাড়া সার পাওয়া যায়নি বা সারের সংকট হয়েছে এ ধরনের তথ্য কোন গণমাধ্যম বা সারাদেশে আমাদের মনিটরিং টিমের কাছে প্রতীয়মান হয়নি। এমনকি করোনা মহামারীর এই সময়ে চলমান আউশের ক্ষেত্রেও কোন সার সংকট বা অপ্রতুলতার তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলেও দাবি তাদের।
 
পেস্টিসাইড সংকট বা না দেয়ার কারণে উৎপাদন কম হয়েছে তা শুধু বিভ্রান্তিকরই নয়, এবছর বোরোতে সারা দেশে কোথাও রোগবালাই আক্রমণের কারণে ফসলহানি হয়েছে এই ধরেনের কোন রেকর্ড নেই। এছাড়া শ্রম মজুরি বৃদ্ধি ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির মত বহুমাত্রিক সমস্যাকে কোভিড-১৯ এর প্রভাব হিসেবে সরলীকরণ করা হয়েছে। ধান কাটা মওসুুমে শ্রমিক সংকট ও শ্রম মজুরি বৃদ্ধিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে, যার করোনা মহামারীর সাথে এককভাবে সম্পর্কিত নয়।

করোনার কারণে কৃষকের লাভ ৪০% কম হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছর যেখানে বোরোতে ধানের দাম ছিল মণ প্রতি ৫৫০টাকা সেখানে এবার কৃষি বিভাগের ১৪টি অঞ্চল ও জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকদের পাঠানো তথ্যানুসারে সারা দেশে ৭০০ থেকে ৯৫০ টাকা দরে প্রতি মণ ধান বিক্রি হয়েছে। যা গত বারের বোরোর তুলনায় অনেক বেশি এবং এবার ধানের যা দাম পেয়েছেন তাতে কৃষকরা বেশ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। অন্য দিকে উক্ত গবেষণায় কীটনাশক ও ফসল কর্তনের খরচ গত বছরের তুলনায় কম হওয়ায় মোট উৎপাদন ব্যয় শতকরা ৪.১৭% হ্রাস পেয়েছে।  অতএব বোরো  আবাদে লাভ ৪০ ভাগ কম হয়েছে বলা বিভ্রান্তিরকর। 

ব্র্যাকের জরিপটিতে আরো অনেক অসঙ্গতি রয়েছে বলেও প্রতিবাদলিপিতে জানায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। 
 

Advertisement
Advertisement