সোমবার   ০১ জুন ২০২০ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৭ ১৪২৭ ||  ০৯ শাওয়াল ১৪৪১

বোরো ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন কৃষক - দাবি কৃষিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:০১, ১৪ মে ২০২০

এ্লাকা ভেদে ধানের দাম কমবেশি হলেও এবার বোরো ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন কৃষক। আজ অনলাইনে মন্ত্রণালয় থেকে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ের সময় এ কথা জানান কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি। মতবিনিময়ে বেশকিছু এলাকার ধানের বাজারদরের চিত্র তুলে ধরেন ড. রাজ্জাক।

মন্ত্রী জানান, মণ প্রতি সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০  টাকা দরে ধান বিক্রি হচ্ছে যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও মাগুরায়। সেখানে ধানের সর্বনিম্ন দাম সাড়ে ৮শ’ টাকা। এছাড়া কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া , চাঁদপুর জেলায় এক মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৬শ’ থেকে সর্বোচ্চ ৯শ’ টাকা, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় ৭শ’ থেকে ৯শ’ ২০ এবং কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরে ৬শ’ ৫০ থেকে ৯শ’ টাকায়। অন্যদিকে, হাওড় অঞ্চলের সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ , সুনামগঞ্জ  এবং নেত্রকোনা জেলায় মণ প্রতি ৬শ’ ৫০ থেকে  ৮শ’ টাকায় বোরো ধান বিক্রি হচ্ছে বলেও জানান কৃষিমন্ত্রী। তাঁর দাবি,  ময়মনসিংহ, বরিশাল , রাজশাহী অঞ্চলেও কৃষকেরা ধানের ভাল দাম পাচ্ছেন।

মন্ত্রী জানান, কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানোর জন্য কৃষিখাতে ৯ হাজার কোটি টাকা উপকরণ সহায়তায় ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। করোনা মহামারির কারণে কৃষিখাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে মাত্র ৪% সুদে কৃষকদের ১৯ হাজার ৫শ’ কোটি টাকার বিশেষ ঋণ প্রণোদনাও কৃষকের খরচ কমাতে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন ড. আব্দুর রাজ্জাক। 

সারাদেশে এ বছর ৪৭ লাখ ৫৪ হাজার ৪শ’ ৪৭ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে হাওরের শতভাগ এবং সারা দেশের শতকরা ৪৮ ভাগ ধান কাটা শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষকেরা সফলভাবে ধান ঘরে তোলার পাশাপাশি ধান বিক্রিতে ভাল দাম পাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, অঞ্চলভেদে ধানের বাজার দরের কমবেশী রয়েছে। তাছাড়া ভেজা ও শুকনা ধান এবং মোটা- চিকন ধানের দামেও পার্থক্য রয়েছে।  

কৃষকের ধানের ন্যায্য মূল্যপ্রাপ্তি এবং করোনা সময়কালে দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ লাখ মেট্টিক টন ধান, ১.৫ লাখ টন আতপ চাল, ১০ লাখ মেট্টিক টন সিদ্ধ চাল, এবং ৭৫ হাজার মেট্টিকটন গমসহ ২২ লাখ ২৫ হাজার মেট্টিক টন খাদ্যশস্য কিনবে সরকার। ড. রাজ্জাক বলেন, খাদ্যশস্য কেনার এ কর্মসূচিকে বিতর্কমুক্ত রাখতে উপজেলা কৃষি অফিসারের তত্ত্বাবধানে সারাদেশে ধান বিক্রয়কারী কৃষকের তালিকা তৈরি করে তা খাদ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কৃষকের ধান বিক্রয়ে যাতে সুবিধা হয় এজন্য ইউনিয়নে পর্যায়ে ২ হাজার ৬শ’ ৭৩টি আর্দ্রতা মাপার যন্ত্রও সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী।