মঙ্গলবার   ১১ মে ২০২১ ||  বৈশাখ ২৮ ১৪২৮ ||  ২৯ রমজান ১৪৪২

ACI Agri Business

দক্ষিণাঞ্চলে পর্যটন

বিশ্ব ঐতিহ্যের কৃষি পদ্ধতি ভাসমান সবজি চাষ

কৃষিবিদ শওকত ওসমান

প্রকাশিত: ২২:২১, ৭ আগস্ট ২০১৮

জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে কীভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যায় তার এক বড় উদাহরণ বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল। চাষ পদ্ধতি বদলে নিজেদের ভাগ্যই শুধু বদল করেননি, বাংলাদেশকে বিশ্ব ঐতিহ্যের আরও একটি স্বীকৃতি এনে দিয়েছেন তারা। পানিবন্দী কৃষকরা পানির উপরেই করছেন চাষবাস যার নাম ভাসমান পদ্ধতি। মূলত এই পদ্ধতিতে তারা উৎপাদন করে থাকেন শাক-সবজি।

দেশের বরিশাল, গোপালগঞ্জ ও পিরোজপুরের বেশ কয়েকটি উপজেলার কয়েক লাখ পানিবন্দি কৃষকের জীবনে বড় এক অভিশাপ হয়ে উঠেছিল এই জলাবদ্ধতা। বছরের বেশিরভাগ সময়ই কয়েক লাখ হেক্টর জমি তলিয়ে থাকে পানিতে। ফলে বেঁচে থাকার তাগিদে গড়ে উঠে বিকল্প এই চাষ পদ্ধতি। হাজার বছর ধরে চলে আসা এই ভাসমান সবজি চাষ পদ্ধতিটি ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ইউনিসেফ।

এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৫টি দেশের ৩৬টি কৃষিব্যবস্থা এই কৃষি ঐতিহ্য ব্যবস্থার স্বীকৃতি পেয়েছে। যার মধ্যে চীনের সবচেয়ে বেশি ১১টি, জাপানের আটটি, ভারতের তিনটি, দক্ষিণ কোরিয়ার দুটি এবং আলজেরিয়া, চিলি, কেনিয়া, মরক্কো, পেরু, ফিলিপাইন, তানজানিয়া, তিউনিসিয়া, ইরান ও আরব আমিরাতের একটি করে চাষপদ্ধতি এ গৌরব অর্জন করে।

বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলো সবসময়ই পর্যটকদের আকৃষ্ট করে এবং দেশী-বিদেশী পর্যটকদের সমাগমে স্থানীয় এবং দেশীয় অর্থনীতি যেমন উপকৃত হয় তেমনি বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়ে পরিচিতি। কৃষি ঐতিহ্যের এই পদ্ধতিকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলও কৃষি পর্যটনের একটি বড় জায়গা হতে পারে বলে মনে করেন কৃষি বিশেষজ্ঞ ড. জেড করিম। তাঁর মতে “স্থানীয় কৃষকরা ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে তাদের জীবনমানের উন্নতি ঘটিয়েছেন, তবে এটি আরো দ্রুত হবে যদি পর্যটকদের এসব জায়গায় আকৃষ্ট করা যায়। এজন্য যথেষ্ট্ প্রচারণা দরকার।”

কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. ওয়ায়েস কবির বলেন, কীভাবে একটি পদ্ধতি দারিদ্র জয় করতে পারে তা দেখিয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকরা। শুধু দারিদ্র নয়, অপুষ্টিও দূর করছে এই ভাসমান সবজি পদ্ধতি। কাজেই এর উপর যেমন দেশী-বিদেশী গবেষকরা কাজ করছেন, তেমনি একে পর্যটকদের জন্যও কীভাবে আকর্ষনীয় করা যায় তার কার্যক্রম হাতে নেয়া উচিত। “কৃষি পর্যটন নিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হবে। কারণ বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ এবং এখানকার কৃষকরা কীভাবে জীবনযুদ্ধ করছেন তাও বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার ব্যবস্থা করলে পর্যটকরা আকৃষ্ট হবেন।”

Advertisement
Advertisement