সোমবার   ২৫ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ১০ ১৪২৮ ||  ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ACI Agri Business

বিএডিসির বীজ ডিলারশিপে ঘুষের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:২১, ৩ অক্টোবর ২০২১

মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে বীজের ডিলার লাইসেন্স দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) নাটোর জেলার সহকারী পরিচালকের (বীজ) বিরুদ্ধে। রোববার দুপুরে তাঁর বিরুদ্ধে জেলার ১৭ জন বীজ ব্যবসায়ী নাটোরের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে এ অভিযোগ করেন। এদিকে, বীজের ডিলারশিপ দেয়ার জন্য এক ব্যবসায়ীর কাছে একজন সরকারি কর্মকর্তার ঘুষ চাওয়ার ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, করপোরেশনের বীজ বিতরণ বিভাগ ২ আগস্ট ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য বীজ ডিলার লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন বীজ ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ৩০ সেপ্টেম্বর ছিল আবেদনের শেষ সময়। ১৬৫ জন বীজ ব্যবসায়ী লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেন।কিন্তু নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই নাটোরের অপেশাদার ১১০টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স সরবরাহ করেছে বিএডিসি।

জেলা প্রশাসক শামীম আহম্মেদ অভিযোগটি গ্রহণ করেন এবং অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান। এ সময় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বীজ ব্যবসায়ী গোলাম কিবরিয়া, কামরুল ইসলাম, তোহরাব হোসেন ও জাহিদুল ইসলাম।


অভিযোগে বলা হয়, বিএডিসি নাটোর জেলার সহকারী পরিচালক (বীজ) মোহাম্মদ শাহজাহান মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে অপেশাদার নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্সের জন্য সুপারিশ করেছেন। ঘুষের টাকা না দেওয়ায় তিনি প্রকৃত বীজ ব্যবসায়ীদের লাইসেন্সের জন্য সুপারিশ করেননি।

এ ছাড়া বিএডিসির রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক (বীজ) দেলোয়ার হোসেনের পক্ষে সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা হেদায়েতুল্লাহ খোকন নাটোরের প্রকৃত বীজ ব্যবসায়ীদের কাছে ফোন করে লাইসেন্স দেওয়ার কথা বলে ঘুষ দাবি করেন। নাটোরের বড়াইগ্রামের একজন ব্যবসায়ীর কাছে তাঁর ঘুষ চাওয়ার ফোনকল রেকর্ড ব্যবসায়ীদের কাছে সংরক্ষিত আছে বলেও ব্যবসায়ীরা তাঁদের অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন। ইতিমধ্যে রেকর্ডটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। 

বিএডিসি নাটোর জেলার সহকারী পরিচালক (বীজ) মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, তাঁর একার পক্ষে জেলার সব ডিলারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে যাচাই–বাছাই করা সম্ভব হয়নি। তাই তিনি প্রায় সব আবেদনকারীর আবেদনে সুপারিশ করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁদের মধ্য থেকে ১১০ জনকে মনোনীত করেছেন। এ ব্যাপারে তাঁর কিছুই করার ছিল না। ঘুষের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। আমি কারও কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ করিনি।’

Advertisement
Advertisement