বৃহস্পতিবার   ২৪ অক্টোবর ২০১৯ ||  কার্তিক ৮ ১৪২৬ ||  ২৪ সফর ১৪৪১

বাকৃবি`র ২৪তম উপাচার্য ড. লুৎফুল হাসান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:৩৫, ৩১ মে ২০১৯

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বিজ্ঞানী  ড. লুৎফুল হাসান। তিনি বৃহস্পতিবার (৩০ মে) দুপুরে ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন। লুৎফুল হাসান সদ্যবিদায়ী উপাচার্য মো. আলী আকবরের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

আগামী চার বছরের জন্য ড. লুৎফুল হাসানকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য যার প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হয় বৃহস্পতিবার।  

ড. লুৎফুল হাসান ১৯৫৬ সনের ২৮ জানুয়ারি বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার নয়াবাড়ী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা বিশিষ্ট সমাজসেবি মরহুম আবুল হাসান ও মাতা ফাতেমা বেগম।

শিক্ষা জীবনে কৃতিত্বের অধিকারী লুৎফুল হাসান ১৯৭৬ সনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদ থেকে কৃতিত্বের সাথে বিএসসি ইন এগ্রিকালচার -অনার্স (প্রথম শ্রেণীতে চতুর্থ)এবং ১৯৭৭ সালে এমএসসি ইন জেনেটিক্স অ্যান্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিং ডিগ্রী (প্রথম শ্রেণীতে প্রথম) লাভ করেন।

পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অভ ওয়েলস থেকে ১৯৮৯ সনে কমনওয়েলথ স্কলার হিসাবে পিএইচ.ডি ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৯৫ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় হতে রয়েল সোসাইটি স্কলার হিসাবে পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা করেন এবং১৯৯৬ সালে জাপান সোসাইটি ফর দি প্রোমোশান অব সাইন্স ফেলো হিসাবে তিনি জাপানের মিয়াজাকি বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্ট ডক্টরাল গবেষণা করেন।

১৯৯৯-২০০১ সালে আলেকজ্যান্ডার ভন হামবোল্ট ফাউন্ডেশন ফেলো হিসাবে জার্মানীর গুটিনগেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্ট ডক্টরাল গবেষণা করেন। ২০০৬ সালে নরম্যান ই বোরলগ সাইন্স এন্ড টেকনোলজি ফেলো হিসাবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করেন। ২০১৫ সালে রিসার্চ ম্যানেজমেন্টে বিশেষ অবদানের জন্য অষ্ট্রেলিয়ার জন ডিলন মেমোরিয়াল ফেলো অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।

অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগে লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সনে সহকারী অধ্যাপক, ১৯৯১ সনে সহযোগী অধ্যাপক ও ১৯৯৫ সনে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। এ ছাড়াও তিনি ২০০২ সনে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি বিভাগে খন্ডকালীন অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ড. লুৎফুল হাসান বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ওর্য়াকশপ ও কনফারেন্সে যোগদান করে গবেষণালব্ধ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন এবং বিভিন্ন টেকনিক্যাল সেশনে চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি গবেষণা ও শিক্ষা সংক্রান্ত কাজে পৃথিবীর বহু দেশ ভ্রমণ করেছেন। তাঁর কৃষিসংশ্লিষ্ট ৫টি বইসহ ১৬৬টি গবেষণামূলক প্রবন্ধ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্ণালে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি শতাধিক এম.এস ও ২২জন পিএইচ.ডি ছাত্র-ছাত্রীর গবেষণা সুপারভাইজার হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।এছাড়াও তিনি ৩০টি দেশি-বিদেশি গবেষণা প্রকল্প সফলভাবে পরিচালনা করেছেন।

বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অধিকারী ড. লুৎফুল হাসান কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রধান, শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব হলের প্রভোস্ট, আহবায়ক প্রভোস্ট পরিষদ, পরিচালক বাউরেস, কো-অর্ডিনেটর উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা কমিটি ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কৃষি বিশেষজ্ঞ হিসেবে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে কাজ করেছেন।

একজন নিবেদিত প্রাণ শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শিক্ষক সংগঠন গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের সভাপতি, ক্রপ সায়েন্স সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি, বাংলাদেশ জেএসপিএস অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি, সদস্য বাংলাদেশ সরকারের পে এন্ড সার্ভিস কমিশন ২০১৪, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ফর বায়োটেকনলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। 

ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সরাসরি যুক্ত ছিলেন ড. লুৎফুল হাসান। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ এর সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, শহীদ শামসুল হক হল ছাত্র সংসদের ভিপি এবং কৃষি অনুষদ ছাত্র সমিতির ভিপি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন বাকৃবির ২৪তম উপাচার্য ড. লুৎফুল হাসান।