সোমবার   ০১ জুন ২০২০ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৭ ১৪২৭ ||  ০৯ শাওয়াল ১৪৪১

ফিডে পাটের মোড়ক ব্যবহার হবে আত্মঘাতী - ফিআব

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৮:৫৯, ১৭ আগস্ট ২০১৮

পোল্ট্রি এবং ফিশ ফিডে পাটের মোড়ক ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে আত্মঘাতী এবং হঠকারী সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন পোল্ট্রি শিল্পের নেতারা। তাঁদের মতে, ফিডে পাটের মোড়ক ব্যবহার করে এর মান নিয়ন্ত্রণ করা কোনভাবেই সম্ভব নয় এবং বিশ্বের কোথাও পোল্ট্রি ও ফিশ ফিডের মোড়কে পাটের বস্তা ব্যবহার হয় না।

পোল্ট্রি ও ফিশ ফিডের মোড়কে পাটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে গত ১২ আগস্ট একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। এর প্রতিবাদ জানিয়ে ফিড উৎপাদনকারীদের সংগঠন ফিড ইন্ডাষ্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ফিআব) নেতারা বলছেন- পৃথিবীর কোথাও এ ধরনের আইন নেই। কারণ পাটের বস্তায় ফিডের মান রক্ষা করা সম্ভব হয় না, স্বল্পতম সময়ে পচন ধরে, ফলে তা মাছ ও মুরগির খাবার হিসেবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।  এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে পোল্ট্রি এবং ফিড খাত ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে।

ফিআব সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, এভাবে মোড়কীকরণ করলে সর্বোচ্চ ১০ দিন পর্যন্ত ফিড সংরক্ষণ করা সম্ভব। আমাদের দেশে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমান অনেক বেশি, বর্ষার সময় তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে। বাতাসের সংস্পর্শে এলে ফিডে ছত্রাকের সংক্রমণ ঘটে এবং ফিড বিষাক্ত হয়ে পড়ে। আর মিল থেকে খামারী পর্যন্ত ফিড পৌছাতেই এক সপ্তাহ লেগে যায়। কাজেই এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অবাস্তব এবং অবৈজ্ঞানিক।

“পাটের বস্তায় ফিডের মোড়ক কতটুকু বাস্তবসম্মত তা চিন্তা না করে এবং এই শিল্প সংশ্লিষ্টদের সাথে কোন ধরণের আলোচনা না করেই এ ধরণের একটি বড় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমি মনে করি, এটি একটি হঠকারী, আত্মঘাতী এবং এক তরফা সিদ্ধান্ত। যারা এটি করেছেন তারা এর পুনবিবেচনা করবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি” বলেন মসিউর রহমান।

ফিআব সাধারণ সম্পাদক মো: আহসানুজ্জামান বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাই। ফিড প্রস্তুতকারকগণ অনেক আগে থেকেই সরকারের এ নীতি অনুসরণ করে আসছেন। প্রত্যেকটি ফিড মিলের বিভিন্ন ক্যাটাগরির ফিড থাকে এবং তার জন্য আলাদা আলাদা ব্যাগ থাকে। ব্যাগ গুলোতে আইন অনুযায়ী ফিডের উপকরণসহ অনেক তথ্য দিতে হয়, যা পাটের বস্তায় দেয়া সম্ভব নয়। “আমরা প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহার করেও বর্ষকালে ফিডের আদ্রতা ঠিক রাখা নিয়ে হিমশিম খাই, সেখানে পাটের বস্তায় এটা নিয়ন্ত্রণ করা কীভাবে সম্ভব – প্রশ্ন রাখেন আহসানুজ্জামান। তিনি বলেন, আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই মৎস্য এবং পোল্ট্রি খাতকে রক্ষার জন্য এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য।

বাংলাদেশের পোল্ট্রি এবং ফিশ ফিডে প্রতিমাসে গড়ে প্রায় দেড় কোটি বস্তার প্রয়োজন হয়। সাধারণত ৫০ কেজি ধারণ ক্ষমতার একটি পিপি ওভেন বস্তা যা বর্তমানে ব্যবহার করা হয় তার দাম পড়ে মাত্র ১৫-২০ টাকা। সেখানে একটি পাটের বস্তার দাম প্রায় ৫০-৬০ টাকা। পাটের বস্তায় ফিড রেখে এর মান নিয়ন্ত্রণ করাই যেখানে অসম্ভব সেখানে এসব আর্থিক লাভ-ক্ষতির হিসাবের কোন প্রশ্ন আসে না, বলেন ফিআব এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাইফুল আলম খান।  বলেন, সিদ্ধান্তটি যদি বাস্তবসম্মত এবং বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত হতো তাহলে আমাদের মেনে নিতে কোন আপত্তি ছিলো না। কিন্তু অবাস্তব এ সিদ্ধান্ত শুধু ফিড ইন্ডাস্ট্রি নয়, খামারী পর্যায়ে এর প্রভাব পড়বে।  তাই সিদ্ধান্তটি সরকারের ভেবে দেখা উচিত, বলেন সাইফুল আলম খান।

ফিআব নেতারা জানান, প্রজ্ঞাপন জারির পরের দিনই বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী কাছে প্রতিবাদ জানিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে ফিআব।  

পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০’ এর ধারা ২২ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার বিধিমালা, ২০১৩ এর অধিকতর সংশোধন করে পোল্ট্রি ও ফিস ফিড সংরক্ষণ ও পরিবহনে পাটের বস্তার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দেয়। এর মাধ্যমে মোট ১৯টি পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়