মঙ্গলবার   ১৯ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ৫ ১৪২৭ ||  ০৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ACI Agri Business

পোল্ট্রিতে অ্যান্টিবায়োটিকের অযাচিত ব্যবহার বন্ধের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩:০৮, ২৩ নভেম্বর ২০২০

মানুষ ও পশুপাখিতে অ্যান্টিবায়োটিকের অযাচিত ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সরকারের প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ও ডিরেক্টরেট জেনারেল অব হেলথ সার্ভিসেস। দেরি না করে এখনই ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। 

সোমবার (২৩ নভেম্বর) বিশ্ব অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল সচেতনতা সপ্তাহ-২০২০ উদযাপন উপলক্ষে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), বাংলাদেশ এএমআর রেসপন্স অ্যালায়েন্স (বিএআরএ) এবং বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) অনুষ্ঠিত এক যৌথ আলোচনা সভায় (ভার্চুয়াল) এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। 

সভায় ডিরেক্টরেট জেনারেল অব হেলথ সার্ভিসেসের প্রোগ্রাম ম্যানেজার অনিন্দ রহমান বলেন, ইতোমধ্যে অনেকগুলো অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়ে গেছে। রিজার্ভড অ্যান্টিবায়োটিকগুলোও সহজেই ব্যবহার করা হচ্ছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নতুন কোনো কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক উদ্ভাবন করা না গেলে সংকট ঘনীভূত হবে বলে আশংকা প্রকাশ করেন তিনি। জীবন রক্ষাকারী রিজার্ভড অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও), বাংলাদেশ অফিসের এসেনসিয়াল ড্রাগস অ্যান্ড আদার মেডিসিনের টেকনিক্যাল অফিসার মোহাম্মদ রামজি ইসমাইল বলেন, পশুপাখি, মানুষ আমরা সকলেই একই পরিবেশ, মাটি ও পানি ব্যবহার করছি। কাজেই একের অপরিমাণদর্শী পদক্ষেপ অন্যের বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, হাত বাড়ালেই যেখানে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া যায় সেখানে আমদানি কিংবা উৎপাদনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন। অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত ডিম ও মাংস উৎপাদনে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ জন্য খামারে জীবনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, খামার ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে হবে এবং সকল অনিবন্ধিত পিএস ফার্ম, হ্যাচারি, ফিড মিলগুলোকে অবশ্যই সরকারি নীতিমালার আওতায় আনতে হবে নতুবা বন্ধ করতে হবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. শেখ আজিজুর রহমান বলেন, আমরা সামনের দিকে এগোতে চাই, সুস্থ-সবল জাতি গড়তে চাই। কিন্তু সরকারের একার পক্ষে এ কাজ করা সম্ভব নয়। তাই সরকার, বেসরকারি উদ্যোক্তা, উন্নয়ন সহযোগীসহ সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। এ মাসেই এলডিডিপি প্রকল্পের আওতায় কোভিড মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের নগদ সহায়তা দেয়া শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। 

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার কর্মকর্তা ডা. কামরুন নাহার বলেন, কৃষির উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবং গবাদি পশুপাখির রোগবালাই প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স ও এ বিষয়ে দক্ষ জনবল তৈরিতে কাজ করছে এফএও।

ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, মানুষ ও পোল্ট্রিতে অ্যান্টিবায়োটিকে ব্যবহার নিয়ে এফএও এবং বিএআরএ গাইডলাইন তৈরি করেছে। শিগগিরই মৎস্য খাতের জন্যও অনুরূপ একটি গাইডলাইন তৈরি করা হবে।

বিপিআইসিসির সহ-সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ বলেন, বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পে গুণগত পরিবর্তন এসেছে। দেশে উৎপাদিত মৎস্য ও পশুখাদ্যে এখন প্রোবায়োটিক, প্রিবায়োটিক এবং অ্যান্টিবায়োটিক-অলটারনেটিভ ফিড এডিটিভস এর ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্যানারির বর্জ্য কিংবা হেভিমেটাল নিয়ে যে সমস্যাগুলো ছিল তা অনেকটাই কমে এসেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের পোল্ট্রি ফিড ভারত ও নেপালে রফতানি হচ্ছে। ডিম, একদিন বয়সী মুরগির বাচ্চা এবং পোল্ট্রির মাংস ও মাংসজাত প্রোডাক্ট রফতানিরও চেষ্টা চলছে।

ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাংলাদেশ শাখা) সভাপতি আবু লুৎফে ফজলে রহিম খান শাহরিয়ার বলেন, দেশে অনেক অনিবন্ধিত ফিড মিল আছে এছাড়াও টোল ম্যানুফ্যাকচারিং হচ্ছে- যেখানে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার হচ্ছে কি না কিংবা কি হারে হচ্ছে সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই। এগুলো অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। সবার আগে বাস্তব পরিস্থিতি জানতে হবে। কীভাবে, কোথায় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার হচ্ছে জেনে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে।

সভা সঞ্চালনা করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর (খামার) ড. এ বি এম খালেদুজ্জামান এবং এফএও কর্মকর্তা রাহাত আরা করিম।  

অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন সিলেটের জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতিকুর রহমান, এসিআইর বিজনেস ডিরেক্টর, শাহীন শাহ।


 

Advertisement
Advertisement