শনিবার   ২৮ নভেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১৩ ১৪২৭ ||  ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

ACI Agri Business

পার্বত্য অঞ্চলে মাছ চাষে পরিবর্তন; একনেকে পাশ হয়েছে ক্রিক পদ্ধতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:৫১, ৩১ অক্টোবর ২০২০

পার্বত্য অঞ্চলে মৎস্য উৎপাদনে আমূল পরিবর্তন আনা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি। ক্রিক ব্যবস্থাপনায় মাছ চাষ ইতোমধ্যে একনেকে পরিকল্পনা পাশ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। 

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাঙামাটিতে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি)-এর কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণন কেন্দ্রে কাপ্তাই হ্রদে বিএফডিসি'র কার্যক্রম অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা জানান।

সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশের মৎস্য উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। এ পরিবর্তন শুধু দেশেই নয়, বহির্বিশ্বেও আমাদের সম্মান বৃদ্ধি করেছে। মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে, ইলিশ উৎপাদনে অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে। তিনি মনে করেন দেশের বদ্ধ জলাশয় থেকে শুরু করে ছোট খাল, হাওর-বাওর, লেক, বিল সর্বত্রই মাছের চাষ হবে।" 

তিনি আরো বলেন, "মৎস্য ব্যাবস্থাপনাকে কীভাবে আরো উন্নত করা যায় সেটা সরেজমিনে দেখার জন্য আমরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছি। কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণ বন্ধকালে অতীতে কখনো মৎস্যজীবীদের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হতো না। এবছর লেকে মৎস্য আহরণ বন্ধকালে মৎস্যজীবীদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। আগামীতেও এটা অব্যাহত থাকবে।" 

এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, "কাপ্তাই হ্রদে অতীতের চেয়ে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। ১২ হাজার ৬ শত মেট্রিক টনের ঊর্ধ্বে এবার উৎপাদন হয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে কাপ্তাই হ্রদে মাছের উৎপাদন ১৫ হাজার মেট্রিক টনের ঊর্ধ্বে চলে যাবে। এতে করে এ অঞ্চলের মানুষ যেমন মাছ পাবে, তাদের পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা পূর্ণ হবে, এ মাছ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে তাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসবে। আমাদের এখনকার লক্ষ্য কাপ্তাই হ্রদের ব্যবস্থাপনা। যাতে হ্রদের পরিবেশ দূষণ না হয়, অবৈধভাবে এখান থেকে মা মাছ বা পোনা মাছ যাতে কেউ ধরতে না পারে। আমরা পরিকল্পিতভাবে কাপ্তাই হ্রদকে আরো উন্নত ও সমৃদ্ধ করে এর ঐতিহ্য বাড়াবো। মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি করবো।"

অবৈধ মাছ আহরণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যে জাল দিয়ে মাছের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ছোট মাছ ধরা পড়ে, মাছের পোনা নষ্ট হয়-এ জাতীয় কোনো জাল দিয়ে মাছ ধরতে দেয়া হবে না বলে সেইসাথে যারা অবৈধ জাল ব্যবহার করবে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। মোবাইল কোর্টে তাদের সর্বনিম্ন সাজা হবে এক বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানাও হতে পারে বলেন জানান তিনি। 

সারাদেশে খাঁচায় মাছ চাষকে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং ক্রিক ব্যবস্থাপনায় মাছ চাষ ইতোমধ্যে একনেকে পরিকল্পনা পাশ হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

পরে কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন তিনি। এরপর রাঙামাটি জেলায় মৎস্য অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কার্যক্রম পরিদর্শন এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের রাঙামাটি নদী উপকেন্দ্রের গবেষণা অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় যোগ দেন মন্ত্রী। 

বিএফডিসি'র চেয়ারম্যান কাজী হাসান আহমেদের সভাপতিত্বে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভায় অন্যান্যের মধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ তৌফিকুল আরিফ, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস্ আফরোজ, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ, বিএফডিসি'র পরিচালক রশিদ আহমদ, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশীদ, বিএফডিসি'র কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক তৌহিদুল ইসলাম, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা উপমা, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শহীদুজ্জামান মহসীন উপস্থিত ছিলেন।
 

Advertisement
Advertisement