বুধবার   ১৫ জুলাই ২০২০ ||  আষাঢ় ৩১ ১৪২৭ ||  ২৪ জ্বিলকদ ১৪৪১

ACI Agri Business

পাঞ্জাবে উদ্ভাবিত ‘এগ ড্রিংকস’ বা ডিমের পানীয় বাংলাদেশেও সম্ভব

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১:৪২, ৩১ অক্টোবর ২০১৮

ডিমকে বলা হয় সুপার ফুড। অথচ সহজলভ্য পুষ্টিকর এই ডিম খেতেও অনেকের অনীহা। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের। এই অনীহা ও অনাগ্রহের কথা চিন্তা করেই ভারতের পাঞ্জাবের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা উদ্ভাবন করেছেন ডিমের পানীয় বা এগ ড্রিংকস। কারণ পানীয় আকারে ডিম খাওয়াতে আগ্রহী হবেন শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষ।

গেলো বছর পাঞ্জাবের লুদিয়ানায় আঙদ গুরু দেব ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন মেলায় এ ড্রিংকস উপস্থাপন করা হয় ভোক্তাদের জন্য। ডিমের এই পানীয়তে ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন ফ্লেভার যার মধ্যে রয়েছে আম, আনারস, কমলা, পেয়ারা, লিচু ও নারিকেল। অর্থাৎ ডিমের পানীয় খেলেও স্বাদে তা হবে ব্যবহৃত ফ্লেভারের মত।

এগ ড্রিংকস উদ্ভাবনকারী আঙদ গুরু দেব ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. মানিশ চ্যাটলি জানান, ডিমের কুসুম ও সাদা অংশের সাথে চিলড ওয়াটার এবং ফ্লেভার মিশিয়ে তারা এগ ড্রিংকসটি তৈরি করেছেন, চাইলে পানির পরিবর্তে দুধও ব্যবহার করা যেতে পারে। আর সাধারণ ড্রিংকসের চেয়ে পুষ্টিগুণে ডিমের পানীয় অনেক স্বাস্থ্যসম্মত কারণ ২০০ মিলি লিটার এগ ড্রিংকস থেকে ৩-৫% প্রোটিন, ২-৩% ফ্যাট এবং ১১৫ থেকে ১২৫ ক্যালরি শক্তি পাবেন ভোক্তারা - বলেন ড. মানিশ।

তিনি বলেন, অনেকে ডিমের গন্ধ পছন্দ করেন না, তাই আমরা বিভিন্ন ফ্লেভার ব্যবহার করেছি। ফেলে ভোক্তাদের কাছে এটি অন্য ড্রিংকসের মতই স্বাদের হবে। পার্থক্য হবে সুপার ফুডের পুষ্টিগুণ। পশুপালন মেলায় ভোক্তারা ব্যাপক সাড়া দিয়েছেন বলেও জানান এগ ড্রিংকসের উদ্ভাবক।

ইতোমধ্যেই এগ ড্রিংকস প্রযুক্তি লুদিয়ানার দুই উদ্যোক্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যারা বাণিজ্যিকভাবে এর উৎপাদন ও বাজারজাত করছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশের পোল্ট্রি বিজ্ঞানী ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, বৈজ্ঞানিকভাবে এ ধরণের ড্রিংকস উৎপাদন সম্ভব। এটি বাংলাদেশেও করা যেতে পারে, কারণ এখানকার মানুষেরও ডিম খেতে অনীহা রয়েছে। “ন্যূনতম চাহিদা অনযায়ীও আমরা ডিম খাচ্ছি না, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের এটি বেশি প্রয়োজন। যদিও পানীয় আকারে ডিম খাওয়ানো যায় তাহলে এটি জনপ্রিয় হতে পারে। যেহেতু পানীয় পরিবহণ সহজ এবং যখন তখন খাওয়া যাবে কাজেই আমাদের এখানেও এ ধরণের ড্রিংকস চালু করা যায় কী না তা উদ্যোক্তারা ভেবে দেখতে পারেন” বলেন ড. রফিকুল।

পাঞ্জাবের এ উদ্ভাবনের পর এগ ড্রিংকস নিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে বাংলাদেশের একটি পোল্ট্রি পণ্য বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান। প্রাথমিকভাবে তারা সফলও হয়েছেন। তবে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বাণিজ্যিকভাবে এটি কতটুকু সফল হবে এবং ভোক্তারা এটি গ্রহণ করবেন কী না তা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

Advertisement
Advertisement