রোববার   ২৯ মার্চ ২০২০ ||  চৈত্র ১৫ ১৪২৬ ||  ০৪ শা'বান ১৪৪১

পরিবেশে অতিরিক্ত কার্বনে কমছে চাল-গমের পুষ্টি

প্রকাশিত: ২৩:২৭, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

পরিবেশে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় জীবনঘাতী রোগবালাইয়ের আক্রমণই শুধু বাড়ছে তাই নয়,কমে যাচ্ছে খাদ্যশস্যের পুষ্টি গুণ।  গম থেকে চাল পর্যন্ত সব খাবারের পুষ্টিগুণ কমে গিয়ে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারে, সম্প্রতি এমন আশংকা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। সোমবার এ সংক্রান্ত গবেষণার প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিজ্ঞানীরা বলেন, প্রধান খাদ্যশস্যের মধ্যে কার্বন ডাই অক্সাইড মিশ্রিত হয়ে ১৭ শতাংশ পুষ্টি কমে গেছে। খবর রয়টার্সের। 

গবেষকরা জানান, কার্বন নিঃসরণ ও বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে খাদ্য উৎপাদন ব্যহত হয়। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে খরা ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ তৈরি হওয়া উৎপাদিত খাদ্য রক্ষাও খুব কঠিন। গবেষণা দলের সদস্য ম্যাথিউ স্মিথ বলেন, তারা যদি গম থেকে ৫ শতাংশ আয়রন কিংবা জিংক হারান, তবে সেটা শরীরে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। হার্ভার্ড টিএইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ এর সহযোগী গবেষক আরও বলেন, কার্বন ডাই অক্সাইডের কারণে গাছ তাড়াতাড়ি বড় হয়ে যায় এবং পুষ্টি কম থাকে।

দুই বছর আগে কার্বনের নিঃসরণের মাত্রা কমাতে একমত হয়েছিলো প্রায় ২০০টি দেশ। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০৫০ সালের মধ্যে ৩০ কোটি মানুষ জিংক ও প্রোটিন ঘাটতিতে ভুগবে আর ‌১৪০ কোটি নারী ও শিশু আয়রনের অভাবে থাকবে। আর এইসব কিছুরই কারণ হচ্ছে কার্বন নিঃসরণ। অল্পবয়সে মৃত্যু ও রোগের ঝুঁকিতে থাকবে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ।

আর ৫০ বছরের মধ্যেই আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় বিশ্বের গরীবতম দেশগুলোতে এমন কম পুষ্টির শস্য উৎপাদিত হতে থাকবে। বিশেষ করে যেগুলো কার্বন ডাই অক্সাইডের ওপর বেশি নির্ভরশীল। যেমন গম ও চাল।

স্মিথ বলেন, যে সকল মানুষের শরীরে জিংকের অভাব রয়েছে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। তারা ম্যালেরিয়া ও ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করতে পারে। আর আয়রনের অভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় গর্ভবতী নারী ও সদ্যজাত শিশু। আর প্রোটিন বা আমিষের অভাবে আরও মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য, জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয় অধ্যাপক ম্যারিয়ন নেসলে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। এটা আবারও প্রমাণ করলো যে আমাদের কার্বন নিঃসরণ কমানো উচিত।‘ আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার মতে, গত বছরে বৈশ্বিকভাবে ৩২ দশমিক ৫ গিগাটন কার্বন নিঃসরণ হয়েছে।

এর আগে ২০১৪ সালে অন্য বিজ্ঞানীদের আরেকটি গবেষণায় আশংকা প্রকাশ করা হয়েছিলো ২০৫০ সাল নাগাদ খাদ্যশস্যে আয়রন, জিঙ্ক ও প্রোটিনের পরিমাণ প্রায় ১০ শতাংশ কমে যাবে। অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রে ৪১ ধরনের খাদ্যশস্য ও মটরজাতীয় ফসলের ওপর প্রায় দুই দশকের গবেষণা শেষে তাঁরা এ তথ্য জানিয়েছিলেন।  

পৃথিবীর প্রায় ২০০ কোটি মানুষের আয়রন ও জিঙ্কের চাহিদা মেটে ওই সব খাদ্যশস্য থেকে। বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এখনই এই দুটি খাদ্য উপাদানের অভাবে ভুগছে। এগুলোর অভাবে বছরে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ছয় কোটি ৩০ লাখ। 

কার্বন ডাই-অক্সাইড বৃদ্ধির কারণে খাদ্যের পুষ্টিগুণ আরো কমে গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে বলে বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা। কারণ পুষ্টির অভাব মেটাতে বেশি করে খেলে স্থূলতা আর পেটের পীড়ার সমস্যা প্রবল হবে। তবে আশার কথাও শুনিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ পরীক্ষায় বিজ্ঞানীরা বেশ কয়েক জাতের ধান পেয়েছেন, কার্বন ডাই-অক্সাইডের বৃদ্ধি সত্ত্বেও যেগুলোতে পুষ্টি উপাদানের হার সন্তোষজনক।