মঙ্গলবার   ২৭ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ১১ ১৪২৭ ||  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ACI Agri Business

পরিকল্পনার দিকপাল এক কৃষি অর্থনীতিবিদ

প্রকাশিত: ০১:৪০, ৪ মে ২০২০

পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য কৃষিবিদ ড. শামসুল আলম। ছবি: সংগৃহীত

পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য কৃষিবিদ ড. শামসুল আলম। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের কৃষি ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রথম সারিতেই যার নাম আসে তিনি ড. শামসুল আলম। অর্থনীতিতে বিশেষ অবদানের জন্য এ বছর পেয়েছেন একুশে পদক। সাড়ে তিন দশক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করেছেন, তারপর যোগ দিয়েছেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে। মাঝে জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচীতেও পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এই কৃষিবিদ। টানা তিনবার দেশের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার কাজটিও করে যাচ্ছেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগে জ্যেষ্ঠ সচিব পদমর্যাদায় ২০০৯ সাল থেকে কর্মরত কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সাবেক এই সভাপতি। 

শামসুল আলমের জন্ম ১৯৫১ সালের ১লা জানুয়ারি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায়। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বর্তমান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে ১৯৬৫ সালে কৃষি অর্থনীতিতে স্নাতক ও ১৯৭৩ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন শামসুল আলম। পরে ১৯৮৩ সালে ব্যাংককের থাম্মাসাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ও ১৯৯১ সালে ইংল্যান্ডের নিউ ক্যাসেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন এই কৃষি অর্থনীতিবিদ।

ড. শামসুলের কর্মজীবন শুরু হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে। ১৯৭৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ও্ই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করা এই কৃষিবিদ  ২০০২ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচীতে বাংলাদেশি কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া, ২০০৮ সালে তিনি জার্মানির হুমবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়, বেলজিয়ামের ঘেণ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং অধ্যাপক এবং নেদারল্যান্ডের ওয়াগিনেঞ্জেন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড রিচার্সে ইরসমাস মুন্ডুস স্কলার হিসেবে কাজ করেন।এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাকাল্টি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন ড. শামসুল।

২০০৯ সালের ১ জুলাই তাঁকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রেষণে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হওয়া ড. শামসুল শিক্ষকতা থেকে অবসরে যান ২০১৬ সালে। তার আগে ২০১৫ সালে কমিশনের সদস্য থাকাবস্থায় তাকে জ্যেষ্ঠ সচিব করা হয়। কমিশন সদস্য হিসেবে তার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর কয়েকবার তার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২০ জুন পুনরায় তিন বছরের জন্য তাঁকে নিয়োগ দেয় সরকার।

‘বাংলাদেশের প্রথম প্রেক্ষিত পরিকল্পনা’ (২০১০-২০২১) ও ‘ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা’ (২০১১-২০১৫) প্রণয়ন করেন পরিকল্পনা কমিশনের এই সদস্য।তিনি ‘বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন কৌশলপত্র’ (২০১১-২০২১) ও ‘সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলপত্র’ (২০১৫-২০২৫) নীতিমালা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জন বিষয়ক বেশ কিছু প্রতিবেদন, অধ্যয়ন ও গবষণা গ্রন্থ সরাসরি তত্ত্বাবধান ও সম্পাদনা করেছেন ড. শামসুল আলম।

শামসুল অর্থনীতি বিষয়ক ১২টি গ্রন্থ রচনা করেন যার মধ্যে গবেষণা ও পাঠ্যপুস্তক অন্তর্ভূক্ত।এছাড়ও তিনি ১৮টি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন ও তার ৪৮টি গবেষণা প্রতিবেদন বিভিন্ন সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

২০১৮ সালে তাঁকে ইকনোমিস্ট অব ইনফ্লুয়েন্স পুরস্কারে ভূষিত করে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ইকনোমিক মডেলিং। এছাড়াও একই বছর তিনি বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতি স্বর্ণপদক, বাংলাদেশ শিক্ষা পর্যবেক্ষণ সোসাইটি কর্তৃক ‘নজরুল ইসলাম স্মৃতি পদক’ লাভ করেন। তিনি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) একজন সিন্ডিকেট সদস্যও। 

Advertisement
Advertisement