সোমবার   ০১ জুন ২০২০ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৭ ১৪২৭ ||  ০৯ শাওয়াল ১৪৪১

অনিয়মের অভিযোগ

নতুন করে তৈরি হচ্ছে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকা

প্রকাশিত: ০২:০৮, ১৪ মে ২০২০

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দুস্থদের মাঝে চাল বিতরণের তালিকা নতুন করে করার নির্দেশ দিয়েছেন খাদখাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। তালিকায় অনেক জায়গায় প্রকৃত সুবিধাভোগীদের নাম না থাকার অভিযোগ আসায় এ নির্দেশ দেন মন্ত্রী। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। 

বুধবার সকাল ১১ টায় মন্ত্রীর মিন্টো রোডস্থ সরকারি বাসভবন থেকে ঢাকা বিভাগের সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। 

খাদ্যবান্ধব কর্মসচির আওতায় সারাদেশে বছরে পাঁচ মাস (মার্চ, এপ্রিল এবং সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর) ৫০ লাখ পরিবারকে প্রতিমাসে ১০ টাকা কেজি দরে জনপ্রতি ৩০ কেজি চাল দেয়া হয়। কিন্তু দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এই তালিকায় থাকা সুবিধাভোগীদের নিয়ে কিছু অভিযোগ আসায় প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে অতি দ্রুত যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত গরীব ও দুস্থদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে নতুন করে তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দেন খাদ্যমন্ত্রী। যেকোনো প্রকার হুমকি-ধামকিকে ভয় না করে; স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে থেকে তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়ে পূর্বের তালিকা তৈরির সাথে জড়িতদের প্রয়োজনে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ারও নির্দেশ দেন তিনি। 

ভিডিও কনফারেন্সে ঢাকা বিভাগের আওতাধীন প্রতিটি জেলার করোনা মোকাবেলা পরিস্থিতি, চলতি বোরো ধান কাটা-মাড়াই, সরকারীভাবে ধান চাল সংগ্রহসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। 

ধান-চাল সংগ্রহের ক্ষেত্রেও প্রতিটি উপজেলায সংগ্রহ কমিটিকে ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষকের উপস্থিতিতে লটারি করার আহ্বান জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, লটারিতে বিজয়ী কৃষকদের বাড়িতে যেয়ে তাদের ধানের আদ্রতা পরিমাপ করার ব্যবস্থা করতে হবে। 

ঢাকা বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, কৃষকের স্বার্থের কথা চিন্তা করে; তাদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার জন্য ধান-চাল কেনার ক্ষেত্রে ধানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে; এবং কৃষক যেন কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শতভাগ সফল করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। 

ভিডিও কনফারেন্সে ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, কিশোরগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল জেলার জেলা প্রশাসকগণ, ঢাকা বিভাগের আওতাধীন প্রতিটি জেলার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তারা অংশ নেন।