বৃহস্পতিবার   ২৪ জুন ২০২১ ||  আষাঢ় ১১ ১৪২৮ ||  ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪২

ACI Agri Business

দেশে চাল উৎপাদন বেড়েছে ৪ গুণ; গবেষণায় সহযোগিতার আশ্বাস মন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:৪৬, ৩১ মে ২০২১

সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির ফলে দেশে কৃষি উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, স্বাধীনতার পর চাল উৎপাদন প্রায় ৪ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্বে যেখানে ১ কোটি ১০ লাখ টন চাল উৎপাদন হতো, সেটি এখন প্রায় ৩ কোটি ৮৭ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। এ অর্জনকে টেকসই করার পাশাপাশি সবার জন্য পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা দেয়া সরকারের এখন লক্ষ্য বলে জানান মন্ত্রী। 

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর মুশুদ্দি রেজিয়া কলেজ থেকে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) ‘গবেষণা অগ্রগতির বার্ষিক কর্মশালার’ উদ্বোধন শেষে বক্তৃতায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী। 

বাকৃবি রিসার্চ সিস্টেমকে কার্যকর গবেষণা পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কৃষি উন্নয়নে যে বিস্ময়কর সাফল্য অর্জিত হয়েছে সেটিকে আমরা সামনে এগিয়ে নিতে চাই, টেকসই করতে চাই। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, চাষযোগ্য জমি হ্রাসসহ নানা কারণে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ধরে রাখা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ধরে রাখতে প্রয়োজন আরও উন্নত, আরও উৎপাদনশীল জাতের ধান-ভুট্টাসহ অন্য ফসল। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাকৃবির শিক্ষক ও গবেষকদের অংশীদার হতে হবে। কার্যকর গবেষণা করে ধান, বিভিন্ন শাকসবজি, ফলমূল, পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদের উন্নত জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করার আহ্বান জানান তিনি। 

সরকার গবেষণার ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে গবেষণা করে হাঁস-মুরগী, গরু-ছাগলের আরও উন্নত জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করার আহ্বান জানান মন্ত্রী। ধান, শাকসবজি, ফলমূল ও অন্যান্য অর্থকরী ফসল যা বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি। 

এসময় মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার তরুণ সমাজের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করছে। তরুণ যুবসমাজকে শিক্ষিত, দক্ষ ও আত্ননির্ভরশীল করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফলে আজকে প্রত্যন্ত গ্রামেও কম্পিউটার ল্যাব স্থাপিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে আমরা যদি তরুণ সমাজকে প্রশিক্ষণ দিতে পারি তাহলে ভবিষ্যতে এদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। আমাদের তরুণেরা আউটসোর্সিংয়ে আরও দক্ষতা অর্জন করতে পারবে ও প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে।

দুই দিনব্যাপী কর্মশালায় ২০২০ সালে সম্পন্ন হওয়া বাকৃবির বিভিন্ন অনুষদের সর্বমোট ৪৭৭টি গবেষণা প্রকল্পের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। কর্মশালায় মোট ১৯টি টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হয়। পরে কৃষিমন্ত্রী টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে নিজ গ্রামে মুশুদ্দি রেজিয়া কলেজে কম্পিউটার ল্যাব উদ্বোধন করেন।

বাউরেসের পরিচালক অধ্যাপক আবু হাদী নূর আলী খানের সভাপতিত্বে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম, বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফুল হাসান, বাউরেসের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক মো: মাহফুজুল হক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এ সময় অনলাইনে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষক, গবেষক ও অংশগ্রহণকারী সংযুক্ত ছিলেন।
 

Advertisement
Advertisement