বৃহস্পতিবার   ২৪ অক্টোবর ২০১৯ ||  কার্তিক ৮ ১৪২৬ ||  ২৪ সফর ১৪৪১

টমেটোর পাতা কোঁকড়ানো রোগ ও দমন ব্যবস্থাপনা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:৩৬, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

টমেটো বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় সবজি। আগে টমেটো সাধারণত কৃষকের মাঠে রবি মৌসুমে অর্থাৎ শীতকালে চাষ করা হতো। তবে এখন তা টবে বা বাড়ির আঙ্গিনায় সারা বছরই চাষ হয়ে থাকে। গুরুত্বপূর্ণ এ সবজিটির পাতা কোকড়ানো একটি অন্যতম রোগ। পাতা কোকড়ানো রোগটি ভাইরাসজনিত রোগ এবং সাদা মাছির আক্রমণে এর বিস্তার হয়ে থাকে। 

রোগের লক্ষণ: 

১. গাছ খর্বাকৃতির হয়ে যায় এবং পাতা পীত বর্ণ ধারণ করে। পাতায় ঢেউয়ের মত খাঁজ সৃষ্টি হয় ও পাতা ভীষণভাবে কুঁকরিয়ে যায়। পাতা কিনারা থেকে মধ্য শিরার দিকে গুটিয়ে যায়।
২. আক্রান্ত গাছের ডগার পাতা ছোট ছোট গুচ্ছ আকার ধারণ করে। 
৩. পাতা খসখসে হয়ে শিরাগুলো স্বচ্ছ হলুদ হয়ে কুঁচকিয়ে যায়।
৪. বয়স্ক কোকড়ানো পাতা পুরু ও মচমচে হয়ে যায়।
৫. আক্রমণের মাত্রা বাড়ার সাথে সাথে পাতা মরে যায়। 
৬. গাছে অতিরিক্ত শাখা হয় এবং স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ায় ফুল ও ফলন একেবারেই কমে যায়। আগাম আক্রমন হলে ফলন একদমই হয় না।

প্রতিকার ও প্রতিরোধে করণীয়: 

১. টমেটোর জমি আগাছামুক্ত রাখতে হবে।
২. সুস্থ চারা রোপন করতে হবে এবং সুস্থ গাছ থেকে পরবর্তী মৌসুমের জন্য বীজ সংগ্রহ করতে হবে।
৩. ক্ষুদ্র ছিদ্রযুক্ত (প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে ৪০-৫০টি ছিদ্র) নাইলনের নেট দিয়ে বীজতলা ঢেকে চারা উৎপাদন করতে হবে।
৪. যেহেতু সাদা মাছির আক্রমণে এই রোগের ভাইরাস বিস্তার লাভ করে তাই সাদা মাছি দমনের জন্য চারা লাগানোর এক সপ্তাহ পর থেকে ফুল আসা পর্যন্ত ১৫ দিন পরপর কমপক্ষে ২ বার স্পর্শ জাতীয় বিষ যেমন- ইমিডাক্লোপ্রিড গ্রুপের অ্যাডমায়ার ০.৫ মিলি/লিটার পানিতে বা ইমিটাফ ১২৫ মিলি/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।