বৃহস্পতিবার   ২৪ অক্টোবর ২০১৯ ||  কার্তিক ৮ ১৪২৬ ||  ২৪ সফর ১৪৪১

টমেটোর আগাম ও নাবি ধসা রোগ এবং প্রতিকার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২:৩২, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

টমেটোর আগাম ধসা রোগ

টমেটোর আগাম ধসা রোগ

আগাম ধসা (Early blight):

আগাম ধসা একটি ছত্রাকজনিত রোগ। সাধারণত উচ্চ তাপমাত্রা (২৪ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ও বেশি আর্দ্রতা (৮০% এর ওপরে) এ রোগ ঘটানোর জন্য সহায়ক। বৃষ্টির ঝাপটা ও বাতাসের মাধ্যমে এ রোগ সুস্থ গাছে ছড়িয়ে পড়ে। ফসলের পরিত্যক্ত অংশ, বিকল্প পোষক ও বীজে এর জীবাণু বেঁচে থাকে। আলু, মরিচ এ রোগের বিকল্প পোষক। 

রোগের লক্ষণ : 

গাছের পাতা, কাণ্ড এমনকি ফলও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। সাধারণত নিচের বয়স্ক পাতায় প্রথমে এ রোগের লক্ষ্মণ দেখা যায়, পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে তা ওপরের পাতায় ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত পাতার ওপর কাল কিংবা হালকা বাদামি রঙের বৃত্তাকার দাগ পড়ে। অনেক দাগ একত্রে মিশে পাতার অনেক অংশ নষ্ট করে ফেলে এবং পাতা হলদে বা বাদামি রঙ হয়ে মাটিতে ঝরে পড়ে। 

কাণ্ডের ছোট ছোট, গোলাকার বা লম্বা এবং ডুবা ধরনের দাগ পড়ে। পুষ্প মঞ্জুরির বোঁটা আক্রান্ত হলে ফুল ও অপ্রাপ্ত ফল ঝরে পড়ে। বয়স্ক ফলেও বৃত্তাকার দাগের সৃষ্টি হয় এবং ফলটিকে নষ্ট করে ফেলে। 

প্রতিকার:

১. রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার করতে হবে; প্রোভেক্স-২০০ বা ব্যভিস্টিন (প্রতি কেজি বীজে ২.৫ গ্রাম) দ্বারা শোধন করে বীজ বপন করতে হবে। 

২. সময়মতো সুষম সার ব্যবহার ও প্রয়োজন মতো সেচ দিতে হবে।

৩. গাছের পরিত্যক্ত অংশ ও আগাছা ধ্বংস করে ফেলতে হবে।

৪. পাতায় ২/১টি দাগ দেখা দেয়ার সাথে সাথে রোভরাল প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হিসাবে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর স্প্রে করতে হবে। 
   
নাবি ধসা (Late blight) :

এটিও একটি ছত্রাকজনিত রোগ। আগাম ধসা রোগ উচ্চ তাপমাত্রায় হলেও এই রোগটি হয় নিম্ন তাপমাত্রায় (১২ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এবং সেই সাথে উচ্চ আর্দ্রতায় (৯৬% এর ওপরে)। মেঘাচ্ছন্ন স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া এবং গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হলে এ রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। বাতাস ও সেচের মাধ্যমে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

নাবি ধসা রোগে আক্রান্ত টমেটো বাগান

রোগের লক্ষণ: 

১. প্রাথমিক অবস্থায় পাতার উপর সবুজ কালো, পানিভেজা আঁকাবাঁকা দাগ পড়ে। আর্দ্র আবহাওয়ায় এসব দাগ সংখ্যায় ও আকারে দ্রত বাড়তে থাকে এবং বাদামি থেকে কালচে রঙ ধারণ করে। 

২. মাঝে মাঝে পাতার নিচের দিকে সাদা সাদা ছত্রাক জন্মে। আক্রান্ত পাতা পচে যায়। পাতা হতে কাণ্ডের এবং কাণ্ড হতে ফলে রোগ ছড়িয়ে পড়ে। 

৩. প্রথমে ফলের উপরিভাগে ধূসর সবুজ, পানি ভেজা দাগের আবির্ভাব হয়। ক্রমশ সে দাগ বেড়ে ফলের প্রায় অর্ধাংশ ছড়িয়ে পড়ে এবং আক্রান্ত অংশ বাদামি হয়ে যায়। রোগের লক্ষণ দেখার পর নিম্ন তাপমাত্রা, আর্দ্র ও কুয়াশাচ্ছন্ন স্যাঁতস্যঁতে আবহাওয়া বিরাজ করলে ৩-৪ দিনের মধ্যে গাছ ঝলসে যায় ও দ্রুত মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে। 

রোগ দমনে করণীয়: 

১. ফসল উঠার পর জমির আক্রান্ত গাছের পরিত্যক্ত অংশগুলো একত্র করে পুড়ে ফেলতে হবে।

২. রোগমুক্ত এলাকা হতে সুস্থ বীজ সংগ্রহ করতে হবে।

৩. আলু ও টমেটো গাছ পাশাপাশি লাগান উচিত নয় এবং আলু ও টমেটো ছাড়া জমিতে শস্য পর্যায় অবলম্বন করতে হবে।

৪. রোগ প্রতিরোধী জাত চাষ করতে হবে।

৫. নিম্ন তাপমাত্রা, উচ্চ আর্দ্রতা ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া মাত্র মেলোডি ডিও প্রতি লিটার  পানিতে ২ গ্রাম ও সিকিউর প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম হারে একত্রে মিশিয়ে গাছের পাতার ওপরে ও নিচে ভিজিয়ে ৭ দিন পর পর কমপক্ষে ৩ বার স্প্রে করতে হবে।