বৃহস্পতিবার   ২৪ অক্টোবর ২০১৯ ||  কার্তিক ৮ ১৪২৬ ||  ২৪ সফর ১৪৪১

জৈব কৃষির মডেল ভারতের অর্গানিক রাজ্য সিকিম

প্রকাশিত: ০৯:৩৬, ৬ অক্টোবর ২০১৮

সিকিমে অর্গানিক ফসলের মাঠ। ছবি: সংগৃহীত

সিকিমে অর্গানিক ফসলের মাঠ। ছবি: সংগৃহীত

হিমালয় পর্বতমালার সৌন্দর্যে অসাধারণ রূপে ফুটে উঠা ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সিকিম। এখন সেই সৌন্দর্যের পাশাপাশি রাজ্যটির বড় আকর্ষণ দিগন্ত বিস্তৃত অর্গানিক ফসলের মাঠ।

প্রায় দুই বছর আগে প্রথম রাজ্য হিসেবে সিকিমকেই রাসায়নিক মুক্ত বা অর্গানিক রাজ্য হিসেবে ঘোষণা দেয় ভারত। ২০১৬ সালে এই ঘোষণা দেয়ার আগে ২০০৩ সালে প্রথম যখন কীটনাশক ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়। যার ফলে কীটনাশক এবং বালাইনাশকের মত রাসায়নিকের ব্যবহার থেকে সরে আসে সেখানকার কৃষক। 

স্থানীয় কৃষকদের একজন কারমা ভুটিয়া বলেন, অনেকে কৃষক আসলে ভীত হয়ে পড়েছিলো সরকারের উদ্যোগে। তিনি বলেন, "প্রথম দু তিন বছরে চাষবাসই নাটকীয়ভাবে কমে গিয়েছিলো। এটা আমাদের ভেঙ্গে দিয়েছিলো। আমরা তখন তরুণ কৃষক। আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলাম যে অর্গানিকের দিকে যাওয়া হয়তো সঠিক সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। সেসময়ই সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের আশ্বস্ত করা হল যে তারা আমাদের লোকসানের জন্য ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেবে। এরপর আমরা চেষ্টা শুরু করলাম এবং দু তিন বছর পর বুঝলাম যে চাষাবাদ হচ্ছে আগের মতোই। এবং তাতে আমরা অভ্যস্ত হলাম"।

এটিই হচ্ছে সিকিমের পাল্টে যাওয়ার গল্প। এক সময় কৃষকরা যেখানে রাসায়নিকের ব্যবহার ছাড়া চাষাবাদের কথা ভাবতে পারতো না এখন সেখানে কীটনাশকের ব্যবহার রীতিমত অপরাধ। জমিতে কেউ কীটনাশক ব্যবহার করলে এক হাজার চার শ’ ডলার বা সমপরিমাণ পর্যন্ত অর্থ জরিমানা, এমনকি তিন মাসের জেলের বিধানও রাখা হয়েছে আইনে। 

জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করেই সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান রাজ্যের কৃষি সচিব খরলো ভুটিয়া। তিনি বলেন "মূলত মাটির স্বাস্থ্য ভালো রাখা এবং জনগণের কাছে মানসম্পন্ন খাবার পৌঁছে দেয়া। এরপর মানুষের জন্য রাসায়নিক মুক্ত বাতাস ও পানি নিশ্চিত করা এবং এর সাথে রাজ্যটির সমৃদ্ধ জৈববৈচিত্র রক্ষা করাই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য"।

সরকারের এই উদ্যোগে কৃষিতে যেমন বিপ্লব ঘটেছে তেমনি ইতিবাচক সাড়া পড়েছে রাজ্যটির পর্যটন শিল্পেও। সিকিমের সৌন্দর্য্য উপভোগ করার পাশাপাশি অর্গানিক কৃষির মডেল সিকিমকে নতুন করে দেখতে শুরু করেছেন পর্যটকরা। কর্তৃপক্ষের হিসেবে পর্যটক বেড়েছে সত্তর ভাগের মতো।

দেশটির সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ুক সিকিম মডেল ছড়িয়ে দেয়া যায় কী না সে চিন্তাভাবনাও শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন এর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে দেশটির লক্ষ লক্ষ কৃষককে আস্থায় আনা। আবার কীটনাশক উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোও এতে খুব একটা খুশী হবে না, তাদেরকে সেটি নিয়েও ভাবতে হচ্ছে। তারপরেও এখন সবার দৃষ্টি সিকিমের দিকেই কারণ এই অর্গানিক মিশন জাতিকে একটি দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য এনে দিতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

তথ্য সূত্র: বিবিসি বাংলা