বুধবার   ১২ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৮ ১৪২৭ ||  ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

ACI Agri Business

জেনে নিন আমের যত উপকারিতা!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:২১, ২ জুন ২০২০

উপমহাদেশের সবচাইতে সুস্বাদু ফল হল আম। নানা গুণে ভরপুর আম। গ্রীষ্মে অন্যান্য ফলের সাথে বাংলাদেশের বাজারে পাওয়া যায় প্রচুর আম। আম যেমন সুস্বাদু তেমনি একটি পুষ্টিকর ফল। কাঁচা এবং পাকা দুই প্রকার আমই পুষ্টিগুনে  ভরপুর ।

আম একটি লো-ক্যালরি ফল। এতে রয়েছে উচ্চ পরিমানে ফাইবার, ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন-সি, রয়েছে ফোলেট, আয়রন ভিটামিন বি-৬, এবং সামান্য পরিমাণে জিংক, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন-ই। এছাড়া আমে রয়েছে এন্টি অক্সিডেন্ট এবং ফাইটো কেমিক্যালস।

আমের স্বাস্থ্য উপকারিতা-  

• আম উচ্চ রক্তাচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া ক্যান্সার প্রতিরোধে এবং আমাদের অন্ত্রের সুস্থতায় কার্যকরী ভুমিকা রাখে ।

• পাকা আম আমাদের ত্বক সুন্দর, উজ্জ্বল ও মসৃণ করে। এটি আমাদের ত্বকের ভেতর ও বাইরে থেকে উভয়ভাবেই সুন্দর রাখতে সাহায্য করে। আম আমাদের ত্বকের লোমের গোড়া পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে ও ব্রণের সমস্যা সমাধানে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়া যারা বয়স ধরে রাখতে এবং ফর্সা ত্বক চান তারা প্রতিদিন ১০০ গ্রাম পাকা আম খেতে পারেন পাশাপাশি মুখে আমের পাল্প লাগাতে পারেন যা মুখের কালো দাগ দূর করে এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে ত্বকে যে বলিরেখা বা রিঙ্কলেল দেখা যায় তা দূর করতে সাহায্য করে। 

• ডাইজেস্টিভ সিস্টেমকে ঠিক-ঠাক এবং নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে কাজ করতে সাহায্য করে আম। আমে স্টোমাকের এসিডিটি কমিয়ে ডাইজেস্টিভসিস্টেমের যেকোন ধরণের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। 

• আমে পর্যাপ্ত পরিমাণে খনিজ লবণের উপস্থিতিও রয়েছে। আমাদের শরীরের দাঁত, নখ, চুল ইত্যাদি মজবুত করার জন্য আমের খনিজ লবণ উপকারী ভূমিকা পালন করে।

• আমে প্রায় ২৫ রকমের বিভিন্ন কেরাটিনোইডস উপকারী ব্যাকটেরিয়া আছে যা ইমিউন সিস্টেমকে সুস্থ ও সবল রাখে।

• আমে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন- বি কমপ্লেক্স। এই ভিটামিন আমাদের শরীরের স্নায়ুগুলোতে অক্সিজেনের সরবরাহ সচল রাখতে সাহায্য করে। আমাদের শরীরকে রাখে পুরোপুরি সতেজ। যার ফলে খুব দ্রুত ঘুম আসতে সাহায্য করে।

• প্রতিদিন এককাপ আম শরীরে ভিটামিন ‘এ’ এর চাহিদার প্রায় পঁচিশ শতাংশের যোগান দিতে পারবে। ভিটামিন এ আমাদের চোখের জন্য খুবই উপকারী। এটি আমাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং রাতকানা রোগ থেকে রক্ষা করে।

• আম আমাদের শরীরের ক্ষয়রোধ করে। প্রতিদিন আম খেলে দেহের ক্ষয়রোধ হয় এবং স্থুলতা কমিয়ে শারীরিক গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।

• আমে রয়েছে বেটাক্যারোটিন, ভিটামিন ই এবং সেলেনিয়াম। এসব উপাদান পরিমাণে পর্যাপ্ত থাকায় পাকা আম হার্টের সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে।আমাদের হার্টকে সুস্থ ও সবল রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

• পাকা আম পটাশিয়ামসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি আমদের হার্টবিট ও রক্তস্বল্পতা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। আমাদের হার্টবিটকে সচল রাখতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।

• পাকা আম আমাদের শরীরের রক্ত পরিষ্কারে সহায়তা করে। আমের মধ্যে থাকা টারটারিক, ম্যালিক ও সাইট্রিক এ্যাসিড শরীরে অ্যালকোহল ধরে রাখতে সহায়তা করে।

• আমে ভালো পরিমাণে আয়রন থাকায় তা এনিমিয়া দূর করতে সাহায্য করে।সুতরাং, এনিমিয়াতে ভোগা রোগী আয়রনের অভাব দূর করার জন্য নিয়মিত আম খেতে পারেন।

যদিও আমে রয়েছে অনেক  উপকার তবুও মাত্রারিক্ত আম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আমে উচ্চ পরিমাণে সুগার থাকায় মাত্রারিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে রক্তে সুগার এবং দেহের ওজন উভয়ই বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া, আমে বেশি ফাইবার থাকায় খুব বেশি পরিমাণে খেলে ডায়ারিয়া বা হজমে সমস্যা হতে পারে। যাদের বাতের সমস্যা আছে অথবা ইউরিক এসিড বেশি তাদের আম না খাওয়াই ভালো। কারণ আম হাই ফ্রুক্টোজ ফল।

Advertisement
Advertisement