শুক্রবার   ০৭ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২২ ১৪২৭ ||  ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

ACI Agri Business

জেনে নিন অতিরিক্ত আম কেন খাওয়া উচিত নয়

পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান

প্রকাশিত: ০২:০১, ৫ জুলাই ২০২০

আমকে বলা হয় ফলরে রাজা। খুব কম মানুষই আছেন যাদরে আম পছন্দ নয়। আমরা সবাই আম খাচ্ছি, আমের মধ্যে কী কী পুষ্টিগুণ রয়েছে এবং এর উপকারিতা কী আর অতিরিক্ত আম খাওয়ার অপকারিতাই বা কী, অনেকেই হয়তো তা ভেবে দেখি না কিংবা জানিও না।  

আসুন প্রথমেই জেনে নেই আমের পুষ্টিগুণ। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য অধিদপ্তর (USDA) এর তথ্য অনুযায়ী এক কাপ (১৬৫ গ্রাম) আমের মধ্যে রয়েছে-

ক্যালরি - ৯৯ কিলো ক্যালরি
কার্বোহাইড্রেট – ২৪.৭ গ্রাম
সুগার - ২২.৫ গ্রাম
ডায়েটারি ফাইবার বা আঁশ – ২.৬ গ্রাম
প্রোটিন - ১.৪ গ্রাম
ফ্যাট – ০.৬ গ্রাম

তাছাড়াও আমের মধ্যে রয়েছে নানা ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এবং মিনারেলস।

অত্যন্ত পুষ্টিগুণ সম্পন্ন মৌসুমী এই ফলটি স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। তবে আপনি যদি এর স্বাদে মজে গিয়ে অতিরিক্ত আম খেয়ে ফেলেন তবেই ঘটে যেতে পারে বিপত্তি। তাই আসুন আম খাওয়ার আগে জেনে নেই অতিরিক্ত আম খেলে আপনি কী কী সমস্যায় পড়তে পারেন-

১. ব্লাড সুগার লেভেল বৃদ্ধি পেতে পারে।
২. ডায়রয়িা হতে পারে।
৩. যেহেতু আমে সুগার রয়েছে, তাই অতিমাত্রায় গ্রহণরে ফলে বেড়ে যেতে পারে আপনার ওজন।
৪. অতরিক্ত আম খাওয়ার ফলে অনেকের এলার্জির সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
৫. আমের মধ্যে (Urisol) নামক রাসায়নকি পদার্থ রয়েছে, যে কারণে অতিরিক্ত আম খাওয়ার ফলে ত্বকের ক্ষতি এবং ত্বকে জ্বালা-পোড়া অনুভুতির সৃষ্টি হতে পারে।

অর্থাৎ অতিরিক্ত আম খেলে আপনি বেশকিছু শারিরীক সমস্যায় পড়তে পারেন। কিন্তু যদি পরিমিত পরিমাণে আম খান তাহলে কী কী উপকার পাবেন? সাধারণভাবে অনেকেই অনেক উপকারের কথা জানেন। চলুন আরো একবার জেনে নেই আমের উপকারিতা।

১. পাকা আম উচ্চ এন্টিঅক্সিডেন্ট সম্পন্ন, যা ফ্রি রেডিক্যাল দ্বারা কোষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া রোধ করে।
২. আমে ম্যাঙ্গোফেরিন নামক এন্টিঅক্সিডেন্ট আছে যা Oxidative stress and Apoptosis রোধে সহায়তা করে।
৩. আমের এমাইলেজ এনজাইম পরিপাকে সহায়তা করে। তাছাড়াও এতে র্পযাপ্ত পরমিাণে পানি এবং Dietary Fiber রয়েছে যা পরিপাকজনিত সমস্যা যেমন- ডায়রয়িা, কোষ্ঠকাঠিন্য রোধে সহায়তা করে।
৪. এতে লউিটনি এবং জক্সোনথনি নামক অ্যান্টঅিক্সডিন্টে রয়ছেে যা চোখরে স্বাস্থ্যকে ঠকি রাখতে সহায়তা করা।
৫. এতে খুব ভালো পরিমাণে ভটিামনি- সি রয়ছেে যা ত্বক ও চুলের যত্নে সহায়ক।
৬. এতে রয়ছেে পলিফেনল যা ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে।
৭. কোলেস্টেরল লেভেল কমায়।

অনেকেরই ধারণা আমে যেহেতু সুগারের পরিমাণ বেশি, তাই ডায়াবেটিস রোগীরা হয়তো আম খেতে পারবেন না। কিন্তু এ ধারণাটি ভুল। আমরা জানি, আমের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স হচ্ছে ৪১-৬০ এবং যার গড় ৫১. আমরা জানি গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৫৫ এর নীচে হলে তা Low GI food. তাই ডায়াবেটিকসে আক্রান্তদের আম খেতে কোন বাধা নেই।

Advertisement
Advertisement