শনিবার   ২২ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ৯ ১৪২৮ ||  ১৮ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ACI Agri Business

জিন বদলে দিন বদলের স্বপ্ন দেখছেন ধান বিজ্ঞানীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:৩১, ২৬ ডিসেম্বর ২০২১

জিন পরিবর্তন করে নতুন জাত উদ্ভাবনের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে সফলতা পেয়েছেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট-ব্রি’র বিজ্ঞানীরা। সুগন্ধি ও পোকা প্রতিরোধী ধানের জাত উদ্ভাবনে জিন বদলের আধুনিক পদ্ধতি ‘ক্রিসপার ক্যাস-৯’ প্রয়োগ করা হয় বলে জানান তারা। ফলে আগামী দুই থেকে তিনি বছরের মধ্যেই আসছে নতুন এই জাতের ধান। 

গবেষণায় নেতৃত্ব দেয়া ব্রির ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কীটতত্ত্ববিদ ড. মো. পান্না আলী কৃষি প্রতিদিনকে বলেন, ক্রিসপার ক্যাস-৯ পদ্ধতিতে সুগন্ধি বৈশিষ্ট্য এবং মাজরা ও কারেন্ট পোকা (বাদামি ঘাসফড়িং) প্রতিরোধী জিন ঢুকিয়ে ধানের নতুন জাত উদ্ভাবনের কাজ করছেন তারা। ২০২০ সালের শুরুতে নতুন এ প্রযুক্তি নিয়ে সুগন্ধি ও পোকা প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য সন্নিবেশ করে তাঁরা সম্ভাব্য নতুন জাতের ধানের ২৪টি গাছ পেয়েছেন। প্রাথমিক এ সফলতায় নতুন জাত উদ্ভাবনে গবেষণা কার্যক্রম আরো জোরদার করা হচ্ছে বলে জানান ড. পান্না। 

মূলত: ফসলের নতুন জাত উদ্ভাবনের জন্য ক্রসিং ও সিলেকশন, হাইব্রিডাইজেশন, মিউটেশন ইত্যাদি পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে আসছিলেন বিজ্ঞানীরা। পরে আসে জেনেটিক্যালি মডিফায়েড ক্রপ (জিএমও) প্রযুক্তি। তবে জিএমও ফসল নিয়ে বিশ্বজুড়ে রয়েছে নানা মতভেদ। ক্রিসপার ক্যাস-৯ প্রযুক্তিটি আধুনিক ও বিতর্কমুক্ত। 

‘ক্রিসপার ক্যাস-৯’ প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য ২০২০ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন জার্মান বিজ্ঞানী ইমানুয়েল চার্পেনিয়ার এবং যুক্তরাষ্ট্রের জেনিফার দোদনা। এর পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ফসলের জাত উন্নয়নে কৃষিবিজ্ঞানীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় ক্রিসপার ক্যাস-৯ প্রযুক্তি। 

চাল সুগন্ধি করা এবং মাজরা ও বাদামি ঘাসফড়িং পোকা বিরোধী ধানের জাত উন্নয়নে গবেষণা অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে ড. পান্না আলী বলেন, ”প্রচলিত জাতগুলোর চেয়ে সুগন্ধি ধানের ফলন অনেক কম। এ কারণে কৃষকরাও এই ধানের জাত চাষ করতে চান না। কিন্তু সুগন্ধি চালের দাম অনেক বেশি। দেশে-বিদেশে রয়েছে বিশাল বাজার। তা ছাড়া মাজরা ও কারেন্ট পোকার কারণে কৃষকরা ১০ থেকে ১৮ শতাংশ ফলন হারান। এই পোকা দমনে প্রচুর পরিমাণ রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়, যা স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।”

কীভাবে ক্রিসপার ক্যাস-৯ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে এ সম্পর্কে ড. পান্না বলেন,  ব্রি ধান ৮৭, ব্রি ধান ৮৯ ও ব্রি ধান ৯২ জাতের মধ্যে ক্রিসপার ক্যাস-৯ প্রযুক্তি ব্যবহার করে জিন পরিবর্তনের মাধ্যমে সুগন্ধি বৈশিষ্ট্য ঢোকানো হয়। সেই সঙ্গে প্রবেশ করানো হয় মাজরা ও বাদামি ঘাসফড়িং প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য। দীর্ঘ গবেষণায় সুগন্ধি চালের ও পোকা প্রতিরোধী ২৪টি ধানগাছ পাওয়া গেছে। ধানের শীষগুলো পাকতে শুরু করেছে। 

প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবির বলেন, ‘জিন পরিবর্তনের মাধ্যমে সুগন্ধি ও পোকা প্রতিরোধী ধানের জাত উদ্ভাবন হতে যাচ্ছে ব্রির একটি যুগান্তকারী সফলতা। তাঁর মতে, আগামী দু-তিন বছরের মধ্যে কৃষকদের কাছে বীজ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে নতুন এই ধানের জাতের। 

Advertisement
Advertisement