শুক্রবার   ০৭ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২২ ১৪২৭ ||  ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

ACI Agri Business

জাম: মনকে রাখে সতেজ, বাড়ায় স্মৃতিশক্তি

পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান

প্রকাশিত: ২১:৫৮, ২৭ জুন ২০২০

জাম্বুল, জাম্ভুল, জাম্বু, জাম্বুলা, জাভা প্লাম, জামুন, কালোজাম, জামব্লাং, জাম্বোলান, কালো প্লাম, ড্যামসন প্লাম, ডুহাট প্লাম, জাম্বোলান প্লাম, পর্তুগিজ প্লাম বিশ্বে নানা নামে পরিচিত জাম বাংলাদেশে স্বল্পকালীন একটি মৌসুমী ফল। রসালো এ ফলটি অনেকেরই প্রিয়, তবে অনেকেই হয়তো জানেন না পুষ্টিগুণেও কতটা ভরপুর জাম।

জামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, জিংক, কপার, গ্লুকোজ, ডেক্সট্রোজ ও ফ্রুকটোজ, ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও স্যালিসাইলেটসহ অসংখ্য উপাদান। তাই সাধ্যের মধ্যে থাকলে এই ফলটি খেতে ভুলবেন না। আসুন জেনে নেই কেন খাবেন জাম-

১) মানসিকভাবে সতেজ রাখে: জামে গ্লুকোজ, ডেক্সট্রোজ ও ফ্রুকটোজ রয়েছে, যা মানুষকে জোগায় কাজ করার শক্তি। জাম স্মৃতিশক্তি প্রখর রাখতে সাহায্য করে।

২) ডায়াবেটিস নিরাময়ে সাহায্য করে: ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য জাম ভীষণ উপকারী। এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত জাম খাওয়ার ফলে ৬.৫ শতাংশ মানুষের ডায়াবেটিক কমে গেছে। এটি রক্তে চিনির মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। জাম ডায়াবেটিক রোগীদের রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে শরীর সুস্থ রাখে। এক চা চামচ জামের বীচির গুঁড়া খালি পেটে প্রতিদিন সকালে খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

৩) কোষ্টকাঠিন্য রোধে: চামড়াসহ জামের রস কোষ্টকাঠিন্য রোধে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। জামে প্রায় ০.৯ গ্রাম/১০০ গ্রাম ফাইবার থাকে যা কোলন এর কার্যাবলিতে সহায়ক।

৪) ভিটামিন সিঃ জামে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি।জামে দেখা মেলে বেশি পরিমাণের আয়রনেরও, যা রক্তস্বল্পতা দূর করে।

৫) হার্ট ভালো রাখে: জাম রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদপিন্ড ভালো রাখে। এছাড়া শরীরের দূষিত কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা কমিয়ে দেহের প্রতিটি প্রান্তে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়।

৬) হাড় ও দাঁত ভালো রাখতে সহায়ক: জামে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম,ফসফরাস,আয়রন যা হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে ও দাঁতকে মজবুত রাখতে সহায়তা করে।

৭) লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন: জাম এ রয়েছে আয়রন,ফলে দৈনিক ১০০ গ্রাম জাম খাওয়ার অ্যানিমিয়া জনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা অনেকাংশে কমে যাবে।

৮) ওজন নিয়ন্ত্রণ করে: জামে কম পরিমাণে ক্যালোরি থাকে, যা ক্ষতিকর তো নয়ই বরং স্বাস্থ্যসম্মত। তাই যারা ওজন নিয়ে চিন্তায় আছেন এবং নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন, তাদের খাদ্য তালিকায় আসতে পারে জাম।

৯) উচ্চ রক্তচাপ: পুষ্টিবিদ এবং চিকিৎসকরা তাজা ফল এবং সবজি খাওয়ার সুপারিশ করে থাকেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, জামে সেই সব উপাদান আছে যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে।

১০) ক্যান্সার প্রতিরোধে কালো জাম উপকারী: মানুষের মুখের লালার মধ্যে এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ উৎপাদিত হয়, যা হতে ব্যাকটেরিয়ার জন্ম নেয়। এ ধরনের ব্যাকটেরিয়া হতে মুখে ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর জাম মুখের ভেতর উৎপাদিত ক্যান্সারের সহায়ক ব্যাকটেরিয়ার প্রভাব থেকে দেহকে রক্ষা করে মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রঙিন ফলের ভেতর যে পরিমাণ যৌগিক উপাদান রয়েছে, এর মধ্যে জামে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ যৌগিক উপাদান রয়েছে যা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সাহায্য করে।

১১) জামে ফাইটো কেমিক্যালস আর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট বিদ্যমান : যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, সঙ্গে মৌসুমি সর্দি-কাশি থেকে মুক্তি দেয়।

সতর্কতা:

১) খালি পেটা জাম খাওয়া উচিত নয়।

২) অপারেশন বা যে কোন সার্জারীর পরে কিছুদিন জাম খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত যেহেতু এটি রক্তের সুগার লেভেলকে কমিয়ে দেয়।

লেখিকা: পুষ্টিবিদ।

Advertisement
Advertisement