বৃহস্পতিবার   ০৫ আগস্ট ২০২১ ||  শ্রাবণ ২০ ১৪২৮ ||  ২৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

ACI Agri Business

জাত উদ্ভাবনে ব্রি’র সেঞ্চুরি; আসছে উচ্চ জিংকসমৃদ্ধ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯:১৯, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ভাতের মাধ্যমে শরীরের অন্যতম পুষ্টি উপাদান জিংকের চাহিদা পূরণ করতে মাঠে আসছে জিংকসমৃদ্ধ ধান। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট-ব্রি উদ্ভাবিত নতুন এই জাতের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় বীজ বোর্ড। ব্রি-১০০ নামে জাতটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির শততম ধানের জাত। 

মঙ্গলবার বিকালে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় বীজ বোর্ডের সভায় ধানের নতুন এ জাতের অনুমোদন দেয়া হয়। 

ব্রির তথ্য অনুযায়ী বোরো মৌসুমে চাষাবাদ উপযোগী ‘ব্রিধান ১০০’ তে জিংকের পরিমাণ প্রতি কেজিতে ২৫.৭০ মিলিগ্রাম এর গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৭.৬৯ মেট্রিক টন। জাতটির জীবনকাল ১৪৮ দিন। দেশের ১০টি স্থানে ট্রায়াল করে এই ফলাফল পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। 

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় বীজ বোর্ডের সভাপতি মো: মেসবাহুল ইসলাম বলেন, মুজিব শতবর্ষে উচ্চ জিংকসমৃদ্ধ ‘ব্রিধান ১০০’ অবমুক্ত করতে পারা খুবই আনন্দের। ”এটি একটি মেগা ভ্যারাইটি হবে। দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুষ্টির অধিকাংশ ক্যালরি, প্রোটিন ও মিনারেল আসে ভাত থেকে। ভাত তাদের কাছে সহজলভ্য। জিংকসমৃদ্ধ এ জাতটি উদ্ভাবনের ফলে মানুষের জিংকের চাহিদা অনেকটাই পূরণ হবে” বলেন কৃষি সচিব। 

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো: শাহজাহান কবীর বলেন, ”এ জাত উচ্চমাত্রার জিংকসমৃদ্ধ। ফলন ব্রি ধান ২৯ থেকে বেশি এবং জীবনকাল ব্রিধান ২৮ এর মত, যা আমাদের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। আমাদের পরিকল্পনা অতিদ্রুত এ জাতটি কৃষকের কাছে জনপ্রিয় করে একদিকে উৎপাদন বৃদ্ধি ও অন্যদিকে পুষ্টির যোগান দেয়া সম্ভব হবে।”

জিংকসমৃদ্ধ ধানের এই জাতের পাশপাশি পাটের নতুন একটি জাতেরও অনুমোদন দিয়েছে বীজ বোর্ড। বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) উদ্ভাবিত বিজেআরআই দেশী পাট-১০ জাতটি হবে লবণাক্ততাসহিষ্ণু। আরেকটি বৈশিষ্ট হলো গাছের বয়স ১০৫-১১৫ দিন হলেই কেটে রোপা আমন ধান লাগানো যায়। এবং আমন কেটে রবি ফসল চাষ করা যায়। খুলনা ও বরিশালে ০৫ টি ট্রায়ালে হেক্টর প্রতি আঁশের ফলন ২.৫৭ টন ও পাট কাঠির ফলন ৭.২১ মেট্রিক টন পাওয়া গেছে বলে জানানো হয় বীজ বোর্ডের এই সভায়।

সভায় বীজ ডিলার নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রে ‘সেবা সহজীকরণ’ করার লক্ষ্যে বীজ ডিলারদের নিবন্ধণ ১ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫ বছর করা হয়। 

মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (গবেষণা) কমলারঞ্জন দাশ, অতিরিক্ত সচিব ও মহাপরিচালক (বীজ) বলাই কৃষ্ণ হাজরা, বিএডিসির চেয়ারম্যন মো: সায়েদুল ইসলাম, ব্রির মহাপরিচালক ড. মো: শাহজাহান কবীর, বিজেআরআইর মহাপরিচালক ড. আশম আনোয়ারুল হকসহ অন্যান্য সংস্থাপ্রধান ও বীজ বোর্ডের সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। 
 

Advertisement
Advertisement