মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ৫ ১৪২৭ ||  ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ACI Agri Business

চট্টগ্রামের ঐতিহ্য মেজবানী মাংস রান্নার রেসিপি

আফরোজা নাজনীন

প্রকাশিত: ০১:২২, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

মেজবানী গোস্ত / মেজবানী মাংস
বাংলাদেশের চট্রগ্রাম অঞ্চলের খুব বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী একটা খাবারের নাম মেজবানী গোস্ত বা মেযযান। চট্রগ্রামের ভাষায় মেযযান মানে মেহমান বা অতিথি। মেজবান পারশিয়ান শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ হল হোস্ট। এটি সাধারণত আর্থিকভাবে সচ্ছল মানুষরা আয়োজন করেন।। সাধারনত একজন ব্যক্তির মৃত্যুর বার্ষিকী, সন্তানের জন্ম, ঈদে মিলাদুন্নবী,কোনও বিশেষ কৃতিত্ব, বিয়ে, আকিকা বা সন্তানের নামকরন, নতুন ব্যবসা উদ্বোধন বা  নতুন বাসভবনে প্রবেশের উদযাপন এর ক্ষেত্রে মেজবান করা হয়। 

কোনও ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে মেজবানকে আমন্ত্রণ করে না  আমন্ত্রণটি থাকে সবার জন্য উন্মুক্ত। ঐতিহ্য অনুসারে একবার মেজবান সংগঠনের তথ্য জনসাধারণের কাছে প্রকাশ করা হলে এতে যোগদান করা সবার একটা সামাজিক দায়বদ্ধতা হয়ে দাঁড়ায়। মেজবান আয়োজকরা ভোজসভায় যোগদানকারী মানুষের সংখ্যা নিয়ে গর্ব করেন, কখনও কখনও এই সংখ্যা কয়েক হাজার পর্যন্ত হতে পারে। মেজবান এর একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল এর মেনুটা থাকে খুব সাধারণ। এতে থাকবে শুধু সাদা ভাত এবং মাংস। মেজবানে মেজবানী মাংস ছাড়াও থাকে বুটের ডালের সাথে মাংস এবং নেহারী বা পায়া।

সাধারনত গরুর মাংস দিয়ে মেজবান করা হয়। কিন্তু খাসী, মুরগী বা মাছ দিয়েও করা যেতে পারে।

প্রচুর পরিমানের টাটকা মাংস দিয়ে কাঠের চূলায় মেজবান মাংস রান্না করা হয়। রান্না করে সাথে সাথে অতিথিদের পরিবেশন করা হলে তাকে বলে হাজিয়া(ফ্রেশ) মেজবান। আর আগের রাতে রান্না করে সকালে অতিথি আপ্যায়ন করলে তাকে বলে বাই মেজবান। 

বাড়ীতে খাওয়ার জন্য অল্প মাংস দিয়ে রান্না করলে আসল মেজবানের স্বাদ আনা খুব কঠিন। যেহেতু চট্রগ্রাম অঞ্চলের একটি সামাজিক উৎসবের নাম মেজবান, তাই উৎসবের রান্না উৎসবে করলেই আসল স্বাদ পাওয়া যাবে। 

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানি মাংস। ছবি: আফরোজা নাজনীন

এবার আসুন জেনে নেয়া যাক মেজবানি মাংস রান্না করার রেসিপি-

উপকরণ:
২ কেজি গরুর মাংস
২ কাপ সরিষা তেল
২ টেবিল চামচ রসুন বাটা
২ টেবিল চামচ আদা বাটা
৩ টেবিল চামচ পেঁয়াজ বেরেস্তা
১ টেবিল চামচ হলুদ গুঁড়া
১ টেবিল চামচ ধনে গুঁড়া
২ টেবিল চামচ মরিচ গুঁড়া
১ চা চামচ জয়ফল জয়ত্রি গুঁড়া
১ টেবিল চামচ গোল মরিচ গুঁড়া
১ চা চামচ গরম মশলা গুঁড়া
৩ টেবিল চামচ স্পাইস পেস্ট
১/২ কাপ পেঁয়াজ বেরেস্তা
৬/৭ টি এলাচ
২/৩ টুকরা দারচিনি
২/৩ টি তেজপাতা
৩ কাপ পানি
লবণ স্বাদমত
স্পাইস পেস্ট তৈরির প্রণালী
১/২ টেবিল চামচ কাবাব চিনি
১/২ চা চামচ সরিষা
১/২ টেবিল চামচ তিল
১/২ চা চামচ রাঁধুনি
১/২ টেবিল চামচ মৌরি
সবগুলো উপদান বেটে পেস্ট করে নিন।

প্রণালী:
প্রথমে মাংসের সাথে রসুনের পেষ্ট, হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া, ধনে গুঁড়া, আদা বাটা, জয়ফল-জয়ত্রী গুঁড়া, স্পাইস পেস্ট, পেঁয়াজ বাটা, গোল মরিচ গুঁড়া, লবণ, পেঁয়াজ বেরেস্তা, আস্ত এলাচ, দারচিনি ও সরিষা তেল দিয়ে খুব ভাল করে মাখিয়ে নিন। এবার মাখানো মাংসে ৩ কাপ পানি দিন।  এবার মাংসটি চুলায় দিয়ে দিন। চুলায় থাকা অবস্থায় আস্তে আস্তে নাড়তে থাকুন। কিছুক্ষণ নাড়ার পর ঢাকনা দিয়ে ২ ঘন্টা ঢেকে রাখুন। রান্না হয়ে এলে গরম মশলা গুঁড়া দিয়ে দিন। ব্যস তৈরি হয়ে গেল মেজবান মাংস।

লেখিকা: রন্ধন শিল্পী এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সুমি’স কিচেন।

Advertisement
Advertisement