বৃহস্পতিবার   ২৪ অক্টোবর ২০১৯ ||  কার্তিক ৮ ১৪২৬ ||  ২৪ সফর ১৪৪১

গবাদিপশুর খুরা রোগের টিকা উদ্ভাবনের ঘোষণা ঢাবি গবেষকদের

প্রকাশিত: ১২:২১, ১৭ অক্টোবর ২০১৮

গবাদিপশুর খুরা রোগের টিকা উদ্ভাবন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। বিশ্ববিদ্যালয়টির অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল গবেষক এই টিকা উদ্ভাবন করেছেন। মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। 

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্পের (হেকেপ) আওতায় গবেষণাটি পরিচালিত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংবাদ সম্মেলনে গবেষক দলের প্রধান আনোয়ার হোসেন টিকা উদ্ভাবন সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন। এ উদ্ভাবনের পেটেন্টের জন্য ইতিমধ্যে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান আনোয়ার হোসেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, খুরা রোগ বাংলাদেশে গবাদি প্রাণীর একটি অন্যতম প্রধান সংক্রামক ব্যাধি। এ রোগের কারণে দেশে প্রতিবছর ১২৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়। এই রোগ প্রতিরোধে ব্যবহৃত টিকা প্রধানত আমদানি করা হয়। কিন্তু এসব টিকা প্রায় কাজ করে না উল্লেখ করে এর কারণ হিসেবে মন্ত্রী বলেন, এসব টিকা উৎপাদনে যে ভাইরাস ব্যবহৃত হয়, তা এ দেশে বিদ্যমান ভাইরাস থেকে ভিন্ন কিংবা টিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ এন্টিজেন থাকে না। 

উদ্ভাবিত নতুন টিকা বাংলাদেশে বিদ্যমান খুরা রোগের তিন ধরনের ভাইরাসের সব ধরনের সংক্রমণ থেকে গবাদিপশুকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম হবে দাবি করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এর দাম বাজারে প্রচলিত ভ্যাকসিনের চেয়েও অনেক কম হবে এবং খামারি পর্যায়ে প্রতিটি টিকার দাম পড়বে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। 

বাংলাদেশে সঞ্চরণশীল ভাইরাস দিয়ে টিকা উদ্ভাবন প্রাণিসম্পদ গবেষণার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক বলে উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, এ গবেষণার জন্য অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগকে দুটি উপপ্রকল্পের আওতায় মোট ১০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ১৭ জন গবেষক এই উদ্ভাবনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন ইউজিসির চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, হেকেপ পরিচালক গৌরাঙ্গ চন্দ্র মোহান্ত, শিক্ষাবিদ মুহম্মদ জাফর ইকবাল প্রমুখ।

খুরা রোগের কারণে বাংলাদেশ ইউরোপ আমেরিকাসহ বিশ্বের অনেক দেশে মাংস রপ্তানি করতে পারছে না। আশা করা হচ্ছে এই টিকার মাধ্যমে  দেশকে খুরা রোগ মুক্ত করা গেলে তা খামারীদের জন্য ব্যাপক সুফল বয়ে আনবে।