মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ৫ ১৪২৭ ||  ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ACI Agri Business

কৃষিতে তরুণ উদ্যোক্তা: প্রয়োজন কৌশলী উদ্যোগ

সাজিয়া আফরিন সুলতানা মিথিল

প্রকাশিত: ০১:৫৫, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

আমরা সবাইই জানি বাংলাদেশ একটি কৃষিভিত্তিক দেশ৷ এদেশের মানুষের বৃহৎ একটি অংশ কৃষিখাতের সঙ্গে জড়িত। ২০১৮ সালের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমীক্ষা মতে, কৃষিখাতে আমাদের শ্রমশক্তির অবদান ৪০.৬ শতাংশ এবং জিডিপিতে অবদান ১৪.১ শতাংশ। কিন্তু তবুও আমরা এই খাতটিকে যথাযথ কাজে লাগাতে পারছিনা বলেই মনে হয়। একটু তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরলেই বিষয়টি আরো পরিষ্কার হবে। আমাদের পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশের দিকে যদি তাকাই নেপাল পর্যটনভিত্তিক দেশ, ভূটান কৃষিভিত্তিক দেশ। তারা কিন্তু তাদের দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে ফেলছে তাদের এই খাতগুলোকে ব্যবহার করেই।

আমরা আমাদের দেশে আরএমজি (RMG) খাতকে যতোটা গুরুত্ব দেই ততোটা গুরুত্ব যদি কৃষিখাতকেও দিতাম তাহলে  অন্তত বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে ধনীদেশে পরিণত হতে পারতো। বাংলাদেশের প্রধান কৃষজ পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ধান, পাট, আম, গম প্রভৃতি।আমাদের উৎপাদনের দিকে যদি আমরা একটু নজর দেই এবং কিছু কৌশল প্রয়োগ করি তাহলে কিন্তু কৃষক ন্যায্যমূল্য পেতে পারে। 

এখন আসি কৌশলগুলোতে। আমরা  কেবল দেশজ চাহিদার কথা মাথায় না রেখে বৈশ্বিক চাহিদার কথাও যদি সমানভাবে মাথায় রাখি এবং সেই অনুযায়ী পণ্য উৎপাদনে নজর দেই তাহলে কিন্তু রপ্তানিখাতে আমাদের সম্ভাবনা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিষয়টা আরেকটু পরিষ্কার করতে যদি একটি উদাহরণ টানি, ভূটান কিন্তু তাদের উৎপাদিত কমলা এবং কমলাজাত পণ্য ভারতে রপ্তানি করেই গোটা ভূটানের অর্থনীতিকে ঘুরিয়ে ফেলছে।কারণ ভারতের বাজারটা জনসংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে অনেক বড়৷ কিন্তু ভারত যদি একই কাজটা ভূটানের সাথে করতো তবে কিন্তু খুব বেশি লাভবান হতোনা। কেননা, ভূটানের জনসংখ্যা ভারতের তুলনায় অনেক কম হওয়ায় বাজারটাও ছোট।আমাদের এই বাজারটা বুঝতে হবে এবং বাজারটা ধরতেও হবে৷ আর সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে পাশে থাকতে হবে।পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। অনেক পণ্য নষ্ট হচ্ছে পরিবহন ব্যবস্থার কারণে। 

রূপালী-সোনালীর মতো তথ্যবহুল কিছু এ্যাপ তৈরি হচ্ছে। প্রযুক্তিগত দিক থেকেও কৃষিখাতে কিছু বিনিয়োগ প্রয়োজন। কৃষক এবং এই খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য ফ্রি ট্রেইনিং এর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।গবেষণাখাতেও গুরুত্ব দিয়ে নতুন উন্নতজাতের কৃষজ পণ্যের উৎপাদন বাড়ানো উচিত চাহিদার দিকে খেয়াল রেখে।কৃষিখাতের ক্ষতির আরেকটি কারণ হচ্ছে প্রাকৃতিক দূর্যোগ, মানবসৃষ্ট কিছু দূর্যোগ৷ এক্ষেত্রে এমন কোনো এ্যাপের ব্যবহার করা যাতে কৃষিখাতের মানুষ সহজেই বুঝতে পারে কখন কি ধরনের সমস্যা হতে যাচ্ছে, আর সেজন্য আগে থেকে কী কী করা উচিত। মাটির অবস্থা কেমন, ফসল কতোটা পরিপুষ্ট, কখন কী সার প্রয়োজন, কতটুকু প্রয়োজন কতটুকু জমির জন্য, কোন ফসল আবাদের জন্য ভালো সময় কোনটি এগুলোর জন্য এ্যাপ তৈরি করা গেলে কৃষিখাতে বেশকিছু যুগান্তকারী পরিবর্তন কিন্তু আনা সম্ভব। আর এই উদ্যেক্তাদের জন্য একটি পরামর্শ থাকবে, আপনারা শখের বসে নয় বরং গুরুত্ব দিয়ে যদি আপনারা এই খাত নিয়ে নাড়াচাড়া করেন তবে সুদিন আর বেশি দূরে নয়। 

লেখিকা: তরুণ উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থী, ইনোভেশন এন্ড এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ বিভাগ, ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি।

Advertisement
Advertisement