শুক্রবার   ০৭ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২২ ১৪২৭ ||  ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

ACI Agri Business

কাল থেকে কমছে ফিডের দাম

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩:০৩, ১৪ জুন ২০২০

কাল থেকে কমছে ফিডের দাম। বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে আজ এ ঘোষণা দিয়েছেন ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের সভাপতি এহতেশাম বি শাহজাহান। নাহার এগ্রো আয়োজিত “পোল্ট্রি শিল্পের বর্তমান ও ভবিষ্যত” শিরোনামে ফেসবুক লাইভে এ ঘোষণা দেন তিনি। 

অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল-বিপিআইসিসি সভাপতি মসিউর রহমান এবং ব্রিডার্স এসোসিয়েশন এর সভাপতি রকিবুর রহমান টুটুল এই ঘোষণায় সমর্থন জানিয়ে তারাও নিজেদের উৎপাদিত ফিডের দাম কমানোর ঘোষণা দেন। তবে ঠিক কতটাকা কমবে ফিডের দাম তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কিছু জানাননি তারা। 

প্রায় দুই ঘণ্টার এই আলোচনায় করোনা মহামারিতে পোল্ট্রির সংকট ও ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনায় উঠে আসে বিভিন্ন প্রশ্ন। 

আলোচনায় যুক্ত হওয়া বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, কোভিড-১৯ এর সুদূর প্রসারী প্রভাব পড়বে পোল্ট্রি শিল্পে। এই মহামারিতে যেখানে খামারীরা ফার্ম চালাতে পারছে না, সেখানে বায়োসিকিউরিটির বিষয়টি উপক্ষিত হতে পারে বলেও আশংকা প্রকাশ করেন এই অধ্যাপক। লোকসানে থাকা খামারীরা ভ্যাকসিন নাও দিতে পারে আশংকা করে ড. রফিক বলেন, এর ফলে পোল্ট্রির স্বাস্থ্য আগামীতে হুমকিতে পড়তে পারে। 

নিরাপদ ও টেকসই পোল্ট্রির জন্য একটি পোল্ট্রি বোর্ড করা এখন সময়ের দাবি উল্লেখ করে বিপিআইসিসি সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, এই শিল্পে নেতৃত্ব সংকটের কারণে কাংখিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে না। ”আমরা দীর্ঘদিন যাবত পোল্ট্রি বোর্ডের দাবি জানিয়ে আসছি, কিন্তু সরকার সেটি আমলে নিচ্ছে না” বলেন মসিউর রহমান।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-এসডিজি অর্জনে ডিমের উৎপাদন দ্বিগুণ করতে হবে, মাংসের উৎপাদনও দ্বিগুণ হবে। অর্থাৎ তখন এই শিল্পের আকার দাঁড়াবে ১শ হাজার কোটি টাকায়। এত বড় একটি শিল্পে সঠিক নেতৃত্ব না থাকলে এর ব্যবস্থাপনা কীভাবে সম্ভব, প্রশ্ন রাখেন বিপিআইসিসি সভাপতি।  

ফিড এসোসিয়েশনের সভাপতি এহতেশাম বি. শাহজাহান বলেন, বাংলাদেশে তুলা উন্নয়ন বোর্ড আছে, তারা কতটুকু অবদান রাখছেন সেটি বড় বিষয় না। কিন্তু পোল্ট্রি এখন অনেক বড় শিল্পে পরিণত হয়েছে, তাহলে এর জন্য আলাদা বোর্ড করতে সমস্যা কোথায়? গার্মেন্টসের পরেই দেশের পোল্ট্রি শিল্প দাবি করে তিনি বলেন, “বিজিএমইএ এর মতো সুসংগঠিত না, কিন্তু আমাদের ভলিউম অনেক বড়। অনেক প্রস্তাব আমরা দিয়েছি, সেগুলো যদি গ্রহণ করা হতো তাহলে এ সেক্টর অনেক এগুতে পারতো।”

অনেক শিক্ষিত উদ্যোক্তা এখানে এসেছেন, এখানে ফিড কারখানাগুলো উন্নতমানের, ক্ষেত্র বিশেষে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও ভালো বলেও দাবি করেন ফিড এসোসিয়েশনের সভাপতি। 

আলোচনার আয়োজক প্রতিষ্ঠান নাহার এগ্রোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ব্রিডার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি রকিবুর রহমান টুটুল বলেন, পোল্ট্রি একটি  গ্রাম ভিত্তিক শিল্প। যেখানে গ্রামের মানুষ কাজ করছেন। এ শিল্পের উন্নয়ন মানে গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন। করোনা মহামারিতে পোল্ট্রি শিল্প বড় রকমের পুঁজির সংকটে পড়েছে উল্লেখ করে ব্রিডার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি বলেন, ২ কোটি ৪০ লাখ থেকে বাচ্চা উৎপাদন এখন ১ কোটি ২০ লাখে নেমে এসেছে। অর্থাৎ পুঁজির সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে অনেক ব্রিডার ফার্মের উৎপাদন। 

সরকার যে প্রণোদনা দিয়েছেন সেটি এখনো উদ্যোক্তা বা খামারীরা পাননি জানিয়ে রকিবুর রহমান বলেন, ২ থেকে ৩ শতাংশ সুদে ঋণ যদি প্রান্তিক থেকে শুরু করে বড় উদ্যোক্তারা ঋণ পান তাহলে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। ব্রিডার্স এসোসিয়েশন সভাপতিও বলেন, এই নিরাপদ পোল্ট্রি এবং এই শিল্পের বিকাশে দ্রুত গঠন করা উচিত পোল্ট্রি বোর্ড। 

Advertisement
Advertisement