বুধবার   ১২ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৮ ১৪২৭ ||  ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

ACI Agri Business

কাঁঠাল খেলে ওজন বাড়ে না!

পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান

প্রকাশিত: ০০:১০, ২ জুলাই ২০২০

কাঁঠাল আমাদের জাতীয় ফল এবং পুষ্টিগুণের রাজাও বটে। পাকা কাঁঠালের সুঘ্রাণ আর স্বাদের কথা তো সবারই জানা। তবে কচি বা কাঁচা কাঁঠালও কিন্তু স্বাদে আর পুষ্টিগুণে কম না। এটি তরকারি হিসেবেও খাওয়া যায়। কাঁচা কাঁঠাল রোগব্যাধি উপশমে যেমন কার্যকর, অন্যদিকে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়িয়ে দেয় অনেক গুণ।

পুষ্টিমান:

প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠালে খাদ্য-আঁশ থাকে দুই গ্রাম, শর্করা ২৪ গ্রাম, চর্বি দশমিক ৩ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩৪ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ৩৭ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৩০৩ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ ২৯৭ আইইউ ও ভিটামিন-সি ৬ দশমিক ৭ মিলিগ্রাম। কাঁচা কাঁঠাল রোগব্যাধি উপশমে যেমন কার্যকর, অন্যদিকে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়িয়ে দেয় অনেক গুণ।


কাঁঠালের কিছু পুষ্টিগুণের কথা:

✅কাঁঠালে যেসব ভিটামিন থাকে, তাতে একে বহুগুণসম্পন্ন বলা চলে। কাঁঠালে থাকা ভিটামিন এ-র কল্যাণে মাথার চুল ভালো থাকে, দৃষ্টিশক্তি বাড়ে ও চোখের সমস্যা কমে। এতে থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, অ্যাজমা, কাশি, সর্দি ও ক্যানসারের মতো রোগ দূর করে। এর ভিটামিন বি৬ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমায়।

✅কাঁঠালের বিচি ফেলনা নয়। এটি চাইলে খেতে পারবেন হালকা নাশতায়, সালাদ, তরকারি, হালুয়া বা ভর্তা হিসেবে। এতে যে প্রোটিন আছে, তা মাংসপেশি গঠনে ভূমিকা রাখে। 

✅ কাঁঠালকে বলা চলে শূন্য কোলস্টেরলের ফল, যা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ। যেকোনো বয়সের মানুষ এটা খেতে পারেন। এটি শক্তির ভালো উৎস। এতে আছে ভালো শর্করা। 

✅পেটের নানা রকম পীড়া থেকে মুক্তি দিতে পারে কাঁঠাল। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এবং অন্ত্রের নড়াচড়া বাড়াতে সাহায্য করে এটি। এতে যে আঁশ থাকে, তা কোলন ক্যানসার প্রতিরোধ করে। পেটের অম্লতা ও আলসার ঠেকাতেও কাঁঠাল খেতে পারেন।

✅কাঁঠালে চর্বির পরিমাণ খুব কম থাকায় বেশি খেলেও ওজন বাড়ার শঙ্কা নেই।

✅এটি মুখে বলিরেখা পড়তে বাধা দেয়। এটি ত্বকের জন্য ভালো। এর মধ্যকার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগ সৃষ্টিকারী মুক্ত উপাদানের (ফ্রি র‌্যাডিকেলস) বিরুদ্ধে লড়াই করে। প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম থাকায় হাড়ের ক্ষয় ঠেকাতে পারে কাঁঠাল।

অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণের ফলে যা যা হতে পারে-

কাঁঠালের বিচিতেও আছে শর্করা। এটি খাওয়া যায় তরকারি, হালুয়া বা ভর্তা হিসেবে। তবে এতে থাকে আঁশ, তাই বেশি খেলে হজমে গোলযোগ হতে পারে। যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাঁদের কাঁঠাল খাওয়ায় খানিকটা বিধিনিষেধ আছে। কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি, তাদের কাঁঠাল না খাওয়াই ভালো।

Advertisement
Advertisement