সোমবার   ০১ জুন ২০২০ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৭ ১৪২৭ ||  ০৯ শাওয়াল ১৪৪১

করোনা প্রতিরোধে জিংক, জেনে রাখুন উৎস ও পরিমাণ!

প্রকাশিত: ০১:৩০, ১৮ মে ২০২০

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে করোনাভাইরাস থেকে সৃষ্ট ‘কোভিড-১৯’ একটি বৈশ্বিক মহামারি । বিশ্বজুড়ে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এখন প্রায় অর্ধ কোটি , মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে তিন লাখ। আর প্রাণঘাতী এই ভাইরাস সহসাই নির্মূল হচ্ছে না বলে ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

তাই করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোই এখন বড় ভরসার জায়গা। বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো ভাইরাস হলো প্রোটিন যুক্ত অণুজীব, যার কারণে মানুষ জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট এমনকি মারাত্মক নিউমোনিয়ায় (নতুনভাবে) আক্রান্ত হতে পারে। তা ছাড়া এই ভাইরাস ভয়ংকর প্রাণঘাতী রোগ তৈরি করতে পারে খুব সহজে। তাই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। এই ক্ষেত্রে জিংক সমৃদ্ধ খাবার হতে পারে কোভিড-১৯ প্রতিরোধের অন্যতম উপায় । 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘জিংক আপনার ইমিউন সিস্টেমের কোষের বৃদ্ধিসাধন করে ও শরীরের শত্রু-মিত্র নিরূপণে সহায়তা করে।’ জিংক শরীরের জন্য খুব প্রয়োজনীয় একটি  খনিজ। এটি ৩শ' টিরও বেশি এনজাইমের সঠিক পরিচালনের জন্য প্রয়োজনীয়। এটি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখে এবং শরীরের টিস্যুগুলো বৃদ্ধি এবং মেরামত করে। পুরুষদের দৈনিক ১১ মিলিগ্রাম জিংকের চাহিদা রয়েছে এবং নারীর দেহে দৈনিক ৮ মিলিগ্রাম জিংক প্রয়োজন। 

একটি মেটা অ্যানালাইসিস থেকে জানা গেছে, জিংক সাপ্লিমেন্টের ব্যবহারে ঠান্ডা জনিত উপসর্গের স্থায়িত্ব কমেছে। এই বিষয়টি এটা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে জিংক সমৃদ্ধ খাবার খেলে করোনাভাইস সংক্রমণ জনিত উপসর্গের স্থায়িত্বও কমতে পারে।

রোগ-প্রতিরোধক তন্ত্রকে উজ্জীবিত করে তুলে জিংক এ ধরনের সমস্যা প্রতিরোধ, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে শরীরের কোষকলাকে ফ্রি-রেডিকেলের আক্রমণ থেকে রক্ষা এবং ক্ষতের সুস্থতা ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে।

দৈনন্দিন কিছু খাবারেই এই জিংকের চাহিদা পূরণ হয়। জিংকের কিছু উল্লেখযোগ্য উৎস হচ্ছে: শিমের বিচি ও অন্যান্য বিনস, ছোলা, মসুর ডাল। প্রতি ১০০ গ্রাম মসুর ডাল থেকে আমরা পেতে পারি প্রায় ৩ দশমিক ৮৯ মিলিগ্রাম জিংক, অন্যদিকে   জিংক ফর্টিফায়েড সিরিয়াল, গম, চিংড়ি, ঝিনুক, কাঁকড়া, বাদাম, বীজ জাতীয় খাবার, দই, গরুর মাংস ও মুরগির মাংস, দুধ, মটরশুঁটি, লাল মাংস, বাদাম, সামুদ্রিক মাছ ও জিংকের উৎস হিসাবে কাজ করে । প্রতি ১০০ গ্রাম গরুর  মাংসে ৩-৫ মিলিগ্রাম এবং চিংড়ি ও তেলাপিয়া মাছে রয়েছে ২ দশমিক ২৫ ও ১ দশমিক ৪০ মিলিগ্রাম জিংক। এছাড়া আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় থাকা ডিম, দুধ এ জিংকের পরিমান আছে যথাক্রমে ২.৩৬ এবং ৩-৫ মিলিগ্রাম ।  

মনে রাখবেন, শরীরে জিংকের ঘাটতি হলে নিউমোনিয়া ও অন্যান্য সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা যেমন হ্রাস পেতে পারে, তেমনি স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া ও হাড় দুর্বল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়িয়ে তুলে অনেক।