রোববার   ২৯ মার্চ ২০২০ ||  চৈত্র ১৫ ১৪২৬ ||  ০৪ শা'বান ১৪৪১

একটু কৌশলী হলেই চিনতে পারবেন কৃত্রিমভাবে মোটা করা গরু

ডা. রাকিব হাসান

প্রকাশিত: ১২:৫৯, ৮ আগস্ট ২০১৮

অনেকে হৃষ্টপুষ্ট বড় গরু কোরবানি দিতে পছন্দ করেন। কে কত দামী গরু কিনলো তা নিয়েও একধরণের প্রতিযোগিতা দেখা যায়। আর এই শ্রেণীর ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা গরুকে কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করে থাকেন। কিন্তু এই কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করা গরু ঢেকে আনছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। প্রচার প্রচারণায় অনেকটা সচেতনতা তৈরি হওয়ায় কিছুটা কমে এসেছে ওষুধ খাইয়ে গরু মোটাতাজা করার প্রবণতা, তবে একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি।

সাধারণত গরু মোটাতাজা করার জন্য ইনজেকশনের মাধ্যমে স্টেরয়েড, হাইড্রোকর্টিসন, ডেক্রামিথাসন, কোর্টিসল, বিটামিথাসন ও প্রেডনিসলনের মতো মারাত্মক হরমোন ব্যবহার করা হয়ে থাকে। একটি পশুকে এটির সহ্য ক্ষমতার ৫ থেকে ১০ গুণ বেশি মাত্রার ওষুধ দেয়া হয়। যে কারণে পশুর দেহে অতিরিক্ত পানি জমে শরীর দ্রুত ফুলে ওঠে। এসব পশুর মাংস খেলে মানুষের মারাত্মক অসুখ হতে পারে।

অতিরিক্ত মাত্রায় হরমোন প্রয়োগ করা পশু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাই না হলে এটি মারা যাবে। আর জবাই করা হয়ে গেলেই ঝুঁকিমুক্ত হয়ে গেলো এমনটাও ভাবার সুযোগ নেই। কারণ এ জাতীয় পশুর মাংস রান্না করা হলেও আপনিএর ক্ষতিকর প্রভাব নষ্ট হয় না। স্টেরয়েড ব্যবহৃত মাংস খেলে মানুষের কিডনি, লিভার, অন্ধত্ব, পুরুষত্বহীনতা ও ক্যান্সারসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর অঙ্গে রোগ সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়।’

তাই কোরবানির হাটে গিয়ে সুস্থ ও নিরাপদ গুরু কেনার জন্য আপনাকে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করেও গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে। কিন্তু হরমোন প্রয়োগে মোটাতাজাকরণের সাথে এর পার্থক্যটা আপনি সহজেই ধরতে পারবেন যদি আপনি সচেতন হোন।

গরুর কিছু লক্ষণ দেখলেই আপনি বুঝে যাবেন এটি ওষুধ খাইয়ে মোটাতাজা করা হয়েছে কী না। সাধারণত এ ধরনের গরু খুব চুপচাপ থাকবে। ঠিকমতো চলাফেরাও করতে পারবে না। আর পশুর ঊরুতে অনেক মাংস দেখা যাবে যেখানে হাত দিলেই আপনি থলথলে পানির অস্তিত্ব পাবেন। আঙুল দিয়ে চাপ দিলেই ওই স্থানটি দেবে যাবে। যা স্বাভাবিক উপায়ে মোটাতাজা করা গরুর ক্ষেত্রে হয় না।

আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখবেন, তা হলো পাঁজরের হাড়। স্টেরয়েড প্রয়োগ করা গরুর পাঁজরের হাড় দেখা যাবে না। আর কোরবানির হাটে গিয়ে এসব গরুর অবস্থান দেখেও আপনি কিছুটা আন্দাজ করতে পারবেন। কারণ এ ধরনের গরুকে সব সময় বাতাসে রাখা হয় এবং  এরা রোদ সহ্য করতে পারে না। কাছে গেলে শ্বাস-প্রশ্বাসের অস্বাভাবিকতা্ও টের পাবেন, যদি একটু সচেতনভাবে খেয়াল করেন।

আর এর বিপরীত চিত্রটিই দেখবেন প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজা করা গরুর ক্ষেত্রে। কারণ এই গরু চঞ্চল হয় এবং গায়ে হাত দিলে আপনার দিকে তেড়ে আসতে পারে। এর গায়ের রঙ উজ্জ্বল দেখা যাবে, তবে চকচকে হবে না।