মঙ্গলবার   ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ ||  অগ্রাহায়ণ ২৬ ১৪২৬ ||  ১২ রবিউস সানি ১৪৪১

এনবিআর-পোল্ট্রি উদ্যোক্তা বৈঠক

উৎপাদন খরচ কমাতে কর অব্যহতির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:২০, ২৪ এপ্রিল ২০১৯

পোল্ট্রি খাতকে করের বোঝা থেকে মুক্ত করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে দাবি জানিয়েছে পোল্ট্রি শিল্প মালিকদের সংগঠনগুলো। মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘বাজেট প্রস্তাব’ বিষয়ক আলোচনায় এ দাবি জানান তারা। বিশ্বের বড় বড় দেশগুলোতে পোল্ট্রি ও ফিস ফিড তৈরির অত্যাবশ্যকীয় কাঁচামাল নিজ দেশে উৎপাদিত হওয়ার পরও খামারিদের ভর্তুকী দেয়া হয় উল্লেখ করে শিল্প মালিকরা বলেন, বেশিরভাগ কাঁচামাল আমদানি-নির্ভর হওয়া সত্ত্বেও এখানে খাতটির ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের বোঝা ।

সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ ডিম ও মুরগির মাংস উৎপাদনের মাধ্যমে মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং পোল্ট্রি পণ্য রপ্তানীর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন- এই প্রধান তিন লক্ষ্য অর্জনে খাতটিতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত কর অব্যহতি’র দাবি জানায় পোল্ট্রি সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো। 

২০২৫ সালের মধ্যেই পোল্ট্রি পণ্য রপ্তানি এবং ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্ব বাজারে একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চায় বাংলাদেশ এমনটা উল্লেখ করে পোল্ট্রি শিল্প মালিকরা বলেন, এ জন্য ২০৩০ সাল পর্যন্ত সব ধরনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর থেকে অব্যহতি প্রয়োজন।  

 পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা বলেন- সরকার চাচ্ছেন ২০২১ সালের মধ্যে মাথাপিছু ডিমের বার্ষিক কনজাম্পশন ৯০ থেকে বাড়িয়ে নূন্যতম ১০৪টিতে এবং মাংসের কনজাম্পশন ৬.৫ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৭.৫ কেজিতে উন্নীত করতে। সেটি করতে হলে ঠিক এই মুহুর্তে চাহিদা ও যোগানের যে চিত্র তাতে বছরে অন্তত: ২৩৪ কোটি ৮২ লাখ ডিম এবং ১ লক্ষ ৮৫ হাজার টন মুরগির মাংসের উৎপাদন বাড়াতে হবে। আর যদি রপ্তানীতে যেতে হয় তবে বছরে অন্তত: ১২০০ কোটি ডিম ও ৮ লাখ টন মুরগির মাংসের উৎপাদন বাড়াতে হবে। স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ীমূল্যে ডিম ও মুরগির মাংসের উৎপাদন কিংবা রপ্তানী শুরু করার অন্যতম প্রধান শর্তটি হচ্ছে উৎপাদন খরচ কমাতে হবে। 

আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের উর্ধ্বগতির কারনে কেজি প্রতি উপকরনের দাম ক্ষেত্র বিশেষে ২৭ শতাংশ থেকে শুরু করে ৩১৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। পণ্য হ্যান্ডেলিং-এ বন্দরের অদক্ষতা ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার প্রতি টন ভূট্টা আমদানি করতে ২০-২৫ ডলার অর্থাৎ ৫২ হাজার টনের একটি কনসাইমেন্টের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৩ লক্ষ ডলার বা প্রায় ১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে বলে রাজস্ব বোর্ডকে জানান শিল্প মালিকরা। 

মিট এন্ড বোন মিলের আমদানি বন্ধ হওয়ায় ভেজিটেবল সোর্স থেকে উৎপাদিত প্রোটিন মিল ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে খরচ বাড়ছে। তাই সব ধরনের ভেজিটেবল প্রোটিন ও ভেজিটেবল সোর্স থেকে উৎপাদিত প্রোটিন মিল/প্রোটিন কনসেনট্রেট, সি-ফুড মিল, ক্র্যাব মিল, পোল্ট্রি মিলের আমদানি শুল্ক শূন্য করার দাবি জানান তাঁরা। 

ভূট্টা আমদানির ওপর থেকে ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর; সয়াবিন অয়েল কেক আমদানির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি; কাসাবা আমদানিতে ১৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি, ১০ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি, ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ৫ শতাংশ এআইটি ও ৫ শতাংশ এটিভি; কটনসিড মিল ও  পাম কারনেল মিল ওপর ৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি ও ৫ শতাংশ অগ্রিম ভ্যাট (এটিভি);Fish Oil, Vegetable Fats, Vitamin & Mineral Premix, Lime Stone, Choline chloride, Cibenza DP-100, Chicks Boost, Lime Stone, DCP, MCP, L-Lysine, L-Threonine /L-Valine, DL-Methionine 99%/MHA 84%, Enzymes, Capital Machinery, Spare Parts, Generator আমদানিতে ৫ শতাংশ হারে অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার এবং ঔষধ, প্রিমিক্স, মিনারেল, প্রোবায়োটিক প্রভৃতি উপকরণগুলো শূণ্য শুল্কে আমদানির সুবিধা দাবি করা হয়। 

কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ফিড মিলগুলোর মতই আমদানিকারকদেরও শুল্কমুক্ত সুবিধার দাবি জানান তাঁরা। বৈঠকে জানানো হয়- মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশ, চীন ও আফ্রিকার বেশ কিছু দেশ থেকে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের পোল্ট্রি কোম্পানীগুলোর কাছে চাহিদাপত্র আসা শুরু হয়েছে কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক দরে টিকতে না পারায় পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে। 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন ফিড ইন্ডাষ্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এহতেশাম বি. শাহজাহান, সিনিয়র সহ-সভাপতি ফজলে রহিম খান শাহরিয়ার, সাংগঠনিক সচিব মোঃ আনোয়ারুল হক, ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক আসিফুর রহমান, আহকাব সভাপতি ডা. নজরুল ইসলাম, বিপিআইএ’র মহাসচিব ডা. এমএম খান, বিপিআইসিসি’র সচিব দেবাশিস নাগ, উপদেষ্টা শ্যামল কান্তি ঘোষ প্রমুখ।